সাহিত্য পাঠ • মানব-কল্যাণ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

এ বছরের কালবৈশাখী ঝড়ে বশিরের হালের গরু মারা যায় এবং ফসলেরওব্যাপক ক্ষতি হয়। সবকিছু থাকার পরেও তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়েপড়ে। অন্য কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে, সে এলাকার চেয়ারম্যান সাহেবেরকাছে যায়। চেয়ারম্যান সাহেব সবকিছু শুনে একজোড়া হালের বলদ কিনে দেয়এবং আবার নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে বলে। চেয়ারম্যান সাহেবেরকথামতো কঠোর পরিশ্রম করে মাত্র কয়েক মাসেই তার ঘরে নতুন ফসল আসে।

  1. ক)

    মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ।’ ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের কোন ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়?-আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “পরিশ্রমই মর্যাদাপূর্ণ জীবনের পূর্বশর্ত।”- উদ্দীপক ও ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের আলোকে এ মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান হলো মানুষের মানবিক মর্যাদা এবং তার আত্মমর্যাদাবোধ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ’—বলতে বোঝানো হয়েছে যে, দান গ্রহণকারীর চেয়ে দানকারী সব সময় শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান।

    লেখক আবুল ফজল এক হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে দেখিয়েছেন যে, হাত পেতে সাহায্য বা ভিক্ষা নেওয়া মানুষকে পরনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাহীন করে ফেলে। নিচের হাতটি হলো যা সাহায্য গ্রহণ করে, আর ওপরের হাতটি হলো যা দান করে। দান গ্রহণে ব্যক্তির মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়, পক্ষান্তরে দানকারী তার অবস্থান ও মহত্ত্বের কারণে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। তাই হাত পাতার হীনমন্যতা থেকে মানুষকে মুক্ত করে স্বাবলম্বী করাই মানব-কল্যাণের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটি ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধে বর্ণিত রাষ্ট্রনায়ক ও খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর সময়কার এক নিঃস্ব ব্যক্তির স্বাবলম্বী হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধে লেখক প্রকৃত মানব-কল্যাণের ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইসলামের খলিফা হজরত ওমরের একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। এক ব্যক্তি সাহায্যের জন্য খলিফার কাছে এলে তিনি তাকে কোনো ভিক্ষা বা সাময়িক অনুদান না দিয়ে একটি কুঠার কিনে দেন এবং জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের নির্দেশ দেন। এতে লোকটি নিজের পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হয়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার সুযোগ পায়।

    উদ্দীপকের বশির কালবৈশাখী ঝড়ে নিঃস্ব হয়ে চেয়ারম্যানের কাছে সাহায্য চাইতে এলে চেয়ারম্যান তাকে কোনো অনুগ্রহ বা সাময়িক সাহায্য না দিয়ে একজোড়া হালের বলদ কিনে দেন এবং কঠোর পরিশ্রম করে চাষাবাদের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ করে দেন। চেয়ারম্যানের এই পদক্ষেপ হজরত ওমর (রা.) কর্তৃক ভিক্ষুককে কুঠার কিনে দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার ঘটনাকেই হুবহু স্মরণ করিয়ে দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “পরিশ্রমই মর্যাদাপূর্ণ জীবনের পূর্বশর্ত”—উদ্দীপক ও ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাবনার আলোকে মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ।

    ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক আবুল ফজল সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কেবল ওপর থেকে দয়া-দাক্ষিণ্য বা দান-খয়রাত করে প্রকৃত মানব-কল্যাণ সাধিত হয় না। এতে মানুষের মর্যাদাবোধ নষ্ট হয় এবং সমাজে পরমুখাপেক্ষী পরজীবী শ্রেণি তৈরি হয়। মানুষকে তার কর্মশক্তির বিকাশ ঘটিয়ে নিজের পরিশ্রমে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়াই হলো আসল কল্যাণ। শ্রমের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে মানুষ নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে পারে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বশিরের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলে চেয়ারম্যান সাহেব তাকে ভিক্ষা দেননি; বরং উপার্জনের উপায় হিসেবে একজোড়া হালের বলদ কিনে দেন। বশিরও অলস বসে না থেকে বা অন্যের অনুগ্রহের আশায় না থেকে কঠোর পরিশ্রম করে মাত্র কয়েক মাসেই নতুন ফসল ঘরে তোলে এবং স্বাবলম্বী হয়ে স্বাভাবিক মর্যাদাপূর্ণ জীবনে ফিরে আসে।

    সুতরাং উদ্দীপকের বশিরের পরিশ্রমের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানো এবং ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের শ্রম ও স্বাবলম্বনের মাধ্যমে আত্মমর্যাদা অর্জনের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন। নিজের পরিশ্রম ছাড়া কোনো মানুষ আত্মমর্যাদাশীল হতে পারে না বলেই এ মন্তব্যটি চূড়ান্ত সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন