ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

২০১০ সালে ১ জানুয়ারি তারিখে বিরেন, বিজয় ও স্বাধীন সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় শুরু করলেন। তাদের প্রত্যেকের মূলধন এক লক্ষ টাকা। ২০১১ সালে বিরেনের মৃত্যুর পর তার ১০ বছরের কন্যা মুক্তিককে বিজয় ও স্বাধীনের সম্মতিতে ব্যবসায়ের অংশীদার করেন। ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে ব্যবসায়ের মুনাফা সামান্যই হলো। ২০১৫ সালের ১ জুলাই তারিখে বিজয় দেউলিয়া ঘোষিত হলো। তখন ব্যবসায়ের দায়ের পরিমাণ তিন লক্ষ টাকা।

  1. ক)

    অংশীদারি চুক্তিপত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    ২০১১ সালে মুক্তি কোন ধরনের অংশীদার ছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিজয়ের দেউলিয়াতে উক্ত ব্যবসায়ের মুক্তির দায় নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারদের মধ্যকার পারস্পরিক অধিকার, দায়-দায়িত্ব ও ব্যবসায় পরিচালনার যাবতীয় নিয়মাবলি সংবলিত চুক্তি যখন লিখিত রূপ ধারণ করে, তখন তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলতে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুসারে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিবন্ধকের অফিসে ব্যবসায়ের নাম ও নির্ধারিত তথ্যাবলি তালিকাভুক্ত করাকে বোঝায়। অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়; তবে নিবন্ধিত ব্যবসায় অনিবন্ধিত ব্যবসায়ের তুলনায় চুক্তিজনিত অধিকার রক্ষায় কিছু আইনি সুবিধা ভোগ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ২০১১ সালে মুক্তি ছিল উক্ত অংশীদারি ব্যবসায়ের একজন 'নাবালক অংশীদার' বা 'সুবিধাভোগী অংশীদার'।

    ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হতে পারে না। তবে সকল বিদ্যমান অংশীদারের সর্বসম্মত সম্মতিক্রমে কোনো নাবালককে কেবল মুনাফা বা সুবিধার অংশীদার হিসেবে ব্যবসায়ে গ্রহণ করা যায়।

    উদ্দীপকে বিরেনের মৃত্যুর সময় তার কন্যা মুক্তির বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর, যা আইন অনুযায়ী নাবালক অবস্থা। জীবিত অন্য দুই অংশীদার বিজয় ও স্বাধীন যৌথ সম্মতিতে মুক্তিকে ব্যবসায়ে অন্তর্ভুক্ত করেন। আইনানুযায়ী নাবালক হিসেবে মুক্তি ব্যবসায়ের কোনো ব্যক্তিগত দায় বহন করবে না, কেবল ব্যবসায় নিয়োজিত স্বার্থ বা মূলধনের সীমা পর্যন্ত সুবিধা বা দায় সীমাবদ্ধ থাকবে। সুতরাং, ২০১১ সালে মুক্তি একজন নাবালক অংশীদার ছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিজয়ের দেউলিয়া হওয়ার প্রেক্ষিতে এবং অংশীদারি আইনানুযায়ী উক্ত ব্যবসায়ের ৩ লক্ষ টাকা দায়ের ক্ষেত্রে মুক্তির ব্যক্তিগত কোনো দায় নেই; তার দায় কেবল ব্যবসায়ে তার বিদ্যমান স্বার্থ বা মূলধন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

    ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩০(৩) ধারা মোতাবেক, ব্যবসায়ে গৃহীত একজন নাবালক অংশীদারের দায় ব্যবসায়ে তার দেয় বা জমা রাখা মূলধন বা অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। নাবালকের কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি ব্যবসায়ের ঋণের জন্য দায়ী করা যায় না। উপরন্তু, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ৬ মাসের মধ্যে নাবালক পূর্ণ অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে কোনো গণবিজ্ঞপ্তি না দিলে বা সিদ্ধান্ত না নিলে সে স্বাভাবিকভাবেই ব্যক্তিগত দায়মুক্ত থাকে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০১১ সালে ১০ বছর বয়সে মুক্তি অংশীদার হয়। ২০১৫ সালের ১ জুলাই তারিখে তার বয়স হয় প্রায় ১৪ বছর। অর্থাৎ তখনও সে নাবালক। বিজয়ের দেউলিয়া ঘোষণার সময় ব্যবসায়ের মোট দায়ের পরিমাণ ছিল তিন লক্ষ টাকা। যেহেতু মুক্তি এখনো নাবালক এবং সে পূর্ণাঙ্গ অংশীদার নয়, তাই বিজয়ের দেউলিয়াত্বের কারণে সৃষ্ট তিন লক্ষ টাকার দায়ের জন্য মুক্তির ব্যক্তিগত কোনো সম্পত্তি দায়ী হবে না। তবে ব্যবসায়টিতে তার যে মূলধন বা পাওনা অংশ রয়েছে, সেখান থেকে ক্ষতি বা দেনা সমন্বয় করা যাবে। অতএব, বিজয়ের দেউলিয়াতে মুক্তির দায় কেবল ব্যবসায়ে তার অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, কোনোক্রমেই ব্যক্তিগত বা অসীম নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন