‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অধ্যাদেশ কে জারি করেন?

    (1)
  2. খ)

    বেজাল প্যাক্ট কী?

    (2)
  3. গ)

    উপরে বর্ণিত ছকটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনাটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ (Ordinance) জারি করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯১৯ সালে এ কে ফজলুল হক এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি বেঙ্গল প্যাক্ট (বা উদ্দীপকের প্রশ্নে উল্লেখিত বেজাল প্যাক্ট) নামে পরিচিত। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলার দুটি প্রধান সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিনিধিত্ব, চাকরি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে পারস্পরিক সমঝোতা ও ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ছকটি পাঠ্যবইয়ের ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে নির্দেশ করে।

    ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খানের পতনের পর ক্ষমতায় এসে জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের ৩০ মার্চ 'আইনগত কাঠামো আদেশ' (Legal Framework Order - LFO) জারি করেন, যার অধীনে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকে উল্লেখিত 'আওয়ামী লীগ-১৬৭' এবং 'পিপলস পার্টি-৮৮' দ্বারা জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পূর্ব পাকিস্তানে ১৬৭টি আসন (সংরক্ষিত নারী আসনসহ) লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টির ৮৮টি আসন পাওয়ার ফলাফলকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু এই নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ও শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায় এবং ষড়যন্ত্র শুরু করে। সুতরাং, ছকের সামগ্রিক চিত্রটি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং তার ফলাফলকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা হস্তান্তরের অস্বীকৃতি ও পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী। নিচে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ছয় দফার প্রতি জনগণের ম্যান্ডেট: আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মূলত ঐতিহাসিক ছয় দফা ও এগারো দফার ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টিতে জয়লাভ করায় এটি প্রমাণ হয় যে, বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ এবং ছয় দফা ছিল প্রকৃতপক্ষে বাঙালির মুক্তির সনদ।

    ২. বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বিজয়: এই নির্বাচনের মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের দ্বি-জাতিতত্ত্ব কার্যত অকার্যকর প্রমাণিত হয় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক বিজয় অর্জিত হয়।

    ৩. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও নৈতিক অবস্থান: ১৯৭০ সালের অবাধ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয় যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই পাকিস্তানের সমগ্র জনগণের এবং বিশেষ করে পূর্ব বাংলার নির্বাচিত অবিসংবাদিত নেতা। এর ফলে পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন সহজতর হয়।

    ৪. ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা ও সশস্ত্র সংগ্রামের পটভূমি: নির্বাচনে জনগণের স্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর ষড়যন্ত্রের কারণে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এর ফলে বাঙালি জনগণ অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং চূড়ান্তভাবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার মুখে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

    পরিশেষে বলা যায়, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল বাঙালি জাতিকে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতায় উত্তরণের একটি যুগান্তকারী সোপান, যার প্রত্যক্ষ পরিণতিতেই রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন