অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রতন সাহেব একজন ব্যবসায়ী। নিজ ব্যবসার পাশাপাশি তিনি শেয়ারের ব্যবসাও করেন। একবার গ্রামীণ ফোনের শেয়ার কিনে বেশ লাভবান হওয়ায় এ শেয়ারের দিকেই তার আকর্ষণ বেশি। রতন সাহেব গ্রামীণ ফোনের প্রথম পর্যায়ের ক্রেতা যিনি সরাসরি গ্রামীণ ফোনের কাছ থেকে শেয়ার কিনেন। এজন্য তিনি মতিঝিলে স্টক এক্সচেঞ্জে যান। শেয়ারের মূল্যসূচক জেনে তিনি অনেক চিন্তা-ভাবনা করে তা ক্রয় করেন। ফলে রতন সাহেবের শেয়ার ক্রয়জনিত ঝুঁকি ন্যূনতম থাকে।
- ক)(1)
অর্থায়ন বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
প্রাইমারি শেয়ার কিভাবে সেকেন্ডারি শেয়ারে পরিণত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রতন সাহেব কোন ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রতন সাহেবের বিনিয়োগকৃত পুঁজি দেশের অর্থনীতিতে কিরূপ ভূমিকা রাখে তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বা অর্থ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং এর সুষ্ঠু ব্যবহারের প্রক্রিয়াকে অর্থায়ন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানি যখন প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথমবারের মতো সাধারণ জনগণের কাছে সরাসরি শেয়ার ইস্যু করে, তখন তাকে প্রাইমারি শেয়ার বা প্রাথমিক শেয়ার বলে। এই প্রাইমারি শেয়ার যখন পরবর্তীতে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের পরস্পরের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় বা হাতবদল হয়, তখন তা সেকেন্ডারি শেয়ারে পরিণত হয়। অর্থাৎ, প্রাথমিক বাজার থেকে শেয়ার তালিকাভুক্তির পর তা মাধ্যমিক বাজারে কেনাবেচার মাধ্যমেই সেকেন্ডারি শেয়ারের রূপ নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রতন সাহেব 'প্রাইমারি শেয়ার' এবং পরবর্তীতে 'সেকেন্ডারি শেয়ার' উভয় ধরনের শেয়ারেই বিনিয়োগ করেন, তবে মূল আলোকপাত প্রাথমিক শেয়ার ও মাধ্যমিক শেয়ারের বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে ঘটে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, "রতন সাহেব গ্রামীণ ফোনের প্রথম পর্যায়ের ক্রেতা যিনি সরাসরি গ্রামীণ ফোনের কাছ থেকে শেয়ার কিনেন।" সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে প্রথম পর্যায়ে ক্রয় করা শেয়ারকে প্রাইমারি শেয়ার (Primary Share) বলে। এক্ষেত্রে তহবিল সরাসরি কোম্পানির মূলধনে যুক্ত হয়।
আবার উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, "এজন্য তিনি মতিঝিলে স্টক এক্সচেঞ্জে যান। শেয়ারের মূল্যসূচক জেনে তিনি অনেক চিন্তা-ভাবনা করে তা ক্রয় করেন।" স্টক এক্সচেঞ্জ হলো মাধ্যমিক বাজার বা সেকেন্ডারি মার্কেট, যেখানে পূর্বে ইস্যুকৃত শেয়ারের ক্রয়-বিক্রয় ঘটে এবং মূল্যসূচক পর্যবেক্ষণ করা হয়। সুতরাং, প্রাথমিক পর্যায়ে সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে শেয়ার কিনে তিনি প্রাইমারি শেয়ার ধারণ করেন এবং শেয়ারবাজার বা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে মূল্যসূচক বিশ্লেষণ করে শেয়ার কেনাবেচার মাধ্যমে তিনি সেকেন্ডারি শেয়ারেও বিনিয়োগ পরিচালনা করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রতন সাহেবের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকৃত পুঁজি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো:
১. মূলধন গঠন: রতন সাহেবের মতো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে একত্রিত হয়ে বৃহৎ মূলধনে রূপান্তরিত হয়। এই মূলধন গ্রামীণফোনের মতো বৃহৎ উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়ে জাতীয় মূলধন গঠনে সাহায্য করে।
২. শিল্পায়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধি: শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল দিয়ে কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করে। ফলে টেলিযোগাযোগ খাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্প ও সেবার সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ও ব্যবসা প্রসারের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়, যা দেশের বেকারত্ব হ্রাসে ভূমিকা রাখে।
৪. অর্থনৈতিক গতিশীলতা: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ফলে অর্থের সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং অলস অর্থ গতিশীল হয়ে উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত হয়। রতন সাহেব লাভবান হওয়ার মাধ্যমে তার ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, যা সার্বিক চাহিদা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।
৫. সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি: লাভজনক কোম্পানিগুলো সরকারকে বেশি পরিমাণে কর ও রাজস্ব প্রদান করে, যা জাতীয় বাজেটের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হয়।
অতএব, রতন সাহেবের শেয়ার ক্রয়ের মতো বিনিয়োগ কেবল ব্যক্তিগত মুনাফাই নিশ্চিত করে না, বরং দেশের সঞ্চয়-বিনিয়োগ চক্রকে ত্বরান্বিত করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও