‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাসরুমে জনৈক শিক্ষক 'গ' রাষ্ট্রের সংবিধান সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, লিখিত, মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্বলিত এই সংবিধানটি পৃথিবীর অন্যতম সংবিধান।

  1. ক)

    সার্বজনীন ভোটাধিকার কী?

    (1)
  2. খ)

    গণঅভ্যুত্থান বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনগণের অধিকার রক্ষায় উক্ত সংবিধানটির কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করো। 8

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ বা সম্পদের ভেদাভেদ ভুলে নির্দিষ্ট বয়সসীমা প্রাপ্ত প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার অধিকারকে সার্বজনীন ভোটাধিকার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গণঅভ্যুত্থান বলতে কোনো দেশের সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক অংশগ্রহণে সংঘটিত এমন এক আন্দোলনকে বোঝায়, যার উদ্দেশ্য থাকে কোনো স্বৈরশাসক বা নিপীড়নমূলক সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক শাসন ও জনদাবি প্রতিষ্ঠা করা। যেমন- ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ত্বরান্বিত হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'গ' রাষ্ট্রের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. লিখিত সংবিধান: এই সংবিধানটি একটি সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ লিখিত দলিল। এতে রাষ্ট্রের কাঠামো, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যাবলি ও ক্ষমতা স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে।
    ২. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দিকনির্দেশনা হিসেবে মূলনীতিসমূহ (যেমন—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) সন্নিবেশিত রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণের ভিত্তি।
    ৩. মৌলিক অধিকার সন্নিবেশন: এতে নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়ে সুনির্দিষ্ট মৌলিক অধিকারের তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
    ৪. সংবিধানের প্রাধান্য: এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন এবং এই আইনের সাথে সাংঘর্ষিক অন্য যেকোনো আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনগণের অধিকার রক্ষায় উক্ত সংবিধানটির কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম।

    উদ্দীপকে নির্দেশিত সংবিধানটি বাংলাদেশের সংবিধানকে প্রতিফলিত করে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে সংবিধানের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা: এই সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের জীবনের অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, ধর্ম পালনের অধিকার প্রভৃতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
    ২. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রিট আবেদন: সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করে প্রতিকার পেতে পারেন। আদালত সরকারের কোনো বেআইনি পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করতে পারে।
    ৩. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: সংবিধানে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে শাসক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি চাইলেই সাধারণ নাগরিকের ওপর অবিচার করতে পারে না।
    ৪. ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ: সংবিধান সরকারের শাসন, আইন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় এক অঙ্গের পক্ষে অন্য অঙ্গ বা জনগণের ওপর স্বৈরাচারী আচরণ করা সম্ভব হয় না।

    অতএব, একটি স্বাধীন ও সচেতন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানটি জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার রক্ষায় একটি ঢাল হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন