বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আবাল্য তোমার যে নিসর্গ ছিল নিদারুণ নির্বিকার, সুরক্ষিত দুর্গের মতন আমাদের প্রতিরোধে সে হলো সহায়,ব্ল‍্যাক-আউট অমান্য করে তুমি দিগন্তে জ্বেলে দিলেবিদ্রোহী পূর্ণিমা। আমি সেই পূর্ণিমার আলোয় দেখেছি;আমরা সবাই ফিরছি আবার নিজস্ব উঠোন পার হয়ে নিজেদের ঘরে।

  1. ক)

    কত বঙ্গাব্দে নূরলদীন বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    পাহাড়ী ঢলের মতো নেমে এসে সমস্ত ভাষায়' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকটিতে 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতার মূল বিষয় কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে তা বুঝিয়ে লেখো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নূরলদীন ১১৮৯ বঙ্গাব্দে বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাকৃতিক শক্তি যেমন কোনো বাধা মানে না, তেমনি ১৯৭১ সালে বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম ও প্রতিবাদের ভাষা কোনো বাঁধায় আটকে থাকেনি—এ বিষয়টি বোঝাতে চরণটি ব্যবহার করা হয়েছে।

    সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতায় পাহাড়ি ঢলের উপমায় বোঝানো হয়েছে বাঙালির মুক্তির ঐক্যবদ্ধ জাগরণকে। ১৯৭১ সালের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি যেভাবে সর্বাত্মক প্রতিরোধ ও সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তা ছিল পাহাড়ি ঢলের মতোই দুর্বার, অপ্রতিরোধ্য ও সর্বপ্লাবী।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং বিজয়ের মাধ্যমে আপন ঠিকানায় ফেরার চেতনা।

    'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতায় দেখা যায়, বাঙালির প্রতিটি সংকটকালে নূরলদীনের মতো সাহসী বিপ্লবীর ডাক মানুষকে জাগিয়ে তোলে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি একতাবদ্ধ হয়ে মুক্তির লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতার আলো ছিনিয়ে আনে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, যে নিসর্গ পূর্বে নির্বিকার ছিল, তা-ই প্রতিরক্ষার দুর্গে পরিণত হয়ে শত্রুর আরোপিত ব্ল্যাক-আউট বা অন্ধকার ভেদ করে বিদ্রোহী পূর্ণিমার আলো জ্বালিয়েছে। আর সেই আলোয় প্রত্যেকে নিজের মুক্ত ঘরে ফিরে আসছে। কবিতা এবং উদ্দীপক উভয়েই অন্ধকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে অধিকার আদায়ের মাধ্যমে নিজ সত্তা ও আবাসে ফিরে আসার অভিন্ন চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটিতে 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতার সম্পূর্ণ বিষয় প্রতিফলিত না হলেও এর সংগ্রামী ও প্রতিরোধমূলক চূড়ান্ত পরিণতির দিকটি যথাযথভাবে ফুটে উঠেছে।

    'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতার মূল বিষয় কেবল প্রতিরোধ ও বিজয় নয়; বরং বাঙালির দীর্ঘ পরাধীনতা, ব্রিটিশবিরোধী কৃষক নেতা নূরলদীনের ঐতিহাসিক ভূমিকা, রংপুরের গ্রামীণ পটভূমি এবং ১৯৭১ সালের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরতার বিপরীতে ঐতিহাসিক স্মৃতি রোমন্থন করে বাঙালিকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান। কালরাতের সেই রক্তাক্ত ও অসহায় পরিস্থিতিতে নূরলদীনের সংগ্রামী চেতনার পুনর্জাগরণই কবিতার মূল সুর।

    উদ্দীপকে দেখা যায় নিসর্গের সহায়তা নিয়ে ব্ল্যাক-আউট বা অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে বিদ্রোহী পূর্ণিমার আলো প্রজ্বলন এবং নিজস্ব উঠোনে ফেরার আনন্দ। এটি কবিতার নূরলদীনের ডাকে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের অংশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও কবিতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, নূরলদীনের স্মৃতিচারণ এবং লোকজ জীবনচিত্রের বিস্তৃতি উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

    অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতার মুক্তির সংগ্রাম ও প্রতিরোধের চূড়ান্ত বিজয়ের দিকটি সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হলেও কবিতার সামগ্রিক ঐতিহাসিক বিস্তার ও মর্মবাণী এতে আংশিকভাবে উপস্থিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন