যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: জলিল হয় মরণশীলকরিম হয় মরণশীলশ্যামল হয় মরণশীলকমল হয় মরণশীল∴\therefore সকল মানুষ হয় মরণশীল।দৃশ্যকল্প-২: এ যাবৎ যত টিয়া পাখি দেখেছি সবই সবুজঅন্য রঙের কোনো টিয়া পাখি দেখিনি∴\thereforeসব টিয়া পাখি হয় সবুজ।
- ক)(1)
আরোহ কাকে বলে?
- খ)(2)
আরোহমূলক উল্লম্ফন আরোহের প্রাণকেন্দ্র কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-২ এ কোন প্রকার আরোহের ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ ও ২ এ বর্ণিত আরোহের তুলনামূলক পার্থক্য দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত বা ঘটনার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে আরোহ অনুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে, বিশেষ থেকে সার্বিকে এবং নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিতে পদার্পণ করার মানসিক প্রক্রিয়াকে আরোহমূলক উল্লম্ফন বলা হয়। আরোহের মূল উদ্দেশ্যই হলো কয়েকটি দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সত্য প্রতিষ্ঠা করা। যদি জ্ঞাত বা নিরীক্ষিত বিষয় থেকে নতুন বা অনিরীক্ষিত বিষয়ে উল্লম্ফন না ঘটে, তবে তাকে আরোহ বলা যায় না; তা কেবল ঘটনার সাধারণ বর্ণনা মাত্র থেকে যায়। তাই আরোহমূলক উল্লম্ফনকে আরোহের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত অবৈজ্ঞানিক আরোহ বা অপূর্ণ গণনামূলক আরোহের ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কারণ-কার্য সম্পর্ক নির্ণয় না করে কেবল অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবং কোনো বিপরীত দৃষ্টান্তের অনুপস্থিতিতে যখন একটি সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তখন তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।
দৃশ্যকল্প-২ এ দেখা যায়, পর্যবেক্ষক এ যাবৎ যত টিয়া পাখি দেখেছেন সবগুলোই সবুজ ছিল এবং কোনো ভিন্ন রঙের টিয়া পাখি দেখতে পাননি। এখানে রঙের সাথে টিয়া পাখির কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়নি; কেবল অবাধ ও অবিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে 'সব টিয়া পাখি হয় সবুজ'—এই সার্বিক সিদ্ধান্তটি টানা হয়েছে। ফলে এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহের স্পষ্ট প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং দৃশ্যকল্প-২ এ অবৈজ্ঞানিক আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে এ দুটির তুলনামূলক পার্থক্য তুলে ধরা হলো:
১. কার্যকারণ সম্পর্ক: দৃশ্যকল্প-১ (বৈজ্ঞানিক আরোহ)-এ মানুষের মৃত্যুর সাথে তার জৈবিক গঠনের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ সম্পর্ক বর্তমান থাকে, যার ফলে 'সকল মানুষ হয় মরণশীল' সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ (অবৈজ্ঞানিক আরোহ)-এ টিয়া পাখির সাথে সবুজ রঙের কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয় না, কেবল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করা হয়।
২. আরোহের নিয়ম বা ভিত্তি: বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম—উভয় মৌলিক নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অপরদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহ কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর আংশিক নির্ভর করে, কার্যকারণ নিয়মের ওপর নয়।
৩. নিশ্চয়তা: দৃশ্যকল্প-১ এর সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তা নিশ্চিত ও সার্বজনীন। অপরদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এর সিদ্ধান্ত কেবল অবাধ অভিজ্ঞতার ফল হওয়ায় তা সম্ভাব্য; ভবিষ্যতে একটি ভিন্ন রঙের টিয়া পাখি দেখা গেলেই সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হতে পারে।
৪. স্তর ও জটিলতা: বৈজ্ঞানিক আরোহের প্রক্রিয়া জটিল, সুশৃঙ্খল এবং বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহ একটি লৌকিক ও সাধারণ পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া।
অতএব, দৃশ্যকল্প-১ যথার্থ ও বৈজ্ঞানিক সত্য প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে দৃশ্যকল্প-২ কেবল একটি সম্ভাব্য সত্য নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও