অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. ফজলে ইলাহী অর্থনীতি বিষয়ে একজন জনপ্রিয় শিক্ষক। বাংলাদেশের কৃষিতে আইসিটি (ICT) এর গুরুত্বের উপর তিনি শ্রেণিকক্ষে পড়াচ্ছেন। উনি বলেন, কৃষি জমির গুণাগুণ, রোগবালাই ও তার প্রতিকার সম্বন্ধে জানা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং কৃষিবিজ্ঞানী ও গবেষকদের সাথে যোগাযোগ ক্ষেত্রে ICT গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য সরকার উপজেলা পর্যায়ে 'কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র' স্থাপন, প্রশিক্ষণ প্রদান, কৃষি SMS সহ নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

  1. ক)

    শস্য বহুমুখীকরণ বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের কৃষকেরা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে ICT এর মাধ্যমে কৃষকেরা কি কি সুবিধা পায়? মূল্যায়ন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষিক্ষেত্রে ICT এর সুবিধাদি বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত উদ্যোগসমূহ যথেষ্ট কি?- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একই জমিতে কেবল একটি নির্দিষ্ট ফসল বারবার চাষ না করে ঋতু ও চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন ধরনের ফসলের পর্যায়ক্রমিক উৎপাদনকে শস্য বহুমুখীকরণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষক নিরক্ষরতা, জামানত বা স্থাবর সম্পত্তির অভাব এবং জটিল ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক উৎস (যেমন- ব্যাংক বা বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান) থেকে ঋণ পায় না। ঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ ও আনুষ্ঠানিক হওয়ায় এবং অধিকাংশ ব্যাংকের গ্রামীণ পর্যায়ে পর্যাপ্ত শাখা ও আন্তরিক সহযোগিতার অভাবে সাধারণ কৃষকেরা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে বাধ্য হয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক মহাজনদের দ্বারস্থ হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে কৃষিক্ষেত্রে ICT ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকেরা বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন, যা কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে।

    ১. রোগবালাই নির্ণয় ও সমাধান: কৃষকেরা মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফসলের আক্রান্ত অংশের ছবি বিশেষজ্ঞ বা কৃষি তথ্য কেন্দ্রে পাঠিয়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও কীটনাশক ব্যবহারের সঠিক নির্দেশনা পান।
    ২. আবহাওয়ার পূর্বাভাস: মোবাইল এসএমএস ও অনলাইনের মাধ্যমে আগাম ঝড়, খরা বা বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার ফলে কৃষকেরা ফসল রক্ষা ও ফসল তোলার ব্যাপারে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
    ৩. গবেষণা ও উন্নত প্রযুক্তির সংযোগ: গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী উপযুক্ত সার ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। এতে উৎপাদন খরচ হ্রাস পায় এবং ফসলের ফলন বাড়ে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষিক্ষেত্রে ICT-এর সুবিধার প্রসারে সরকারের গৃহীত উদ্যোগসমূহ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় হলেও তা শতভাগ বাস্তবায়নে পুরোপুরি পর্যাপ্ত নয়।

    সরকার উপজেলা পর্যায়ে 'কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র' স্থাপন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, এবং 'কৃষি এসএমএস' সেবাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা তথ্যপ্রাপ্তির পথ সহজ করেছে। তবে তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা যায়, প্রান্তিক কৃষকদের একটি বড় অংশ এখনো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অনভিজ্ঞ ও নিরক্ষর। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। উপরন্তু, কৃষক তথ্য কেন্দ্রগুলোর সংখ্যা ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের মোট কৃষকের তুলনায় অপ্রতুল এবং অনেক ক্ষেত্রে সেবা প্রদানে দক্ষ জনবলের অভাব লক্ষ্য করা যায়।

    অতএব, গৃহীত উদ্যোগগুলো অবশ্যই ইতিবাচক সূচনা করেছে, তবে এই প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ সুফল ঘরে তুলতে ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ, সহজ ভাষায় অ্যাপ তৈরি এবং কৃষকদের হাতে-কলমে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন