জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    করোনা রেডিয়েটা কী?

    (1)
  2. খ)

    অমরাকে জৈব  সেতু বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    চিত্র 'Y' এর গঠন রুপ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জীবজগতে 'X' ও 'Y' এর মিলন প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্তন্যপায়ী প্রাণীর ডিম্বাণুর জোনা পেলুসিডা স্তরের বাইরের দিকে অবস্থিত ফলিকল কোষের স্তরকে করোনা রেডিয়েটা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অমরা (Placenta) হলো একটি বিশেষ জৈবিক অঙ্গ যা গর্ভস্থ ভ্রূণ এবং মাতৃদেহের জরায়ু প্রাচীরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপন করে। এর মাধ্যমে মাতৃদেহ থেকে পুষ্টি উপাদান, পানি এবং অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ভ্রূণে প্রবেশ করে এবং ভ্রূণের বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ (যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া ইত্যাদি) মাতৃদেহে পরিবাহিত হয়ে নিষ্কাশিত হয়। অর্থাৎ, অমরা ভ্রূণ ও মাতৃদেহের শারীরবৃত্তীয় আদান-প্রদানের একটি সেতু হিসেবে কাজ করে বলেই একে 'জৈব সেতু' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'Y' হলো মানব শুক্রাণু (Sperm)। একটি পরিণত মানব শুক্রাণু মাইক্রোস্কোপিক, সচল এবং চারটি প্রধান অংশে বিভক্ত:

    ১. মস্তক (Head): শুক্রাণুর স্ফীত অগ্রভাগ। এটি মূলত একটি ডিম্বাকৃতির নিউক্লিয়াস দ্বারা গঠিত, যার মধ্যে ঘনীভূত ক্রোমোজোম (হ্যাপ্লয়েড সংখ্যক) থাকে। মস্তকের শীর্ষদেশে গলগি বস্তু থেকে সৃষ্ট টুপির মতো অ্যাক্রোসোম (Acrosome) থাকে, যা ডিম্বাণুর প্রাচীর গলানোর জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক (হায়ালিউরোনিডেজ) ধারণ করে।

    ২. গ্রীবা (Neck): মস্তকের ঠিক পেছনে অবস্থিত অতি সংক্ষিপ্ত অংশ। এতে দুটি সেন্ট্রিওল (প্রক্সিমাল ও ডিস্টাল সেন্ট্রিওল) থাকে।

    ৩. মধ্যখণ্ড (Middle piece): গ্রীবার পরবর্তী অংশ। এর কেন্দ্রে একটি অক্ষীয় সূত্রক থাকে যা সর্পিলাকারে সজ্জিত অসংখ্য মাইটোকন্ড্রিয়া (মাইটোকন্ড্রিয়াল স্পাইরাল বা নেবেনকার্ন) দ্বারা বেষ্টিত। এই মাইটোকন্ড্রিয়া শুক্রাণুর চলনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) সরবরাহ করে।

    ৪. লেজ (Tail): এটি শুক্রাণুর দীর্ঘতম ও সরু পশ্চাৎভাগ। এর অক্ষীয় সূত্রক শুক্রাণুকে সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর দিকে অগ্রসর হতে সাহায্য করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'X' হলো ডিম্বাণু এবং 'Y' হলো শুক্রাণু। এদের মিলন প্রক্রিয়াটি হলো নিষেক (Fertilization)। জীবজগতে নিষেক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ডিপ্লয়েড অবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা: শুক্রাণু (n) এবং ডিম্বাণু (n) উভয়ই হ্যাপ্লয়েড। নিষেকের ফলে জাইগোট (2n) গঠিত হয়, যা প্রজাতির স্বাভাবিক ক্রোমোজোম সংখ্যা এবং ডিপ্লয়েড অবস্থা পুনরুদ্ধার ও বজায় রাখে।

    ২. ভ্রূণ বিকাশ শুরু: নিষেক প্রক্রিয়াই মূলত সুপ্ত বা নিষ্ক্রিয় ডিম্বাণুকে উদ্দীপিত করে এবং বিভাজন (ক্লিভেজ) ও ভ্রূণীয় বিকাশের সূচনা ঘটায়।

    ৩. জেনেটিক বৈচিত্র্য সৃষ্টি: শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টির সময় মিয়োসিস বিভাজনে ক্রসিং ওভার ঘটে। নিষেকের মাধ্যমে দুটি ভিন্ন জননকোষের নিউক্লিয়াসের মিলন ঘটায় সন্তানে নতুন বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ও জিনগত প্রকরণ ঘটে, যা বিবর্তনে সহায়তা করে।

    ৪. লিঙ্গ নির্ধারণ: স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে নিষেকের মুহূর্তেই নির্ধারিত হয় সন্তান স্ত্রী নাকি পুরুষ হবে (যেমন- X বা Y ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার মাধ্যমে)।

    ৫. প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা: নিষেকের মাধ্যমেই জনন প্রক্রিয়া সফল হয়, যা জীবের বংশবৃদ্ধি এবং পৃথিবীতে প্রজাতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

    অতএব, জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষা, বংশগতির ধারাবাহিকতা ও প্রজাতির বৈচিত্র্য রক্ষায় 'X' ও 'Y'-এর মিলন তথা নিষেকের গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন