রসায়ন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
COD কাকে বলে?
- খ)(2)
হাকেল নীতি বলতে কি বোঝ?
- গ)(3)
কোন মতবাদ অনুসারে উদ্দীপকের বিক্রিয়া দুটিকে অম্ল-ক্ষারক বিক্রিয়ারূপে চিহ্নিত করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পরিবেশের উপর উদ্দীপকের গ্যাস দুটির বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে উপস্থিত সমস্ত জৈব ও অজৈব দূষককে রাসায়নিক জারক (যেমন: ) দ্বারা সম্পূর্ণ জারিত করতে প্রয়োজনীয় সমতুল্য অক্সিজেনের পরিমাণকে Chemical Oxygen Demand বা COD বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাকেল নীতি অনুসারে, যে সকল সমতলীয় বলয়াকার যৌগের অনুতে সঞ্চরণশীল সংখ্যক পাই () ইলেকট্রন থাকে (যেখানে ইত্যাদি পূর্ণসংখ্যা), সেই যৌগসমূহ অ্যারোমেটিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। একে হাকেল নীতি বলা হয়। যেমন: বেনজিনের ক্ষেত্রে হওয়ায় এতে সঞ্চরণশীল টি ইলেকট্রন থাকে, তাই বেনজিন একটি অ্যারোমেটিক যৌগ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিক্রিয়া দুটিকে লুইস মতবাদ (Lewis acid-base theory) অনুসারে অম্ল-ক্ষারক বিক্রিয়ারূপে চিহ্নিত করা যায়।\n\nলুইস মতবাদ অনুসারে, যে পদার্থ বিক্রিয়াকালে এক জোড়া ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করতে পারে তাকে লুইস অ্যাসিড বলে এবং যে পদার্থ এক জোড়া নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় দান করতে পারে তাকে লুইস ক্ষারক বলে।\n\nউদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড () এবং (ii) নং বিক্রিয়ায় সালফার ডাই-অক্সাইড () উভয়েই পানি () অণুর সাথে বিক্রিয়া করছে।\n\n১. পানি অণুর কেন্দ্রীয় অক্সিজেন পরমাণুতে নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় উপস্থিত থাকে, যা সে সন্নিবেশ বন্ধন গঠনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বা পরমাণুকে দান করে। সুতরাং, উভয় বিক্রিয়ায় পানি () একটি লুইস ক্ষারক হিসেবে কাজ করে।\n\n২. অপরপক্ষে, এবং যৌগে কেন্দ্রীয় কার্বন ও সালফার পরমাণুর সাথে অধিক তড়িৎ-ঋণাত্মক অক্সিজেন পরমাণু যুক্ত থাকায় কেন্দ্রীয় পরমাণুসমূহ আংশিক ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয়। ফলে এরা পানির অক্সিজেন থেকে মুক্তজোড় ইলেকট্রন গ্রহণ করে। সুতরাং, ও লুইস অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে।\n\nঅতএব, ইলেকট্রন জোড় আদান-প্রদানের মাধ্যমে সন্নিবেশ যৌগ ও পরবর্তীতে আয়ন সৃষ্টির কারণে লুইস মতবাদ অনুযায়ী বিক্রিয়া দুটি অম্ল-ক্ষারক বিক্রিয়া।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গ্যাস দুটি হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড () এবং সালফার ডাই-অক্সাইড ()। পরিবেশের উপর এদের বিরূপ প্রভাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:\n\n১. গ্রিনহাউস প্রভাব ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:\n হলো বায়ুমণ্ডলের প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস। বায়ুমণ্ডলে এর মাত্রা বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধি পায়, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এবং জলবায়ুর মারাত্মক পরিবর্তন ঘটে। অন্যদিকে, সরাসরি গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে উষ্ণায়নে তেমন ভূমিকা রাখে না; বরং বাতাসে এটি সালফেট অ্যারোসল তৈরি করে যা সৌর বিকিরণ প্রতিফলিত করে সাময়িক শীতলীকরণ ঘটাতে পারে।\n\n২. অ্যাসিড বৃষ্টি:\n অত্যন্ত ক্ষতিকর অ্যাসিড বৃষ্টির মূল কারণ। এটি বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক অ্যাসিড () গঠন করে, যা অত্যন্ত তীব্র অ্যাসিড। এটি মাটি ও জলাশয়ের pH আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দেয়, জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন ধ্বংস করে এবং স্থাপত্যকলার ক্ষয়সাধন করে। অপরপক্ষে, বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়ে মৃদু কার্বনিক অ্যাসিড () গঠন করে, যা স্বাভাবিক বৃষ্টির সামান্য অম্লত্বের জন্য দায়ী হলেও মারাত্মক ধ্বংসাত্মক অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটায় না।\n\n৩. মানব স্বাস্থ্য ও জীবজগতে তাৎক্ষণিক বিষাক্ততা:\n একটি তীব্র ঝাঁঝালো, শ্বাসরোধকারী ও বিষাক্ত গ্যাস। এটি শ্বাসনালীতে প্রদাহ, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি এবং ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। উদ্ভিদের পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত করে। কিন্তু সরাসরি বিষাক্ত গ্যাস নয়; তবে অত্যন্ত উচ্চ ঘনমাত্রায় এটি শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করতে পারে।\n\nউপসংহার:\nউভয় গ্যাসই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। মূলত দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সর্বাধিক দায়ী, পক্ষান্তরে তাৎক্ষণিকভাবে বিষাক্ততা, অ্যাসিড বৃষ্টি এবং বাস্তুতন্ত্রের সরাসরি ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও