যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

আরিফ বললো, "যখন কোন পদকে মাত্র দু'টি বিরুদ্ধ উপজাতিতে ভাগ করা হয় তখন অনেক সমস্যা দূর করা সহজ হয়।" এই কথা শুনে সুমন মানুষ পদকে বিভাজন করতে গিয়ে বললো, "মানুষ হল সভ্য, শিক্ষিত ও সঞ্জীব।"

  1. ক)

    অঙ্গগত বিভাগ কী?

    (1)
  2. খ)

    ক্ষুদ্রতম উপজাতির যৌক্তিক বিভাগ সম্ভব নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সুমনের বক্তব্যে যৌক্তিক বিভাগের যে অনুপপত্তি ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে আরিফের বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি সামগ্রিক বস্তুকে তার বিভিন্ন বাস্তব অঙ্গ বা অংশে বিভক্ত করাকে অঙ্গগত বিভাগ (Physical division) বলে। যেমন— একটি মানুষকে হাত, পা, মাথা ইত্যাদিতে ভাগ করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক বিভাগ হলো কোনো একটি জাতিকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতিতে বিভক্ত করার মানসিক প্রক্রিয়া। ক্ষুদ্রতম উপজাতি বা অবরতম উপজাতিকে (Infima species) আর কোনো ক্ষুদ্রতর উপজাতিতে ভাগ করা যায় না, একে কেবল ব্যক্তি-মানুষ বা একক বস্তুতে ভাগ করা যায়। ব্যক্তি বা একক সত্তায় ভাগ করা কোনো যৌক্তিক বিভাগ নয়, বরং ব্যক্তি বিভাগ। এছাড়া যৌক্তিক বিভাগে একাধিক উপজাতিতে রূপান্তরের যে সুযোগ থাকা আবশ্যক, ক্ষুদ্রতম উপজাতির ক্ষেত্রে তা থাকে না। তাই ক্ষুদ্রতম উপজাতির যৌক্তিক বিভাগ সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুমনের বক্তব্যে যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে অনুপপত্তি ঘটেছে। যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, একটি বিভাগে একই সময়ে একটি মাত্র মূলসূত্র বা মূলনীতি গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু সুমন 'মানুষ' পদকে ভাগ করতে গিয়ে বলেছে— "মানুষ হলো সভ্য, শিক্ষিত ও সঞ্জীব"।

    এখানে সুমন একই সাথে সভ্যতা (সভ্য/অসভ্য), শিক্ষা (শিক্ষিত/অশিক্ষিত) এবং জীবনীশক্তি বা চেতনা বিষয়ক একাধিক মূলসূত্রকে একসাথে মিশ্রিত করেছে। যৌক্তিক বিভাগের তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী, একটি বিভাগে একের অধিক মূলসূত্র একই সাথে গ্রহণ করা হলে তাকে 'সংকর বিভাগ' (Cross division) অনুপপত্তি বলে।

    যেহেতু সুমন একই সাথে মানুষের সংস্কৃতি বা সভ্যতা, শিক্ষা এবং প্রাণগত সত্তা— একাধিক মানদণ্ড প্রয়োগ করে শ্রেণিবিন্যাস করেছে, যা পরস্পর স্বতন্ত্র নয় এবং এতে কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি বজায় থাকেনি, তাই তার এই বিভাজন সংকর বিভাগ অনুপপত্তিতে দুষ্ট হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আরিফের বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার 'দ্বিকোটিক বিভাগ' (Dichotomy)-কে নির্দেশ করে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিকোটিক বিভাগ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো পদকে একটি নির্দিষ্ট গুণের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ভিত্তিতে দুটি মাত্র পরস্পর বিরোধী (বিরুদ্ধ) উপজাতিতে ভাগ করা হয়। যেমন— মানুষকে 'সৎ' এবং 'অ-সৎ'-এ ভাগ করা।

    আরিফ বলেছে, "যখন কোনো পদকে মাত্র দু'টি বিরুদ্ধ উপজাতিতে ভাগ করা হয় তখন অনেক সমস্যা দূর করা সহজ হয়।" যুক্তিবিদ্যায় এর গুরুত্ব নিম্নরূপ:

    ১. দ্বিকোটিক বিভাগ চিন্তার মৌলিক নিয়ম, বিশেষ করে 'বিরোধ নিয়ম' এবং 'নির্মধ্যম নিয়ম'-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ফলে এতে কোনো বিভ্রান্তি বা অস্পষ্টতা থাকে না।
    ২. এতে কোনো উপজাতি বাদ পড়ার বা কোনো উপজাতি অন্যটির সাথে মিলে যাওয়ার (সংকর বিভাগ হওয়ার) কোনো সম্ভাবনা থাকে না।
    ৩. বাস্তবের বস্তু বা জাতি সম্পর্কে বিস্তারিত বাস্তব জ্ঞান না থাকলেও কেবল 'অ' বা নঞর্থক প্রত্যয় যোগ করে নিখুঁতভাবে বিভাজন সম্পন্ন করা সম্ভব।

    তবে এ পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে, যেমন— এটি একটি কৃত্রিম ও যান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং এর নঞর্থক অংশটির পরিসর অনির্দিষ্ট থেকে যায়। তথাপি সাধারণ যৌক্তিক বিভাগে যেসব নিয়মভঙ্গজনিত জটিলতা ও সমস্যা দেখা দেয়, দ্বিকোটিক বিভাগ প্রয়োগের মাধ্যমে সেগুলোর অনেকটাই সহজে এড়ানো সম্ভব হয়। অতএব, পাঠ্যবইয়ের আলোকে আরিফের বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন