অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
গ্রামে বসবাসকারী রহিম মিয়া একজন গরিব কৃষক। অন্যের জমি চাষ করে কোনোভাবে তিনি পরিবারের ভরণ পোষণ করেন। এ বছর বন্যার পানিতে তার জমির ফসল ডুবে যায়। বন্যার ফলে খাদ্য শস্যের দামও বেশি। ফলে রহিম মিয়ার পরিবারের সদস্যদের প্রায় দিনই না খেয়ে কাটাতে হয়। অন্যদিকে, শহরে বসবাসকারী আফজাল হোসেন অসাধু মৌসুমি ফল বিক্রেতা। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে সে মৌসুমি ফলে বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্যাদি মেশায়, যা মানুষের নানারকম রোগ ব্যাধি হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
- ক)(1)
খাদ্য নিরাপত্তা কী?
- খ)(2)
খাদ্যের প্রাপ্যতা কীভাবে মজুদ দ্বারা প্রভাবিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে রহিম মিয়ার খাদ্য নিরাপত্তার কোন কোন দিক উপেক্ষিত হয়েছে?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানে সরকার কি ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-র মতে, খাদ্য নিরাপত্তা হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে সকল মানুষের সবসময় সক্রিয় ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর ও পর্যাপ্ত খাদ্যপ্রাপ্তির শারীরিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ ও অধিকার বিদ্যমান থাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্যের প্রাপ্যতা মূলত অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, নিট আমদানি ও মজুদ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুদ থাকলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা বা অন্য কোনো কারণে সাময়িক উৎপাদন ব্যাহত হলেও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, মজুদ ঘাটতি দেখা দিলে বা অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে অবৈধ মজুতদারি গড়ে উঠলে বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। ফলে খাদ্যের প্রাপ্যতা সরাসরি মজুদ দ্বারা প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে রহিম মিয়ার ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান দুটি দিক—'খাদ্যের প্রাপ্যতা' (Food Availability) এবং 'খাদ্য প্রাপ্তির সামর্থ্য বা প্রবেশাধিকার' (Food Accessibility)—উপেক্ষিত হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি মৌলিক উপাদানের মধ্যে প্রথমটি হলো খাদ্যের ভৌত প্রাপ্যতা এবং দ্বিতীয়টি হলো প্রয়োজনীয় খাদ্য ক্রয় করার অর্থনৈতিক সামর্থ্য। উদ্দীপকে দেখা যায়, বন্যায় রহিম মিয়ার জমির ফসল ডুবে গেছে, যার ফলে তার ঘরে খাদ্যের কোনো উৎপাদন বা জোগান নেই; অর্থাৎ ব্যক্তিগত পর্যায়ে খাদ্যের প্রাপ্যতা বিঘ্নিত হয়েছে। আবার বন্যার কারণে বাজারে খাদ্যশস্যের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রহিম মিয়া দরিদ্র কৃষক হওয়ায় চড়া মূল্যে খাদ্য কেনার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য তার নেই। ফলে পরিবারের খাদ্য প্রাপ্তির সুযোগ ও অধিকার চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং তাদের অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। এভাবে উদ্দীপকে রহিম মিয়ার খাদ্য নিরাপত্তার প্রাপ্যতা ও প্রবেশাধিকারের দিক দুটি চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধান এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিকর তৎপরতা রোধে সরকার নিম্নরূপ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে বলে আমি মনে করি:
১. নিরাপদ খাদ্য আইনের কঠোর প্রয়োগ: 'নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩' এবং সংশ্লিষ্ট ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের যথাযথ ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ফলে রাসায়নিকযুক্ত ফল বা খাদ্য বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
২. ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও নিয়মিত নজরদারি: মৌসুমি ফল ও শাকসবজির পাইকারি ও খুচরা বাজারে বিএসটিআই এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) পরিচালনা করতে হবে এবং ফরমালিন ও বিষাক্ত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নিয়মিত টেস্টিং কিট ব্যবহার করতে হবে।
৩. লাইসেন্স বাতিল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: ফলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহারকারী আফজাল হোসেনের মতো অসাধু ব্যবসায়ীদের খাদ্য বিক্রির লাইসেন্স বাতিল, ভারী জরিমানা ও কারাদণ্ডের মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
৪. আধুনিক সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন: ফলমূল দ্রুত পচন রোধে সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত ও স্বল্পব্যয়ী হিমাগার স্থাপন করতে হবে, যাতে কৃষকেরা রাসায়নিক না মিশিয়েও দীর্ঘদিন ফল সংরক্ষণ করতে পারেন।
৫. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: গণমাধ্যম ও অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে রাসায়নিক মিশ্রিত খাদ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয়কেই সচেতন করতে হবে।
অতএব, নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নই নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও