বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
কে আসে সঙ্গে দেখ দেখ চেয়ে আজকারখানার রাজা, লাঙ্গলের নাবিক,উত্তাল ঢেউয়ের শাসক উদ্যত বৈঠাহাতে মাল্লাদল, এবং কামার কুমোর তাঁতি। এরাতো সবাই সেইমেহনতের প্রভু, আনুগত্যে শাণিত রক্তে ঢল হয়ে যায় বয়ে,তোমার শিরাময় সারা পথে পথে।
- ক)(1)
করতলে কী ছিল?
- খ)(2)
কবি প্রবহমান নদীর কথা বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মানুষ আর 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলবক্তব্যেরই ধারক।" -মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবি প্রবহমান নদীর কথা বলতে নদীর চিরন্তন গতিশীলতা, বাঙালির আদিম ঐতিহ্য এবং নদীমাতৃক বাংলার স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্যকে বুঝিয়েছেন।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় নদী হচ্ছে বাংলার জনজীবনের প্রাণশক্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক। নদী যেমন কোনো বাধার কাছে থেমে থাকে না, সদাসর্বদা আপন গতিতে বয়ে চলে, তেমনি বাঙালির পূর্বপুরুষদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যও চিরপ্রবহমান। যে মানুষ নদীর সাথে নিবিড় সংযোগ স্থাপন করতে পারে না, সে মুক্তির প্রকৃত আনন্দ পায় না— এ ভাবটি বোঝাতেই কবি কথাটি বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মেহনতি মানুষ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষ উভয়েই শ্রমজীবী, সংগ্রামী ও মাটির মানুষ— এই দিক থেকে তাঁদের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় পূর্বপুরুষরা ছিলেন মাটির সাথে সম্পৃক্ত, কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানার নির্মাতা। তাঁরা ছিলেন গৃহবিবাদের রূপকার এবং দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মাটির ভালোবাসায় প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করা সাহসী মানুষ।
অন্যদিকে, উদ্দীপকেও কৃষক (লাঙ্গলের নাবিক), শ্রমিক (কারখানার রাজা), মাঝি (মাল্লাদল), কামার, কুমোর ও তাঁতির মতো শ্রমজীবী মানুষদের মহিমা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁরাই সমাজ ও সভ্যতার নির্মাতা এবং তাদের রক্ত ও ঘামেই জীবনের চাকা সচল থাকে। সুতরাং, উদ্দীপকের মেহনতি মানুষ এবং কবিতার পূর্বপুরুষ উভয়েই উৎপাদনশীল শ্রম ও শোষণের বিরুদ্ধে মানবমুক্তির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলবক্তব্যেরই ধারক"— মন্তব্যটি অংশত সত্য হলেও সম্পূর্ণ ভাবকে ধারণ করে না; তবে মেহনতি মানুষের জয়গানের দিক থেকে এটি কবিতার মূল সুরের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, দাসত্বের শৃঙ্খল মোচনের আকাঙ্ক্ষা, কাব্যময়তা এবং পূর্বপুরুষদের রক্ত ও শ্রমের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। কবি দেখিয়েছেন, শ্রমজীবী পূর্বপুরুষদের ইতিহাসই আমাদের পথ দেখায় এবং সেই চেতনার উত্তরাধিকারেই মুক্তির সংগ্রাম এগিয়ে চলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সমাজের ভিত্তি গড়ে তোলা কারখানা শ্রমিক, কৃষক, মাঝি, কামার, তাঁতি প্রমুখ মেহনতি মানুষকে বন্দনা করা হয়েছে। তাদের রক্তই শিরায় শিরায় বয়ে চলেছে— এই অনুভূতির মাধ্যমে উৎপাদনশীল মানুষের আত্মিক সংযোগকে বড় করে দেখানো হয়েছে। কবিতার মূল বক্তব্যও এই শ্রমজীবী মানুষের সৃষ্টি ও সংগ্রামের গৌরবগাঁথা।
তবে কবিতায় মেহনতি মানুষের পাশাপাশি বাঙালির কাব্যচর্চা, ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির সার্বিক দিকও উঠে এসেছে, যা উদ্দীপকে কিছুটা সীমিত। তা সত্ত্বেও, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর মমতা ও তাদেরই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকার করার কারণে উদ্দীপকটি কবিতার মূল চেতনার সার্থক ধারক বলা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও