বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
ভাষণ ও দিনলিপি
8.1.
‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে একটি ভাষণ প্রস্তুত করো।
8.2.
তোমার মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ সম্পর্কিত দিনলিপি লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৮.১. ভাষণ:
বিষয়: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা
মাননীয় সভাপতি, উপস্থিত সুধীবৃন্দ এবং আমার প্রিয় সহযোদ্ধা তরুণ সমাজ—সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
আজ আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি সামাজিক ব্যাধি নিয়ে কথা বলতে দাঁড়িয়েছি, তা হলো—বাল্যবিবাহ। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যখন আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি, তখন বাল্যবিবাহের মতো অভিশাপ আমাদের অগ্রযাত্রাকে বারবার ব্যাহত করছে।
বাল্যবিবাহ মূলত একটি কন্যাশিশুর মৌলিক মানবাধিকার হরণ করে। শারীরিক ও মানসিকভাবে অপ্রস্তুত একটি মেয়েকে যখন অপ্রাপ্তবয়সে সংসারের গুরুদায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হয়, তখন তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। সে বঞ্চিত হয় শৈশব থেকে, বন্দি হয়ে যায় গৃহকোণে। বাল্যবিবাহের ফলে অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের কারণে মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অপুষ্টি, রক্তশূন্যতা এবং নানা রকম জটিল রোগ তাদের গ্রাস করে। ফলে একটি দুর্বল ও অপুষ্টিতে আক্রান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্ম হয়।
শুধু স্বাস্থ্যগত দিকই নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও বাল্যবিবাহ একটি বড় অন্তরায়। একটি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অশিক্ষিত ও পরনির্ভরশীল রেখে কোনো জাতি টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না।
বাল্যবিবাহের প্রধান কারণগুলো হলো দারিদ্র্য, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, কুসংস্কার এবং অসচেতনতা। এগুলো প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিবার ও সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। বাল্যবিবাহ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক, ইমাম, অভিভাবক ও যুবসমাজকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
আসুন, আমরা সবাই শপথ গ্রহণ করি—১৮ বছরের আগে বিয়ে নয়, মেয়েদের দেব উপযুক্ত শিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ। বাল্যবিবাহকে না বলি, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। সবাইকে ধন্যবাদ।
৮.২. দিনলিপি:
৬ মে, ২০১৯
রাত ১০:০০ টা
আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম অবিস্মরণীয় ও স্মরণীয় একটি দিন। আজ আমাদের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।
সকাল থেকেই এক অদ্ভুত উত্তেজনা ও ভয় কাজ করছিল। বাবা-মা শান্ত থাকার পরামর্শ দিলেও মনের ভেতর অজানা আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছিল। অবশেষে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ও মোবাইলে ফলাফল দেখতে পেলাম। পর্দায় যখন নিজের রোল নম্বরের পাশে ‘GPA-5.00 (Golden A+)’ ভেসে উঠল, আনন্দে আমার চোখ ভিজে গেল!
বাবা পরম স্নেহে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, আর মা খুশিতে কেঁদে ফেলে মিষ্টির থালা নিয়ে এলেন। একটু পরেই সহপাঠী ও আত্মীয়স্বজনদের ফোন আসতে শুরু করল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলীকে ফোন করে কৃতজ্ঞতা জানালাম। তাঁরা সবাই খুব খুশি হয়ে আশীর্বাদ করলেন।
এই অর্জন কেবল আমার একার নয়; এর পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ এবং শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রম জড়িয়ে আছে। এই ফলাফল আমাকে সামনের উচ্চমাধ্যমিক জীবনে আরও নিষ্ঠার সাথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও