অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নজরুল সাহেব বাজার থেকে ফিরে বিরক্তির সুরে তার সহকর্মীকে বললেন, আর বলবেন না ভাই, গত বছর সবজি প্রতি কেজি ১০ টাকা করে কিনেছি। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। এই দেখুন, ১ কেজি একই সবজি কিনলাম ২০ টাকা দরে।
- ক)(1)
মুদ্রাস্ফীতি কী?
- খ)(2)
চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে সবজির দামের ভিত্তিতে বর্তমান বছরের ভোক্তার দামসূচক নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের মুদ্রাস্ফীতির সব কারণ উল্লেখ হয়নি"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে যখন দ্রব্যের সামগ্রিক দামস্তর ক্রমাগত ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায় এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, তখন সেই অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে সামগ্রিক জোগানের তুলনায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে যখন দামস্তরের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ঘটে, তখন তাকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand-Pull Inflation) বলে।
জনগণের আয় বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি বা ব্যাংক ঋণের সম্প্রসারণের ফলে দ্রব্যের প্রতি মানুষের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে সে অনুপাতে উৎপাদন বা জোগান বৃদ্ধি না পেলে বাজারে অতিরিক্ত চাহিদার চাপ তৈরি হয়, যার ফলে দ্রব্যের দামস্তর বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভোক্তার দামসূচক (Consumer Price Index - CPI) নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
ভোক্তার দামসূচক () =উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী:
ভিত্তি বছর বা গত বছরের প্রতি কেজি সবজির দাম () = ১০ টাকা
চলতি বছর বা বর্তমান বছরের প্রতি কেজি সবজির দাম () = ২০ টাকাঅতএব, চলতি বছরের ভোক্তার দামসূচক:
সুতরাং, সবজির দামের ভিত্তিতে বর্তমান বছরের ভোক্তার দামসূচক হলো ২০০।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের মুদ্রাস্ফীতির সব কারণ উল্লেখ হয়নি"— উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিসংগত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সবজির জোগান হ্রাস পেয়ে এর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি মুদ্রাস্ফীতির 'ব্যয় বৃদ্ধিজনিত' বা 'উৎপাদন/জোগান হ্রাসজনিত' কারণের একটি বিশেষ দিক। কিন্তু বাস্তবে একটি অর্থনীতিতে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জোগান হ্রাসের একক কারণে ঘটে না; এর পেছনে চাহিদা ও জোগান উভয়ের বহুবিধ কারণ বিদ্যমান। নিচে উদ্দীপকে অনুচ্চারিত মুদ্রাস্ফীতির অন্যান্য প্রধান কারণসমূহ তুলে ধরা হলো:
১. অর্থের জোগান বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি অতিরিক্ত অর্থ ছাপায় বা ঋণ সম্প্রসারণ করে, তবে বাজারে অর্থের জোগান বেড়ে গিয়ে দামস্তর বৃদ্ধি পায়।
২. সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি: সরকার অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যাপক ব্যয় করলে জনগণের হাতে বাড়তি নগদ টাকা যায়, যা সামগ্রিক চাহিদা ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ায়।
৩. উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি: কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ, শ্রমিকের মজুরি এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ে, ফলে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।
৪. জনসংখ্যা ও সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি: দেশের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে দ্রব্যের স্বাভাবিক চাহিদা জোগানের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, যা মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়।
৫. আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতি: আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা কাঁচামালের দাম বাড়লে আমদানিকৃত পণ্যের মাধ্যমে দেশে মুদ্রাস্ফীতি সঞ্চারিত হয়।
৬. মজুদদারি ও সিন্ডিকেট: অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও কারসাজির কারণেও দাম বাড়ে।
সুতরাং, উদ্দীপকে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সবজির একক দাম বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির বহুবিধ কাঠামোগত, আর্থিক ও ব্যষ্টিক কারণকে সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত করে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও