ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

জিকে প্রকল্পের পতিত জমিতে সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বন বিভাগের সহায়তা নিয়ে ইরফান মিয়া ও তার অন্য বন্ধুরা মিলে একটা সমবায় সমিতি গড়ে তুলে বৃক্ষরোপণ করে। সমিতির প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে ১০,০০০ শেয়ারে বিভক্ত। এতে সঞ্চয় জমা করে ঋণ নেয় এবং জমানো অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে। এদিকে ইরফান মিয়া একাই সমিতির ৩,০০০ শেয়ার ক্রয়ের প্রস্তাব দিলে অন্য সদস্যরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

  1. ক)

    সমবায় সমিতির উপবিধি কী?

    (1)
  2. খ)

    সমবায়ের মূলমন্ত্র কোনটি এবং কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইরফান মিয়ারা উদ্দেশ্যের বিচারে কোন ধরনের সমবায় সমিতি গড়ে তুলেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    শেয়ার ক্রয়ে ইরফান মিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের যৌক্তিকতা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমবায় সমিতির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও দৈনন্দিন কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রণীত নিয়মনীতি বা দলিলকে সমবায় সমিতির উপবিধি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমবায়ের মূলমন্ত্র হলো 'একতাই বল' (বা 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে')।

    সমবায় সমিতি মূলত সমাজের স্বল্প আয়ের বা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এককভাবে কোনো কাজ করা কঠিন হলেও একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে অর্থনৈতিক মুক্তি ও কল্যাণ অর্জন সহজ হয়। সদস্যদের পারস্পরিক ঐক্য, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সমবেত প্রচেষ্টাই সমবায়ের শক্তি— তাই একতা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই সমবায়ের মূলমন্ত্র।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইরফান মিয়ারা উদ্দেশ্যের বিচারে একটি 'উন্নয়নমূলক সমবায় সমিতি' (বা 'উৎপাদন ও সঞ্চয়ী সমবায় সমিতি') গড়ে তুলেছেন।

    উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে যে সমবায় সমিতি পতিত জমি উদ্ধার, বনায়ন, পরিবেশ রক্ষা বা সদস্যদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করে পরিচালিত হয়, তাকে উন্নয়নমূলক বা বহুমুখী সমবায় সমিতি বলা যায়। আবার যেসব সমবায় সমিতি মূলধন সঞ্চয় করে ঋণদান ও উৎপাদনমূলক কাজে বিনিয়োগ করে, তাকে সঞ্চয় ও ঋণদান বা উৎপাদনমুখী সমবায়ও বলা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ইরফান মিয়া ও তার বন্ধুরা পতিত জমিতে সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বন বিভাগের সহায়তায় একটি সমবায় সমিতি গঠন করে বৃক্ষরোপণ করেন। একই সাথে তারা শেয়ার বিক্রি ও সঞ্চয় জমা করে ঋণ গ্রহণ এবং অর্থ বিভিন্ন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করেন। পরিবেশ উন্নয়ন ও বনায়নের পাশাপাশি সদস্যদের আর্থিক সচ্ছলতা ও কর্মসংস্থানের যৌথ উদ্দেশ্যে এটি গড়ে ওঠায় এটি উদ্দেশ্যের বিচারে একটি উন্নয়নমূলক বা বহুমুখী সমবায় সমিতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শেয়ার ক্রয়ে ইরফান মিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্তটি সমবায় আইনের আলোকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও বিধিসম্মত।

    বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (এবং সংশোধিত ২০১৩) এর বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সমবায় সমিতির মোট শেয়ার মূলধনের সর্বোচ্চ এক-পঞ্চমাংশ (১/৫ অংশ) বা ২০%-এর বেশি শেয়ার একাকী ক্রয় বা ধারণ করতে পারেন না। এ আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব বা একচেটিয়া আধিপত্য খর্ব করে সমিতিতে গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সমিতিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১০,০০০টি। আইন অনুযায়ী ইরফান মিয়া সর্বোচ্চ ২০% অর্থাৎ (১০,০০০ × ২০%) = ২,০০০টি শেয়ার ক্রয় করতে পারতেন। কিন্তু তিনি একাই ৩,০০০টি শেয়ার ক্রয়ের প্রস্তাব দেন, যা মোট শেয়ারের ৩০% (৩,০০০ / ১০,০০০ × ১০০%)। এটি আইন নির্ধারিত সীমার (২০%) চেয়ে স্পষ্টতই বেশি।

    অতএব, সমবায় আইনের বিধি লঙ্ঘন এবং সমবায়টির ওপর একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি থাকায় অন্য সদস্যদের দ্বারা ইরফান মিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা সম্পূর্ণ আইনসঙ্গত ও যৌক্তিক হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন