বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
সজল জীবনে অনেক আত্মপ্রবঞ্চনা করে করে অশেষ যন্ত্রণা ভোগ করেছে। কত রাত্রি অনুশোচনায় তার ঘুম হয়নি। এখন তার আত্মপোলব্ধি হয়েছে। সে ভাবে আমি যা ভাল বুঝি, যা সত্য বুঝি, শুধু সেটুকু প্রকাশ করব। তাতে লোকে যতই নিন্দা করুক, আমি আমার কাছে ছোট হয়ে থাকব না, আত্মপ্রবঞ্চনা করে আর আত্মযন্ত্রণা ভোগ করব না।
- ক)(1)
“আমার পথ" প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
- খ)(2)
'মানুষ-ধৰ্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকটি আমার পথ প্রবন্ধের সঙ্গে কোন দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে উদ্দীপকটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের খণ্ডচিত্র।" আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“আমার পথ” প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্র-মঙ্গল' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম” বলতে বোঝানো হয়েছে যে বাহ্যিক ধর্মীয় বিভেদ বা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের চেয়ে মানুষের মানবিক সত্তা ও মানবকল্যাণই সর্বোত্তম।
কাজী নজরুল ইসলামের মতে, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আচার-অনুষ্ঠানের পার্থক্য থাকলেও মূল সত্য হলো সবাই মানুষ। ধর্মের নামে ভেদাভেদ, বিদ্বেষ ও হানাহানি মূলত মানুষের মিলনের পথকে রুদ্ধ করে। তাই সমস্ত সংকীর্ণতা ও গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে মানুষকে মর্যাদা দেওয়া এবং অন্তরের ঐক্য স্থাপন করাই প্রকৃত ধর্ম। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের আত্মপ্রবঞ্চনা বর্জন এবং নিজের অন্তরের সত্য ও বিশ্বাসকে অকপটে প্রকাশ করার দিকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নজরুল ইসলাম স্পষ্ট বলেছেন যে, তিনি যা সত্য বলে বোঝেন, তা দ্বিধাহীনভাবে প্রকাশ করবেন। পরকে খুশি করতে গিয়ে বা নিন্দার ভয়ে নিজের সত্যকে অস্বীকার করা হলো আত্মপ্রবঞ্চনা, যা মানুষকে ভীরু ও দাসত্বপ্রিয় করে তোলে।
উদ্দীপকের সজল অতীতে আত্মপ্রবঞ্চনা করে বহু মানসিক যন্ত্রণা ও অনুশোচনা ভোগ করেছে। অবশেষে তার আত্মোপলব্ধি হয়েছে যে, সে যা ভালো ও সত্য মনে করবে, কেবল তা-ই প্রকাশ করবে; নিন্দার ভয়ে নিজের কাছে ছোট হবে না। সজলের এই আত্মপ্রবঞ্চনা থেকে মুক্তির অঙ্গীকার এবং সত্যকে প্রকাশ করার চেতনা 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল সুরের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে উদ্দীপকটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের খণ্ডচিত্র"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধটি একটি বহুমাত্রিক চেতনার প্রকাশ। এতে যেমন রয়েছে আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের সত্যকে পথপ্রদর্শক মানার আহ্বান, তেমনি রয়েছে আত্মপ্রবঞ্চনা পরিহার, মেকি বিনয় বর্জন এবং ভণ্ডামি ভাঙার প্রত্যয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নজরুল এই আত্মোপলব্ধিকে কেবল ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং একে রূপান্তরিত করেছেন পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি, গোলামির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সত্যের মাধ্যমে ভারতীয় পরাধীন সমাজকে জাগিয়ে তোলার সম্মিলিত শক্তিতে।
অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল সজলের আত্মপ্রবঞ্চনাজনিত যন্ত্রণা এবং সেখান থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের উপলব্ধ সত্য প্রকাশের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। সজলের উপলব্ধি ব্যক্তিকেন্দ্রিক অনুশোচনা ও নৈতিক উত্তরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু 'আমার পথ' প্রবন্ধের বৃহত্তর চেতনা—যেমন মিথ্যা বিনয় ত্যাগ, নির্ভীক নেতৃত্ব, সাম্প্রদায়িকতার অবসান ও জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম—উদ্দীপকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
অতএব, উদ্দীপকটি প্রবন্ধের কেবল ব্যক্তিক আত্মপ্রবঞ্চনা পরিহারের অংশটিকে ধারণ করায় সামগ্রিক ভাব প্রকাশের দিক থেকে এটি নিঃসন্দেহে 'আমার পথ' প্রবন্ধের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও