জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জীববিজ্ঞানের শিক্ষক ক্লাসে বললেন, তোমাদের পাঠ্যবইতে এমন একটি প্রাণী নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে, যা প্রাণীজগতের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ পর্বের অধীন।
- ক)(1)
ওমাটিডিয়াম কি?
- খ)(2)
হিমোসিল বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটির দর্শন এককের চিহ্নিত চিত্র অংকন করো।
- ঘ)(4)
আলোর তীব্রতা অনুসারে প্রাণীটির দর্শন কৌশল পরিবর্তিত হয়-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘাসফড়িং বা আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের পুঞ্জাক্ষির গঠন ও কাজের একককে ওমাটিডিয়াম (Ommatidium) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হিমোসিল হলো আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী রক্তপূর্ণ প্রকৃত সিলোমের পরিবর্তিত রূপ। এটি মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে না এবং এর ভেতরে হিমোলিম্ফ নামক বর্ণহীন রক্ত ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গ নিমজ্জিত থাকে। এটি খাদ্যসার ও রেচন বর্জ্য পরিবহনে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং, যার দর্শন একক হলো ওমাটিডিয়াম।
একটি ওমাটিডিয়ামের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্রে সাধারণত নিম্নলিখিত অংশগুলো ক্রমানুসারে চিহ্নিত করতে হয়:
১. কর্নিয়া (স্বচ্ছ ও উত্তল বহিরাবরণ),
২. কর্নিয়াজেন কোষ (একজোড়া কোষ যা কর্নিয়া ক্ষরণ করে),
৩. ক্রিস্টালাইন কোণ কোষ (চারটি কোষ যা ক্রিস্টালাইন কোণ তৈরি করে),
৪. ক্রিস্টালাইন কোণ (স্বচ্ছ ও আলোক প্রতিসরণকারী অঙ্গ),
৫. আইরিশ রঞ্জক আবরণী (উপরিভাগের রঞ্জকযুক্ত কোষ যা আলোর তীব্রতায় প্রসারিত বা সংকুচিত হয়),
৬. রেটিনুলার কোষ (৭-৮টি দীর্ঘ কোষ),
৭. র্যাবডম (রেটিনুলার কোষ ক্ষরিত আলোকসংবেদী রড-সদৃশ অংশ),
৮. রেটিনাল রঞ্জক আবরণী (নিম্নভাগের রঞ্জক স্তর),
৯. ভিত্তি পর্দা (ওমাটিডিয়ামকে ধরে রাখে), এবং
১০. অপটিক স্নায়ুতন্তু (প্রতিবিম্বের অনুভূতি মস্তিষ্কে প্রেরণ করে)।
(পরীক্ষায় এই অংশগুলোর একটি পরিষ্কার ও যথাযথ লেবেলিংযুক্ত চিত্র অঙ্কন করতে হবে)। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি (ঘাসফড়িং)-এর দৃষ্টি আলোকের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। তীব্র আলোতে এবং মৃদু আলোতে এর ওমাটিডিয়ামগুলো ভিন্ন কৌশলে কাজ করে যথাক্রমে অ্যাপোজিশন ও সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব গঠন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. তীব্র বা উজ্জ্বল আলোতে দর্শন কৌশল (অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব):
উজ্জ্বল আলোতে আইরিশ ও রেটিনাল রঞ্জক আবরণীগুলো প্রসারিত হয়ে ওমাটিডিয়ামগুলোকে পরস্পর থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করে ফেলে। ফলে কোনো বস্তুর একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে আগত খাড়া আলোকরশ্মি কেবল সংশ্লিষ্ট ওমাটিডিয়ামের কর্নিয়া ও ক্রিস্টালাইন কোণ ভেদ করে র্যাবডমে পৌঁছায়। তীর্যক রশ্মিগুলো রঞ্জক আবরণী দ্বারা শোষিত হয়। এর ফলে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামে বস্তুর আলাদা আলাদা খণ্ডাংশ সৃষ্টি হয় এবং পুঞ্জাক্ষির সব ওমাটিডিয়ামের প্রতিবিম্ব মিলে একটি অখণ্ড কিন্তু খণ্ড খণ্ড মোজাইক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।২. মৃদু বা স্তিমিত আলোতে দর্শন কৌশল (সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব):
অন্ধকারে বা মৃদু আলোতে আইরিশ ও রেটিনাল রঞ্জক আবরণীগুলো সংকুচিত হয়ে প্রান্তভাগে সরে যায়। ফলে ওমাটিডিয়ামগুলোর মধ্যে আলোকীয় পৃথকীকরণ থাকে না। একটি ওমাটিডিয়ামে কর্নিয়া দিয়ে প্রবেশকারী লম্ব ও তীর্যক উভয় ধরনের আলোকরশ্মি পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামের র্যাবডমেও পতিত হতে পারে। ফলে একাধিক ওমাটিডিয়ামের প্রতিবিম্ব পরস্পরের ওপর উপরিপাতিত (overlap) হয়ে একটি অস্পষ্ট অথচ অবিচ্ছিন্ন সমগ্র প্রতিবিম্ব তৈরি করে।সুতরাং, আলোর তীব্রতার তারতম্যের কারণে রঞ্জক আবরণীর সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমেই প্রাণীটির দর্শন কৌশল মোজাইক ও সুপারপজিশন প্রতিবিম্বে রূপান্তরিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও