পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
আহনাফ একজন মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিবিদ। তিনি বিশ্বাস করেন, কৃষকদের উন্নতির ওপর দেশের উন্নতি নির্ভরশীল। তাই তিনি কৃষকদের কল্যাণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য সকলের জন্য দুবেলা ন্যূনতম খাবার নিশ্চিত করা।
- ক)(1)
বেঙ্গল প্যাক্ট কী?
- খ)(2)
লাহোর প্রস্তাব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতা কৃষকদের কল্যাণে কি অবদান রেখেছেন? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, তা 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নামে পরিচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে একে ফজলুল হক যে ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাকে লাহোর প্রস্তাব বলা হয়।
এই প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম 'রাষ্ট্রসমূহ' গঠনের দাবি জানানো হয়েছিল। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মানবতাবাদী ও কৃষকবান্ধব নেতা আহনাফের সাথে আমার পঠিত মহান নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
শেরে বাংলা ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী এবং জনগণের প্রাণপ্রিয় নেতা। উদ্দীপকে আহনাফের মতো তিনিও বিশ্বাস করতেন বাংলার কৃষক ও সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ছাড়া সমগ্র দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার শোষিত ও ঋণগ্রস্ত কৃষকদের দুর্দশা লাঘব করা এবং সবার জন্য অন্নের সংস্থান করা।
তিনি 'প্রজা সমিতি' গঠন করেন, যা পরবর্তীতে 'কৃষক প্রজা পার্টি'-তে রূপান্তরিত হয়। তাঁর রাজনীতি ছিল নিখাদভাবে মেহনতি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। উদ্দীপকের নেতা আহনাফের চিন্তাধারা ও কর্মপন্থা হুবহু শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের রাজনৈতিক জীবন ও দর্শনের সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক বাংলার কৃষকদের কল্যাণে ও তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন।
তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় কৃষকরা জমিদার ও মহাজনদের অন্যায় শোষণ ও চড়া সুদের চাপে সর্বস্বান্ত হতো। এ অবস্থা নিরসনে ফজলুল হক যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন (১৯৩৮): ১৯৩৭ সালে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন করে জমিদারের অন্যায় কর আদায়, সেলামি প্রথা ও জমি বাজেয়াপ্ত করার অধিকার বিলোপ করেন এবং জমিতে কৃষকদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করেন।
২. ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন: তিনি ১৯৩৮ সালে 'কৃষক ঋণ আইন' পাস করেন এবং এর অধীনে গ্রামগঞ্জে 'ঋণ সালিশি বোর্ড' প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে মহাজনদের মাত্রাতিরিক্ত সুদের হাত থেকে লক্ষ লক্ষ দরিদ্র কৃষক রেহাই পায় এবং বহু কৃষকের বন্ধকি জমি উদ্ধার হয়।
৩. মহাজনি আইন (১৯৪০): এই আইনের মাধ্যমে মহাজনদের সুদের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, ফলে কৃষকদের ঋণের দায়ে সর্বস্ব হারানোর পথ বন্ধ হয়।
৪. 'ডাল-ভাত' কর্মসূচি: তিনি বাংলার সাধারণ দরিদ্র মানুষের ন্যূনতম অন্ন সংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলেন।অতএব, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের গৃহিত এসব বাস্তবমুখী ও মানবিক পদক্ষেপ বাংলার কৃষক সম্প্রদায়কে মুক্তির পথ দেখিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও