বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

12.1.

ক. দেশপ্রেম

12.2.

খ. দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

12.3.

গ. অধ্যবসায়

12.4.

ঘ. বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন

12.5.

ঙ. নারীর ক্ষমতায়ন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

দেশপ্রেম

ভূমিকা:
স্বদেশের প্রতি মানুষের সহজাত গভীর ভালোবাসা, আত্মিক টান এবং শ্রদ্ধাবোধকেই বলা হয় দেশপ্রেম। দেশপ্রেম মানুষের অন্তরের এক অবিনাশী মহৎ অনুভূতি। যে দেশে মানুষ জন্মগ্রহণ করে, যার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠে এবং যার মাটিতে তার পূর্বপুরুষদের স্মৃতি জড়িয়ে থাকে—সেই দেশের প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধ লালন করাই দেশপ্রেমিকের ধর্ম। কবি যথার্থই বলেছেন:
"স্বার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে,
স্বার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে।"

দেশপ্রেমের স্বরূপ ও তাৎপর্য:
দেশপ্রেম কেবল মুখের ফাঁকা বুলি বা জাতীয় দিবসে আবেগ প্রকাশের বিষয় নয়; এটি অন্তরের গভীর থেকে উৎসারিত এক নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও কর্তব্যের অনুভূতি। স্বদেশের কল্যাণসাধন, দেশের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং স্বজাতির সম্মান বিশ্বমঞ্চে সমুন্নত রাখা দেশপ্রেমের অন্যতম প্রকাশ। দেশপ্রেম মানুষকে সংকীর্ণ স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে ত্যাগের মহিমায় উদ্দীপিত করে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বাঙালি ও বাংলাদেশের দেশপ্রেম:
বাঙালির ইতিহাস মূলত দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের রক্তঝরা ইতিহাস। স্বদেশের ভাষা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার প্রমুখ অকাতরে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের আপামর জনসাধারণ দেশমাতৃকার শৃঙ্খলমোচনে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল। ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই আত্মবলিদান বিশ্বের ইতিহাসে অনন্য এক দেশপ্রেমের নিদর্শন।

ছাত্রসমাজ ও বর্তমান প্রজন্মের দেশপ্রেম:
একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ ও ছাত্রসমাজের ওপর। শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমের সূচনা হয় নিষ্ঠার সাথে বিদ্যা অর্জন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নৈতিক চরিত্র গঠনের মাধ্যমে। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আধুনিক দেশপ্রেমের প্রধান রূপ। দুর্নীতি, অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও তরুণ সমাজের দেশপ্রেমের পরিচায়ক।

উগ্র জাতীয়তাবাদ বা অন্ধ দেশপ্রেম বনাম প্রকৃত দেশপ্রেম:
দেশপ্রেম প্রশংসনীয় হলেও উগ্র বা অন্ধ স্বদেশপ্রেম মানবজাতির জন্য বিপজ্জনক। অন্ধ দেশপ্রেম মানুষকে অন্য দেশ ও জাতির প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন ও অসহনশীল করে তোলে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে—"Patriotism is the last refuge of a scoundrel"—যা অন্ধ বা সুযোগসন্ধানী জাতীয়তাবাদের ইঙ্গিত দেয়। প্রকৃত দেশপ্রেম বিশ্বমানবতার বিরোধী নয়; বরং তা স্বদেশের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা বজায় রেখে অন্য সকল জাতি ও সংস্কৃতিকে সম্মান করতে শেখায়।

উপসংহার:
দেশপ্রেম মানবচরিত্রের শ্রেষ্ঠতম অলংকার। যে ব্যক্তির অন্তরে দেশের প্রতি ভালোবাসা নেই, সে জীবন্মৃত। স্বদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রতিটি কাজ যেন দেশের অগ্রগতি ও কল্যাণে নিবেদিত হয়—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমেই একটি জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন