ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র প্রশ্ন
সিমেন্স লি. নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম ব্যবসায়ের সাথে জড়িত একটি বহুজাতিক কোম্পানি। বর্তমানে কোম্পানিটির ঋণ ও শেয়ার মূলধনের পরিমাণ সমান। নতুন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের জন্য কোম্পানিটি সমপরিমাণ ঋণ ও শেয়ার ইস্যু করতে চায়। বর্তমানে কোম্পানিটি ১০ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জন করেছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের নিট মুনাফার ১০০% লভ্যাংশ প্রদান করেছে।
- ক)(1)
ব্যবসায় অর্থায়ন কী?
- খ)(2)
স্বল্পমেয়াদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
কোম্পানিটি নিট মুনাফার ১০০% লভ্যাংশ প্রদান করায় কোম্পানিটির কী কী সমস্যা হতে পারে তা অর্থায়ন কার্যাবলির আলোকে উল্লেখ করো ।
- ঘ)(4)
প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থানে কোম্পানিটির সমপরিমাণ ঋণ ও শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্তের তুলনামূলক সুবিধা ও অসুবিধা বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ, সুষ্ঠু বিনিয়োগ, ব্যবস্থাপনা এবং মুনাফা বণ্টনের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বল্পমেয়াদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বলতে একটি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখার জন্য চলতি সম্পদ ও চলতি দায়ের কাম্য বা ভারসাম্যপূর্ণ স্তর বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নগদ অর্থ, প্রাপ্য হিসাব, মজুদ পণ্য ইত্যাদি চলতি সম্পদের সঠিক তদারকি করা এবং তাৎক্ষণিক দেনা পরিশোধের সামর্থ্য বা তারল্য নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানিটি নিট মুনাফার ১০০% লভ্যাংশ হিসেবে প্রদান করায় এটি অভ্যন্তরীণ অর্থসংস্থান ও পুনর্বিনিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, যা অর্থায়ন কার্যাবলির দৃষ্টিতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থায়ন কার্যাবলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো মুনাফা বণ্টন বা লভ্যাংশ সিদ্ধান্ত। অর্জিত নিট মুনাফার পুরোটাই লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করে দিলে প্রতিষ্ঠানে কোনো ‘সংরক্ষিত আয়’ (Retained Earnings) অবশিষ্ট থাকে না।
উদ্দীপকের সিমেন্স লি. ১০ কোটি টাকার কর-পরবর্তী নিট মুনাফার সম্পূর্ণটাই লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বণ্টন করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের যেসকল সমস্যা হতে পারে:
১. অভ্যন্তরীণ তহবিলের শূন্যতা: ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ বা নতুন প্রকল্পের জন্য কোম্পানি কোনো অভ্যন্তরীণ সস্তা তহবিল ব্যবহার করতে পারবে না।
২. তারল্য সংকট ও ঝুঁকি: ভবিষ্যতে আকস্মিক ব্যয় বা লোকসান মেটানোর কোনো আর্থিক সুরক্ষা কবচ থাকবে না।
৩. বহিঃস্থ উৎসের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা: নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য সম্পূর্ণভাবে ঋণ বা নতুন শেয়ার ইস্যুর মতো ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাহ্যিক উৎসের ওপর নির্ভর করতে হবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থানে সিমেন্স লি.-এর সমপরিমাণ ঋণ ও শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্তের তুলনামূলক সুবিধা ও অসুবিধা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
কোম্পানিটি বর্তমানে ঋণ ও শেয়ারের আনুপাতিক হার সমান (৫০:৫০) বজায় রেখেছে এবং নতুন প্রকল্পেও সমপরিমাণ ঋণ ও শেয়ার ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সুবিধাসমূহ:
১. কাম্য মূলধন কাঠামো রক্ষা: সমপরিমাণ ঋণ ও ইকুইটি ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানের মূলধন কাঠামোর ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
২. কর রেয়াত সুবিধা: ঋণ মূলধনের ওপর প্রদেয় সুদ একটি পরিচালন ব্যয় হিসেবে গণ্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠান কর ছাড় পায়, যা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক মূলধন ব্যয় কমাতে সাহায্য করে।
৩. নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকির ভারসাম্য: নতুন শেয়ার ইস্যু করায় আর্থিক ঝুঁকি (Financial Distress) হ্রাস পায় এবং ঋণ গ্রহণের ফলে শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা খুব বেশি ক্ষুণ্ণ হয় না।অসুবিধাসমূহ:
১. আর্থিক ঝুঁকি বৃদ্ধি: ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কোম্পানির বাধ্যতামূলক সুদ ও আসল পরিশোধের দায় বৃদ্ধি পায়, যা আয়ের অনিশ্চয়তার সময় দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
২. নিয়ন্ত্রণ হ্রাস: নতুন সাধারণ শেয়ার ইস্যু করার ফলে কোম্পানির বিদ্যমান মালিকদের ভোটাধিকার এবং মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ কিছুটা হ্রাস পায় (Dilution of Control)।
৩. ইস্যু ব্যয়: নতুন শেয়ার ও ঋণপত্র ইস্যু করার জন্য প্রসপেক্টাস তৈরি, অবলেখন কমিশন ইত্যাদি বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উত্তরণ ব্যয় (Flotation Cost) নির্বাহ করতে হয়।অতএব, সমপরিমাণ ঋণ ও শেয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে কোম্পানিটি আর্থিক ঝুঁকি ও মূলধন ব্যয়ের মাঝে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে সমর্থ হলেও ঋণের স্থায়ী দায় এবং শেয়ারের মালিকানা হ্রাসের মতো নেতিবাচক দিকগুলো কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও