যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে শিহাব ও রিয়াজ নামে দুইজন প্রশিক্ষক ছিলেন। প্রশিক্ষক শিহাব প্রশিক্ষণার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞান দান করতেন। অন্যদিকে প্রশিক্ষক রিয়াজ প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতেন। এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো প্রয়োজনীয় জ্ঞার্নার্জন ও অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করা।
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যার জনক কে?
- খ)(2)
যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির ক্রমবিকাশের ধারা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি স্বরূপের সঙ্গে যুক্তিবিদ্যার সাদৃশ্য তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যার জনক হলেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে বিজ্ঞান কোনো আদর্শকে সামনে রেখে বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে, তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যা সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্ণয় করে এবং সঠিক চিন্তার নিয়মাবলি প্রদান করে। তাই যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটির মধ্য দিয়ে যুক্তিবিদ্যার নির্দেশ পাওয়া যায়, যার একটি তাত্ত্বিক দিক (বিজ্ঞান) এবং একটি প্রায়োগিক দিক (কলা) রয়েছে।
যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের ধারাকে প্রধানত চারটি যুগে ভাগ করা যায়:
১. প্রাচীন যুগ: এরিস্টটলের হাত ধরে যুক্তিবিদ্যার বিধিবদ্ধ যাত্রা শুরু হয়। তিনি সহানুমান তত্ত্ব ও বিভিন্ন নিয়ম আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে স্টোয়িক ও মেগারীয় দার্শনিকরা একে সমৃদ্ধ করেন।
২. মধ্যযুগ: এ যুগে মুসলিম চিন্তাবিদ (যেমন আল-ফারাবি, ইবনে সিনা) এবং ইউরোপীয় স্কলাস্টিক দার্শনিকরা এরিস্টটলের যুক্তিবিদ্যার সম্প্রসারণ ও ধর্মীয় দর্শনে এর প্রয়োগ ঘটান।
৩. আধুনিক যুগ: ফ্রান্সিস বেকন আরোহ যুক্তিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন এবং জে এস মিল আরোহের নিয়মগুলো সুবিন্যস্ত করেন।
৪. সাম্প্রতিক যুগ: এ যুগে জর্জ বুল, বার্ট্রান্ড রাসেল, হোয়াইটহেড প্রমুখের মাধ্যমে গাণিতিক ও প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার বিপ্লব ঘটে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে শিহাব তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং রিয়াজ ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেন, যার লক্ষ্য তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জন ও বাস্তবে তার প্রয়োগ। এই স্বরূপটি যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান ও কলা উভয় রূপের সঙ্গে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
যুক্তিবিদ্যা কেবল একটি বিজ্ঞান নয়, একই সাথে এটি একটি কলা। বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা বৈধ যুক্তির নিয়মাবলি, যুক্তির আকার ও তাত্ত্বিক কাঠামো আলোচনা করে, যা প্রশিক্ষক শিহাবের তাত্ত্বিক জ্ঞান দানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্যদিকে, কলা হিসেবে যুক্তিবিদ্যা অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞান ও চিন্তার নিয়মগুলোকে আমাদের বাস্তব চিন্তায় ও সত্য অনুসন্ধানে নির্ভুলভাবে প্রয়োগ করতে শেখায়, যা প্রশিক্ষক রিয়াজের হাতে-কলমে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের অনুরূপ।
যুক্তিবিদ আলড্রিচ যুক্তিবিদ্যাকে কেবল কলা এবং হ্যামিল্টন একে কেবল বিজ্ঞান বললেও মিল ও কার্ভেথ রিড যুক্তিবিদ্যাকে একই সাথে বিজ্ঞান ও কলা উভয় রূপেই সংজ্ঞায়িত করেছেন। সুতরাং, উদ্দীপকের প্রশিক্ষণটির মতোই যুক্তিবিদ্যার প্রকৃতি তত্ত্ব ও প্রয়োগের এক অনন্য সমন্বয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও