উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব সাজু আহম্মেদ কক্সবাজারে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘সি ক্রাউন’ নামে একটি আবাসিক হোটেল পরিচালনা করেন। প্রমদিকে লাভজনক থাকলেও হোটেলের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে তেমন মুনাফা অর্জন করতে পারছেন না। এজন্য তিনি হোটেলে অতিথিদের জন্যনতুন অনেক সুবিধা চালু করেছেন পাশাপাশি তিনি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অতীত ক্রেতাদের সাথে মুঠোফোনে এ সকল সুবিধার কথা জানানোর চিন্তা করছেন।

  1. ক)

    চাহিদা কী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক বিপণন যুগ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    ‘সি ক্রাউন’ হোটেলটি বিপণনের ক্রমবিকাশের পর্যায়ের কোন যুগের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রতিযোগিতার সুবিধা অর্জনের জন্য উদ্দীপকের জনাব সাজু আহম্মেদের চিন্তা কি যৌক্তিক? বিপণন ক্রমবিকাশের পর্যায় উল্লেখপূর্বক মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের অভাব যখন অর্থ ব্যয়ের সামর্থ্য এবং অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা দ্বারা সমর্থিত হয়, তখন তাকে চাহিদা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক বিপণন যুগ বলতে বিপণন ইতিহাসের সেই পর্যায়কে বোঝায়, যেখানে ক্রেতাসন্তুষ্টি ও ব্যবসায়িক মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
    বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে শুরু হওয়া এ যুগে কেবল পণ্য বিক্রি বা সাময়িক তৃপ্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সমাজের পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের যেন কোনো ক্ষতি না হয়—সে বিষয়টি বিবেচনা করে বিপণন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘সি ক্রাউন’ হোটেলটি বিপণনের ক্রমবিকাশের পর্যায়ের 'মার্কেটিং যুগ' বা 'বিপণন যুগ'-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    বিপণন যুগ (Marketing Era) শুরু হয় মূলত ১৯৫০-এর দশক থেকে। এ যুগের মূল দর্শন ছিল ক্রেতার প্রয়োজন ও সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করে সব ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব সাজু আহম্মেদ ২০০০ সালে কক্সবাজারে ‘সি ক্রাউন’ হোটেলটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন সেখানে প্রতিযোগীর সংখ্যা কম ছিল এবং তিনি পর্যটকদের আবাসন সেবা প্রদানের মাধ্যমে লাভজনকভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছিলেন। সেবাধর্মী পণ্যের সন্তুষ্টি প্রদানের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করাই ছিল তখন তাদের মূল লক্ষ্য, যা মূলত বিপণন যুগের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে বাজারে সুবিধা অর্জনের জন্য জনাব সাজু আহম্মেদের অতীত ক্রেতাদের সাথে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপনের চিন্তা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। বিপণনের ক্রমবিকাশের পর্যায় অনুযায়ী এটি 'সম্পর্কভিত্তিক বিপণন যুগ' (Relationship Marketing Era)-এর অন্তর্গত।

    ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে সম্পর্কভিত্তিক বিপণন যুগের বিকাশ ঘটে। এই যুগের মূল দর্শন হলো কেবল এককালীন পণ্য বা সেবা বিক্রি না করে ক্রেতাদের সাথে দীর্ঘমেয়াদি ও সুদৃঢ় সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং গ্রাহককে ধরে রাখা (Customer Retention)। নতুন ক্রেতা আকর্ষণের চেয়ে বর্তমান ও পুরাতন ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রেখে পুনরায় ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা অনেক বেশি ব্যয়সাশ্রয়ী ও লাভজনক।

    উদ্দীপকে কক্সবাজারে হোটেলের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে, ফলে স্বাভাবিক বিপণন কৌশলে সি ক্রাউন হোটেল পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন করতে পারছে না। এমতাবস্থায় জনাব সাজু আহম্মেদ নতুন সুযোগ-সুবিধা চালুর পাশাপাশি মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে পূর্ববর্তী অতিথিদের সাথে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। আধুনিক যুগে পর্যটন ও হোটেল ব্যবসার মতো সেবা খাতের জন্য সম্পর্কভিত্তিক বিপণনই টিকে থাকার ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের প্রধান কৌশল।

    অতএব, সম্পর্কভিত্তিক বিপণন যুগের ধারণার সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনাব সাজু আহম্মেদের এই উদ্যোগটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য শতভাগ যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন