বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
5.
স্বদেশপ্রেম।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বদেশপ্রেম
ভূমিকা:
স্বদেশপ্রেম মানুষের একটি সহজাত ও মহৎ মানবিক গুণ। মানুষ যে দেশে জন্মগ্রহণ করে, যার আলো-বাতাসে লালিত-পালিত হয়, সেই দেশের প্রতি অন্তরের গভীর ভালোবাসাই হলো স্বদেশপ্রেম। স্বদেশের ধূলিকণা থেকে শুরু করে তার প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষ—সবকিছুই দেশপ্রেমিকের কাছে পরম শ্রদ্ধেয় ও প্রিয়। কবির ভাষায়—
"সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।
সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে॥"
স্বদেশপ্রেমের স্বরূপ:
স্বদেশপ্রেম কেবল মুখের কথায় বা বাহ্যিক আড়ম্বরে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আত্মিক অনুভূতির বিষয়। নিজ দেশের মঙ্গল কামনা করা, দেশের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে দেশের স্বার্থে নিজের জীবন উৎসর্গ করার মানসিকতাই স্বদেশপ্রেমের প্রকৃত স্বরূপ। মানুষের মধ্যে মমত্ববোধের প্রথম প্রকাশ ঘটে পরিবারের প্রতি, পরে তা বিস্তৃত হয় গ্রাম, শহর এবং পর্যায়ক্রমে সমগ্র দেশের প্রতি।
ইতিহাসে স্বদেশপ্রেম:
বাঙালির ইতিহাস স্বদেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি দেশপ্রেমের অনন্য পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছে। ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। এ আত্মত্যাগই বাঙালির গভীর স্বদেশপ্রেমের প্রমাণ।
স্বদেশপ্রেমের প্রয়োজনীয়তা:
একটি জাতির উন্নতি ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি স্বদেশপ্রেম। দেশপ্রেমহীন মানুষ আত্মকেন্দ্রিক ও সমাজের জন্য বোঝা। যে দেশের নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম প্রবল, সে দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে যায়। দুর্নীতি, অনিয়ম ও হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে স্বদেশপ্রেমের বিকল্প নেই।
দেশপ্রেম বনাম অন্ধ স্বদেশপ্রীতি:
স্বদেশপ্রেম প্রশংসনীয়, কিন্তু অন্ধ স্বদেশপ্রীতি বা উগ্র জাতীয়তাবাদ নিন্দনীয়। নিজের দেশকে ভালোবাসতে গিয়ে অন্য দেশকে ঘৃণা করা কিংবা বিশ্বের অন্যান্য জাতির ক্ষতিসাধন করা প্রকৃত দেশপ্রেম নয়। প্রকৃত দেশপ্রেম বিশ্বমানবতাবোধের পরিপন্থী নয়, বরং তার পরিপূরক।
উপসংহার:
স্বদেশপ্রেম কেবল যুদ্ধের ময়দানে রক্ত দিয়ে প্রকাশ করতে হয় তা নয়; সততা, নিষ্ঠা ও কর্মের মাধ্যমে দেশের সেবা করাই বর্তমান যুগে স্বদেশপ্রেমের সর্বোত্তম বহিঃপ্রকাশ। একজন সৎ কৃষক, নিষ্ঠাবান শিক্ষক, কর্তব্যপরায়ণ কর্মকর্তা—সকলেই নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে দেশপ্রেমে অবদান রাখতে পারেন। তাই প্রত্যেকের উচিত অন্তরে স্বদেশপ্রেম জাগ্রত রেখে দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও