যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
বৈশিষ্ট্য-১: জটিল, দুর্বোধ্য, রহস্যাবৃত বিষয়কে সহজ-সরল, সাবলীল ও স্পষ্টীকরণ করা।বৈশিষ্ট্য-২: অনুমান, প্রকল্প, সংযুক্তিকরণ এবং শ্রেণিকরণের সাথে সম্পর্কিত।বৈশিষ্ট্য-৩: অজ্ঞানতা, অতিপ্রাকৃতিকতা, অলৌকিকতা, গোঁড়ামি ও অন্ধবিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত।
- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ কয়টি?
- খ)(2)
'চিন্তার মৌলিক নিয়ম' এর কেন ব্যাখ্যা হয় না?
- গ)(3)
বৈশিষ্ট্য-১ এ কীসের ইঙ্গিত করা হয়েছে? ইহার প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বৈশিষ্ট্য-২ এবং বৈশিষ্ট্য-৩ এ নির্দেশিত বিষয়ে বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের (Carveth Read) মতে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ ৩টি (বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলীকরণ ও অন্তর্ভুক্তি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিন্তার মৌলিক নিয়মগুলো (যেমন: তাদাত্ম্য নিয়ম, বিরোধ নিয়ম, নির্মধ্য নিয়ম) স্বতঃসিদ্ধ এবং পরম নিয়ম। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার নিয়ম অনুযায়ী কোনো নিয়মকে ব্যাখ্যা করতে হলে তাকে তার চেয়ে অধিক ব্যাপক কোনো উচ্চতর নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। কিন্তু চিন্তার মৌলিক নিয়মের চেয়ে অধিক ব্যাপক কোনো নিয়ম নেই, যা দ্বারা এদের ব্যাখ্যা করা সম্ভব। তাই চিন্তার মৌলিক নিয়মের কোনো ব্যাখ্যা হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্য-১ এ 'ব্যাখ্যা' (Explanation) এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইংরেজি 'Explanation' শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'Explanare' থেকে এসেছে, যার অর্থ সহজ বা পরিষ্কার করা। কোনো জটিল, অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজ, সরল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করার প্রক্রিয়াকেই ব্যাখ্যা বলে। দৈনন্দিন জীবনে মানুষ নানা প্রাকৃতিক ও মানসিক রহস্যময় ঘটনার সম্মুখীন হয়। এসব বিষয় যখন মানুষের কাছে দুর্বোধ্য বা অজ্ঞেয় থাকে, তখন মানুষ বিভ্রান্ত হয়। ব্যাখ্যা কোনো ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের মাধ্যমে বা বিষয়টিকে সহজতর ধারণার সাথে যুক্ত করে আমাদের কাছে স্পষ্ট করে তোলে। ফলে জগতের জটিল ঘটনাবলি সহজ-সরল ও অর্থবহ রূপ লাভ করে, যা মানুষের জ্ঞানের পরিধিকে সম্প্রসারিত করে। তাই মানবজ্ঞানের বিকাশে ব্যাখ্যার প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্য-২ নির্দেশ করছে 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' এবং বৈশিষ্ট্য-৩ নির্দেশ করছে 'লৌকিক ব্যাখ্যা'। নিম্নে এদের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কার্যকারণ সম্পর্ক: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো ঘটনার অন্তর্নিহিত প্রাকৃতিক কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করে ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয়। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যায় কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো বিচার না করে অলৌকিক, অতিপ্রাকৃতিক বা কাল্পনিক শক্তির সাহায্য নেওয়া হয়।
২. প্রকল্পের ভূমিকা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রকল্প গঠন, প্রমাণ, সংযুক্তিকরণ এবং শ্রেণিকরণের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। পক্ষান্তরে, লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো যুক্তিযুক্ত প্রকল্প থাকে না; এটি কেবল মানুষের অজ্ঞানতা, অন্ধবিশ্বাস ও গোঁড়ামির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৩. বিষয়নিষ্ঠতা ও ব্যক্তিভেদে রূপ: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বস্তুনিষ্ঠ ও সার্বজনীন; ব্যক্তিভেদে এর কোনো পরিবর্তন ঘটে না। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিনিষ্ঠ বা আত্মগত; বিভিন্ন ব্যক্তির বিশ্বাস ও কল্পনার ওপর ভিত্তি করে এটি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
৪. যাচাইযোগ্যতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পরীক্ষণ ও নিরীক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণ ও যাচাই করা যায়। অথচ লৌকিক ব্যাখ্যা কোনো প্রমাণসাপেক্ষ নয় এবং একে বাস্তব পরীক্ষা দ্বারা যাচাই করা যায় না।সুতরাং, বৈশিষ্ট্য-২ এবং বৈশিষ্ট্য-৩ এর মধ্যে মৌলিক ও বিজ্ঞানসম্মত চিন্তাভাবনার দিক থেকে গভীর বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও