সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে এমন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সমাজ জীবনে বিদ্যমান আছে যার প্রধান দিকই হলো বিশ্বাস। তাছাড়া মানুষের আচার-আচরণ, ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমেও এর অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। প্রতিষ্ঠানটি দ্বন্দ্ব-সংঘাত, জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, অপরাধ প্রভৃতি সমস্যা মোকাবেলায় ভূমিকা রাখছে।
- ক)(1)
বিবাহ কি?
- খ)(2)
সামাজিক প্রতিষ্ঠানের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সামাজিক প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিবাহ হলো নারী ও পুরুষের মধ্যে একটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত এবং আইনগত বা ধর্মীয় সম্পর্ক, যা তাদের যৌথ জীবনযাপন এবং সন্তান জন্মদানের বৈধতা প্রদান করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক প্রতিষ্ঠানের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজের সদস্যদের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট নিয়মনীতি ও বিধিব্যবস্থা নির্ধারণের মাধ্যমে সমাজস্থ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে সামগ্রিক সামাজিক স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ধর্ম' নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ধর্ম হলো অতিপ্রাকৃতিক শক্তিতে বিশ্বাস এবং সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আচার-অনুষ্ঠান, মূল্যবোধ ও নৈতিক অনুশাসন। এটি মানুষের দৈনন্দিন আচার-আচরণকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে এমন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কথা যার প্রধান দিকই হলো বিশ্বাস এবং যা মানুষের আচরণ ও ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হলো স্রষ্টা বা পরম শক্তিতে বিশ্বাস, যা মানুষের নীতিবোধ জাগ্রত করে এবং নানা সামাজিক সমস্যা (দ্বন্দ্ব-সংঘাত, জঙ্গিবাদ, অপরাধ) প্রতিরোধে পথনির্দেশ দেয়। সুতরাং, উদ্দীপকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে ধর্ম নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টি: ধর্ম মানুষকে সত্য, ন্যায় ও সততার পথে চলতে শেখায়। ফলে সমাজ থেকে অন্যায়, মিথ্যাচার এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড হ্রাস পায়।
২. অপরাধ নিয়ন্ত্রণ: প্রতিটি ধর্মেই চুরি, ডাকাতি, হত্যা, ব্যভিচার ও মাদকের মতো সামাজিক অপরাধকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। পরকালীন জবাবদিহিতা ও ধর্মীয় ভীতি মানুষকে অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত রাখে।
৩. সংঘাত ও জঙ্গিবাদ নিরসন: ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ, পরমতসহিষ্ণুতা এবং শান্তির বার্তা ছড়ায়, যা উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৪. কুপ্রথা রোধ: ধর্মীয় অনুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধ বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
৫. সামাজিক সংহতি: ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব সমাজের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য, সহমর্মিতা ও সংহতি বৃদ্ধি করে।অতএব, মানুষের ইতিবাচক মানসিকতা গঠন এবং নানাবিধ সামাজিক সমস্যা কার্যকরভাবে প্রতিরোধে ধর্মের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও