পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
সাফায়াত ও তৈয়ব দুই বন্ধু। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামে। তারা বুয়েটের শিক্ষার্থী। বহুদিন পূর্বে তারা ঢাকা থেকে বাসে করে বাড়ি ফিরছিল। পথে তারা দেখল, সামনের গাড়ি থেকে অত্যাধিক কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল। তখন তৈয়ব সাফায়াতকে বলল, 'কালো ধোঁয়াসহ কিছু কারণে বিশ্বে বিরাট প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।” তখন সাফায়াতবলল, “বাংলাদেশের আবহাওয়ায়ও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।”
- ক)(1)
AIDS-এর পূর্ণরূপ কী ?
- খ)(2)
দুর্নীতি বলতে কি বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে? এর কারণ কী?
- ঘ)(4)
উল্লিখিত বিষয়টি বিশ্বে কোন ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে তুমি মনে কর? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
AIDS-এর পূর্ণরূপ হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome (অ্যাকোয়ার্ড ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোম)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে দুর্নীতি বলতে নীতিবিরুদ্ধ বা নীতিবহির্ভূত আচরণকে বোঝায়। সমাজবিজ্ঞান ও পৌরনীতির পরিভাষায়, ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতা বা পদের অপব্যবহার করাই হলো দুর্নীতি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতে, অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনই দুর্নীতি। ঘুষ গ্রহণ, স্বজনপ্রীতি, দায়িত্বে অবহেলা এবং অর্থ আত্মসাৎ দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে যানবাহনের কালো ধোঁয়া নির্গমন এবং আবহাওয়া ও বিশ্বের ওপর এর বিরূপ প্রভাবের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন বা পরিবেশ দূষণের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
এর মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি। উদ্দীপকে উল্লিখিত গাড়ির কালো ধোঁয়ায় প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড থাকে। এছাড়া দ্রুত শিল্পায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, পেট্রোলিয়াম) অতিরিক্ত ব্যবহার, বন উজাড়করণ এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে প্রকৃতিতে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই গ্যাসগুলো তাপ ধরে রেখে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটাচ্ছে, যা প্রত্যক্ষভাবে পরিবেশ দূষণ ও সামগ্রিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হিসেবে কাজ করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বে মারাত্মক ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আমি মনে করি।
আমার মতের সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও মেরু অঞ্চলের বরফ গলন: অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ এবং হিমবাহ দ্রুত গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. উপকূলীয় অঞ্চল নিমজ্জন: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশের নিচু উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যার ফলে কোটি কোটি মানুষ পরিবেশগত উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগের পৌনঃপুনিকতা: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাইক্লোন, খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির মতো চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।
৪. খাদ্য নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্য সংকট: অনাবৃষ্টি ও তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। একই সাথে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় বহু উদ্ভিদ ও প্রাণী বিলুপ্তির সম্মুখীন হচ্ছে।সুতরাং, স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, সময়মতো পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা না গেলে সমগ্র বিশ্বের মানবসভ্যতা ও প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান অপূরণীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও