অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
শিক্ষিতের হার কম হওয়া সত্ত্বেও এক সময় 'ক' দেশটির জনগণ সুখে শান্তিতে বাস করতো। গোলাভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ- এসবই তাদের ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বর্তমানে তারা এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যে, উৎপাদিত পণ্য দ্বারা জনগণের খাদ্যের সংস্থান সঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। ফলে ছিনতাই, রাহাজানি বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে অনেক মানুষের প্রাণহানিও ঘটেছে।
- ক)(1)
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি লেখ।
- খ)(2)
অধিক জনসংখ্যা কীভাবে স্বল্প মাথাপিছু আয়ের কারণ হিসেবে কাজ করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে কোন জনসংখ্যা তত্ত্বের সাদৃশ্য রয়েছে?- কেন?
- ঘ)(4)
'ক' দেশটির বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মূলত কি দায়ী বলে তুমি মনে কর? এ থেকে উত্তোরণের উপায় নির্দেশ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
জনসংখ্যার ঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা / মোট ভূমির আয়তন (বর্গ কি.মি.)। - খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাথাপিছু আয় হলো মোট জাতীয় আয়কে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করার ফল। কোনো দেশে জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হলে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ হ্রাস পায়। অর্থাৎ, জাতীয় উৎপাদন বা আয় যে হারে বাড়ে, অতিরিক্ত জনসংখ্যা সে বৃদ্ধির সুফলকে হ্রাস করে দেয়। ফলে অধিক জনসংখ্যা স্বল্প মাথাপিছু আয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের (Malthusian Theory of Population) সাদৃশ্য রয়েছে।
ম্যালথাসের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬...) এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫...)। ফলে সময়ের ব্যবধানে দেশে জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। মানুষ অনাহার, দারিদ্র্য ও অপরাধের দিকে ধাবিত হয় এবং একপর্যায়ে দুর্ভিক্ষ, মহামারি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপায়ে (Positive Checks) অতিরিক্ত জনসংখ্যা হ্রাস পায়।
উদ্দীপকের 'ক' দেশে অতীতে প্রাচুর্য থাকলেও বর্তমানে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে খাদ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সামাজিক বিশৃঙ্খলা বা রাহাজানি বাড়ছে এবং বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি ঘটছে। এই ঘটনাগুলো ম্যালথাসের তত্ত্বেরই বাস্তব প্রতিফলন নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক' দেশটির বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মূলত জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যকার ভারসাম্যহীনতা এবং অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি দায়ী।
ম্যালথাসীয় তত্ত্ব অনুযায়ী, খাদ্য উৎপাদনের তুলনায় জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে দেশে দারিদ্র্য, অভাব-অনটন এবং অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়। পরিশেষে প্রকৃতিগত উপায়ে জনসংখ্যা সাম্যাবস্থায় আসার চেষ্টা করে। উদ্দীপকের 'ক' দেশেও খাদ্য ঘাটতি, সামাজিক বিশৃঙ্খলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত মূলত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায়গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ: কৃত্রিম বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (Preventive Checks) গ্রহণ করে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা।
২. কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: উচ্চফলনশীল বীজ, আধুনিক সেচ ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করা।
৩. মানবসম্পদ উন্নয়ন: জনগণকে শিক্ষিত ও কারিগরি দক্ষতায় গড়ে তুলে বোঝা না বানিয়ে সম্পদে রূপান্তর করা।
৪. কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন: কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি শিল্প ও সেবা খাতের দ্রুত প্রসার ঘটিয়ে বেকারত্ব ও অপরাধ দূর করা।সুতরাং, কার্যকর পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জন্মহার হ্রাস করাই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের প্রধান উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও