পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ফলে 'ক' নামক দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। দেশটির দুটি অংশে বিভক্ত। মাঝখানে বড় একটি রাষ্ট্রের অবস্থান। স্বাধীনতা লাভের পর শাসকগোষ্ঠীর একটি অঞ্চলের জনগণের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালাতে শুরু করে । নির্যাতিত অঞ্চলের জনগণের ভাষার ওপর শাসকগোষ্ঠী আঘাত করে। সর্বস্তরের জনগণ প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু করে। ফলশ্রুশ্রুতিতে শাসকগোষ্ঠী তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। আন্দোলনকারী জনগণের মধ্যে জন্ম নেয় একটি নতুন চেতনা, যা পরবর্তীকালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
কত তারিখে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়?
- খ)(2)
“বাঙালির ম্যাগনাকার্টা” বলা হয় কোন কর্মসূচিকে এবং কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্দোলনের সাথে তোমার পঠিত যে আন্দোলনে সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্দোলনের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচিকে 'বাঙালির ম্যাগনাকার্টা' বা মুক্তির সনদ বলা হয়।
১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন জনগণের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষায় ঐতিহাসিক 'ম্যাগনাকার্টা' সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। একইভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ৬ দফার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। বাঙালি জাতিকে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত করার মূল দলিল ছিল বিধায় একে বাঙালির ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্দোলনের সাথে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়ে মাঝখানে বিশাল দূরত্ব নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে অস্বীকার করে এবং উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত চালায়। বাঙালিরা এর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রটির দুই অংশের ভৌগোলিক দূরত্ব এবং এক অংশের ওপর অন্য শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক ভাষার ওপর আঘাত হানা ও তার বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিষয়টি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সরাসরি নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলন অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা ছিল ভিত্তিপ্রস্তরস্বরূপ ও অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
ভাষা আন্দোলন কেবল মায়ের ভাষাকে রক্ষা করার আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল পাকিস্তানি শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম সফল গণআন্দোলন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির রক্তদানের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির মনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের দৃঢ় ভিত্তি রচিত হয়।
এই জাতীয়তাবাদী চেতনাই পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা কর্মসূচি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত আত্মবিশ্বাস ও ঐক্যই শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও