‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

অর্পা ও সোহা বান্ধবী। তারা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। কথা প্রসঙ্গে অর্পা সোহাকে বলল, "বাংলাদেশে একটি সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ আছে। তার নামেমাত্র ক্ষমতা আছে।" সোহা বলল, "হ্যাঁ, আমি জানি, তিনি সংসদ সদস্য দ্বারা নির্বাচিত।”

  1. ক)

    কোরাম কী?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের গঠন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ব্যক্তির নিয়োগ ও অপসারণ কীভাবে হয়? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ব্যক্তির ক্ষমতা ও কার্যাবলি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু বা পরিচালনার জন্য ন্যূনতম যতজন সংসদ সদস্যের উপস্থিতি আইনগতভাবে আবশ্যক, তাকে কোরাম বলে। বাংলাদেশের সংবিধানে ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে সংসদের কোরাম গঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট, যার নাম 'জাতীয় সংসদ'। জাতীয় সংসদ মোট ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। এর মধ্যে ৩০০ জন সংসদ সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। অবশিষ্ট ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকে, যা সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ৩০০ জন সংসদ সদস্যের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির মাধ্যমে পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে ৫ বছর।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ব্যক্তি হলেন বাংলাদেশের 'রাষ্ট্রপতি'। নিচে তাঁর নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো:

    ১. নিয়োগ বা নির্বাচন পদ্ধতি: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন। ৩৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের যেকোনো নাগরিক যিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য, তিনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে পারেন। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

    ২. অপসারণ বা অভিশংসন প্রক্রিয়া: সংবিধানের ৫২ ও ৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান লঙ্ঘন, গুরুতর অসদাচরণ কিংবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে জাতীয় সংসদ কর্তৃক অভিশংসনের (Impeachment) মাধ্যমে অপসারণ করা যায়। এর জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরিত নোটিশ স্পিকারের কাছে পেশ করতে হয়। পরবর্তীতে অভিযোগ তদন্তের পর সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিশংসন প্রস্তাব গৃহীত হলে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন বা অপসারিত হন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ব্যক্তি অর্থাৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং তাঁর নামেই রাষ্ট্রের সকল শাসনকার্য পরিচালিত হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। এছাড়া প্রধান বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, নির্বাচন কমিশনার, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের তিনি নিয়োগ প্রদান করেন।
    ২. আইনসংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন, স্থগিত রাখেন এবং ভেঙে দেন। সংসদে পাসকৃত কোনো বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পেশ করা হলে তিনি তাতে সম্মতি দান করেন অথবা পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠাতে পারেন। তাঁর সম্মতিতেই বিল আইনে পরিণত হয়। সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে জরুরি প্রয়োজনে তিনি অধ্যাদেশ (Ordinance) জারি করতে পারেন।
    ৩. অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি বা সুপারিশ ছাড়া সংসদে কোনো অর্থবিল উত্থাপন করা যায় না। সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
    ৪. বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ করেন। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো আদালতের প্রদত্ত দণ্ড মার্জনা, স্থগিত বা হ্রাস করার একক অধিকার রাষ্ট্রপতির রয়েছে।
    ৫. জরুরি অবস্থা ঘোষণা: অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিঃশত্রুর আক্রমণের কারণে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর সাপেক্ষে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।

    পরিশেষে বলা যায়, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত থাকায় কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। ফলে তিনি মূলত নিয়মতান্ত্রিক বা সাংবিধানিক প্রধান হলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের প্রতীক হিসেবে তাঁর মর্যাদা ও ভূমিকা অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন