বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

11.1.

ইন্টারটে ব্যবহারের সুফল ও কুফল সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।

11.2.

অথবা,উপযুক্ত শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসরণে একটি খুদেগল্প লেখো: বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ করে আরজিনা বেগম। আরজিনার দুই ছেলে মোতলেব আর আলেপ। বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বড়ো ছেলে মোতালেবকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার আশা বুকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে। কিন্তু মাদকাসক্তির কারণে মোতালেব…….

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

১১.১. ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল ও কুফল সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:

স্থান: কলেজের লাইব্রেরির সামনে।
পাত্র: রাহাত ও অনিক।

রাহাত: শুভ অপরাহ্ন, অনিক! কেমন আছিস?
অনিক: শুভ অপরাহ্ন, রাহাত। ভালো আছি, তবে একটু চিন্তিত। অ্যাসাইনমেন্টের তথ্যের জন্য ইন্টারনেটে বসেছিলাম, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রোল করতে করতে অনেকটা সময় নষ্ট করে ফেললাম।
রাহাত: ঠিক বলেছিস। বর্তমান যুগে ইন্টারনেট আমাদের জীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা খুবই জরুরি।
অনিক: একদম সত্য। ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল তো অপরিসীম। ঘরে বসেই আজ সারা বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার আমাদের হাতের মুঠোয়। ক্লাস, রিসার্চ পেপার, চাকরির আবেদন কিংবা যোগাযোগ—সবকিছুই চোখের পলকে হয়ে যাচ্ছে।
রাহাত: হ্যাঁ, ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স এবং ডিজিটাল সেবা মানুষের জীবনকে অনেক গতিশীল করেছে। কিন্তু এর অন্ধকার দিকটাও কম বিপজ্জনক নয়।
অনিক: যেমন অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হওয়া, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং মানসিক অবসাদ। এছাড়া গেম ও অনৈতিক কনটেন্টে তরুণ প্রজন্মের মাদকাসক্তির মতোই একধরনের ডিজিটাল আসক্তি তৈরি হচ্ছে।
রাহাত: ঠিক ধরেছিস। সাইবার বুলিং ও তথ্য ফাঁসের মতো নিরাপত্তাহীনতাও দিনে দিনে বাড়ছে। তাই প্রয়োজন পরিমিতিবোধ ও ডিজিটাল সচেতনতা।
অনিক: খুব খাঁটি কথা বলেছিস। প্রযুক্তিকে দাস বানাতে হবে, প্রযুক্তির দাস হওয়া চলবে না।
রাহাত: চমৎকার সিদ্ধান্ত। চল, এখন লাইব্রেরিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজটা শেষ করি।
অনিক: চল।


অথবা,

১১.২. খুদেগল্প:

মায়ের স্বপ্ন ও এক অন্ধগলির গল্প

বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঠিকা ঝিয়ের কাজ করে আরজিনা বেগম। পরনের মলিন শাড়ির আঁচলে ঘাম মুছে সে দিনরাত খাটে কেবল একটি স্বপ্নের জন্য। আরজিনার দুই ছেলে—মোতালেব আর আলেপ। ছোট ছেলে আলেপ স্থানীয় এক গ্যারেজে টুকটাক কাজ শেখে। আরজিনার সমস্ত আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বড় ছেলে মোতালেব, যার মেধা ছিল প্রখর। বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় মহাজনদের থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সে ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছে। অবশেষে মায়ের ত্যাগের প্রতিদান দিয়ে মোতালেব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পুরো গ্রামের মানুষের মুখে মুখে তখন আরজিনা বেগমের প্রশংসা। আরজিনার বুকটা গর্বে ভরে যেত।

কিন্তু রাজধানীর চাকচিক্য আর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত জীবনের ভেতর মোতালেব নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। ভুল সঙ্গের প্ররোচনায় পড়ে সে জড়িয়ে পড়ে এক অন্ধকার জগতে। বন্ধুদের আড্ডায় কৌতূহলবশত শুরু করা মাদকের নেশা ধীরে ধীরে তাকে পুরোপুরি গ্রাস করে নেয়। পড়ালেখায় নেমে আসে স্থবিরতা; মেস থেকে প্রায়ই বাড়ি টাকা পাঠাতে চাপ দেয় নানা অজুহাতে। মা না খেয়ে টাকা জমিয়ে ছেলের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

এক সকালে আরজিনার কাছে ফোন আসে মোতালেবের এক সহপাঠীর কাছ থেকে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মোতালেব ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। আরজিনা পাগলের মতো ছুটে যায় শহরে। হাসপাতালের বিছানায় গিয়ে দেখে তার নয়নমণি, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক মোতালেব আজ জীর্ণ-শীর্ণ এক কঙ্কালসার দেহ। অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের ফলে তার লিভার ও কিডনি প্রায় বিকল। আরজিনা মাথায় হাত দিয়ে আহাজারি করে ওঠে। যে ছেলেকে নিয়ে সে অন্ধকারের বুক চিরে আলোর মুখ দেখতে চেয়েছিল, মাদকের মরণছোবল আজ সেই আশার প্রদীপকে এক নির্মম পরিণতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন