অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

'X' একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশটি জনবহুল হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান। এ পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ শিল্পে প্রণোদনা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। যা নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ দেশীয় শিল্পের বিকাশে সাহায্য করবে।

  1. ক)

    হাইটেক শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    বৃহৎ শিল্প কীভাবে বেকার সমস্যা সমাধান করতে পারে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'X' দেশটিতে কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দেশীয় শিল্পের বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব শিল্পে জ্ঞানভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তি, উচ্চমানের গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা উৎপাদন করা হয়, তাকে হাইটেক শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৃহৎ শিল্প হলো বিপুল মূলধন ও বিশাল জনবলভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান। বৃহৎ শিল্পে সরাসরি হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এছাড়া এটি বিভিন্ন পশ্চাৎপদ (backward linkage) ও অগ্রবর্তী (forward linkage) সংযোগভিত্তিক সহযোগী শিল্প এবং পরিবহন, বিপণন ও সেবা খাতে পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বেকার সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'X' দেশটির যে বিশেষ শিল্পের কথা বলা হয়েছে তা হলো তৈরি পোশাক শিল্প (Ready-Made Garments Industry)।

    তৈরি পোশাক শিল্প হলো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও জনবহুল দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী ও শ্রমঘন শিল্প। এ শিল্পে বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঘটে এবং এটি জাতীয় রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ অর্জন করে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, 'X' একটি জনবহুল উন্নয়নশীল দেশ যেখানে বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান। সরকার এমন একটি বিশেষ শিল্পে প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ সামগ্রিক দেশীয় শিল্পের বিকাশে সহায়ক। তৈরি পোশাক শিল্পের বৈশিষ্ট্যই হলো নারী শ্রমিকের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। অতএব, উদ্দীপকে তৈরি পোশাক শিল্পের কথাই বলা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশীয় শিল্পের সার্বিক বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত তৈরি পোশাক শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বহুমুখী।

    তৈরি পোশাক শিল্পের দ্রুত প্রসারের ফলে দেশে অন্যান্য বহু সহযোগী ও সংযোগকারী শিল্পের সৃষ্টি হয়েছে। পোশাক কারখানার প্রয়োজনীয় সুতা, বোতাম, জিপার, সুঁই, হ্যাঙ্গার, কার্টন ও প্যাকেজিং সামগ্রী সরবরাহের লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক দেশীয় পশ্চাৎপদ সংযোগ শিল্প (backward linkage industries) যেমন—স্পিনিং মিল, উইভিং মিল, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানা গড়ে উঠেছে।

    তাছাড়া, এ শিল্পের অগ্রগতির ফলে ব্যাংকিং, বিমা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পরিবহন ও শিপিং খাতের মতো সেবাভিত্তিক দেশীয় শিল্পেরও ব্যাপক প্রসার ঘটছে। একই সাথে পোশাক খাতের কর্মীদের আয়ের কারণে ভোক্তা পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। ফলে সামগ্রিক শিল্পায়ন প্রক্রিয়া বেগবান হয়।

    সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত তৈরি পোশাক শিল্প শুধু এককভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও নারী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সংযোগ শিল্পের বিকাশ ও অর্থনৈতিক কাঠামোগত রূপান্তরের মাধ্যমে সামগ্রিক দেশীয় শিল্পের টেকসই বিকাশে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন