রসায়ন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
এসিড বৃষ্টি কী?
- খ)(2)
জৈব যৌগে -COOH মূলকের উপস্থিতি শনাক্তকরণের পরীক্ষা সমীকরণ লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের C যৌগের নাইট্রেশনে প্রতিস্থাপক অর্থো-প্যারা অবস্থানে যুক্ত হয় না কেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের A, B ও C যৌগের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনাকর্ষী প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ার সক্রিয়তার ক্রম বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৃষ্টির পানির pH মান ৫.৬ এর চেয়ে কম হলে তাকে এসিড বৃষ্টি (Acid rain) বলে। বায়ুমণ্ডলের সালফার ডাই-অক্সাইড () ও নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ () বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিড তৈরি করার ফলে এই বৃষ্টি ঘটে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সোডিয়াম বাইকার্বনেট () পরীক্ষার মাধ্যমে জৈব যৌগে কার্বক্সিলিক এসিড মূলক (-COOH) শনাক্ত করা যায়।
জৈব যৌগের নমুনার মধ্যে ৫% সোডিয়াম বাইকার্বনেট () দ্রবণ যোগ করলে দ্রুত বুদবুদসহ বর্ণহীন, গন্ধহীন কার্বন ডাই-অক্সাইড () গ্যাস নির্গত হয়। উৎপন্ন গ্যাসকে চুনার পানির মধ্য দিয়ে চালনা করলে চুনার পানি ঘোলা হয়ে যায়, যা -COOH মূলকের উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
বিক্রিয়া:
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বেনজিনকে (A) নাইট্রেশন করলে নাইট্রোবেনজিন (B) পাওয়া যায় এবং নাইট্রোবেনজিনকে দ্বারা বিজারিত করলে অ্যানিলিন (C) পাওয়া যায়। অতএব, C যৌগটি হলো অ্যানিলিন ()।
সাধারণ অবস্থায় অ্যানিলিনের অ্যামিনো মূলক () একটি অর্থো-প্যারা নির্দেশক ও বলয় সক্রিয়কারী মূলক। নাইট্রোজেন পরমাণুতে বিদ্যমান নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন যুগল রেজোন্যান্সের মাধ্যমে বেনজিন বলয়ে অর্থো ও প্যারা অবস্থানে ইলেকট্রন ঘনত্ব বৃদ্ধি করে।
কিন্তু নাইট্রেশন করার জন্য গাঢ় ও গাঢ় এর মিশ্রণ (তীব্র অম্লীয় পরিবেশ) ব্যবহার করা হয়। তীব্র অম্লীয় মাধ্যমে ক্ষারকীয় অ্যামিনো মূলক () এসিড হতে সহজে প্রোটন () গ্রহণ করে অ্যানিলিনিয়াম আয়নে () রূপান্তরিত হয়:
অ্যানিলিনিয়াম আয়নের নাইট্রোজেনের উপর ধনাত্মক আধান থাকায় এটি শক্তিশালী ইলেকট্রন প্রত্যাহারী (-I প্রভাব) এবং মেটা নির্দেশক মূলক হিসেবে কাজ করে। ফলে বেনজিন বলয়ের অর্থো ও প্যারা অবস্থানের তুলনায় মেটা অবস্থানে ইলেকট্রন ঘনত্ব অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে। এই কারণে উদ্দীপকের C যৌগের সরাসরি নাইট্রেশনে প্রতিস্থাপক অর্থো-প্যারা অবস্থানে যুক্ত না হয়ে প্রধানত মেটা অবস্থানে যুক্ত হয় (প্রায় ৪৭% মেটা-নাইট্রোঅ্যানিলিন ও ৫১% প্যারা-নাইট্রোঅ্যানিলিন গঠিত হয়)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের যৌগ তিনটি হলো:
A = বেনজিন ()
B = নাইট্রোবেনজিন ()
C = অ্যানিলিন ()ইলেকট্রনাকর্ষী অ্যারোমেটিক প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ায় বেনজিন বলয়ে ইলেকট্রনের ঘনত্ব যত বেশি থাকে, ইলেকট্রনাকর্ষী বিকারক () তত দ্রুত আক্রমণ করতে পারে এবং বিক্রিয়ার সক্রিয়তা তত বৃদ্ধি পায়।
১. অ্যানিলিন (C): অ্যানিলিনের নাইট্রোজেন পরমাণুতে একটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন যুগল থাকে। এই মুক্তজোড় ইলেকট্রন রেজোন্যান্সের মাধ্যমে বেনজিন বলয়ে স্থানান্তরিত হয়ে বলয়ের ইলেকট্রন মেঘের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয় (+M বা +R প্রভাব)। ফলে বেনজিন বলয় অত্যন্ত সক্রিয় হয়।
২. বেনজিন (A): বেনজিনে কোনো প্রতিস্থাপক মূলক না থাকায় এর ইলেকট্রন ঘনত্ব স্বাভাবিক থাকে।
৩. নাইট্রোবেনজিন (B): নাইট্রোবেনজিনের নাইট্রো মূলক () শক্তিশালী ইলেকট্রন প্রত্যাহারী বা আকর্ষী মূলক (-M ও -I প্রভাব)। নাইট্রো মূলকের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের উচ্চ তড়িৎ-ঋণাত্মকতার কারণে এটি বলয় থেকে পাই-ইলেকট্রন নিজের দিকে টেনে নেয়। ফলে বলয়ে ইলেকট্রন ঘনত্ব বেনজিনের চেয়ে অনেক হ্রাস পায় এবং বলয় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
অতএব, বেনজিন বলয়ে ইলেকট্রন ঘনত্বের ক্রম:
অ্যানিলিন (C) > বেনজিন (A) > নাইট্রোবেনজিন (B)সুতরাং, ইলেকট্রনাকর্ষী প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ায় যৌগ তিনটির সক্রিয়তার সঠিক ক্রম হলো:
C > A > B (অ্যানিলিন > বেনজিন > নাইট্রোবেনজিন)।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও