অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

চিত্রটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নের উত্তর দাও:

  1. ক)

    অভিবাসন কী?

    (1)
  2. খ)

    কীভাবে স্থূল জন্মহার পরিমাপ করবে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চিত্রে E ও G বিন্দুতে অসামঞ্জস্যের পরিমাণ নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের তত্ত্বের আলোকে বাংলাদেশের জনসংখ্যার অবস্থান বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্থায়ী বা দীর্ঘকাল বসবাসের উদ্দেশ্যে মানুষের এক ভৌগোলিক অঞ্চল বা দেশ থেকে অন্য ভৌগোলিক অঞ্চল বা দেশে গমন করাকে অভিবাসন (Migration) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট বছরে একটি অঞ্চলে প্রতি ১,০০০ জন মধ্যবর্তীকালীন জনসংখ্যার বিপরীতে মোট যে সংখ্যক জীবিত শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাকে স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate - CBR) বলে।

    স্থূল জন্মহার পরিমাপের সূত্রটি হলো:
    CBR=BP×১০০০CBR = \frac{B}{P} \times ১০০০
    এখানে,
    CBR = স্থূল জন্মহার
    B = কোনো নির্দিষ্ট বছরে মোট জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা
    P = উক্ত বছরের বছরের মাঝামাঝি সময়ের মোট জনসংখ্যা।

    এই সূত্রের সাহায্যে নির্দিষ্ট বছরের মোট জীবিত শিশুর সংখ্যাকে মধ্যবর্তীকালীন মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে ১,০০০ দ্বারা গুণ করে স্থূল জন্মহার নির্ণয় করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে অর্থনীতিবিদ এডউইন ক্যানান প্রবর্তিত এবং ডাল্টন ও রবিন্স কর্তৃক পরিমার্জিত কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। চিত্রে F বিন্দুতে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ, যেখানে কাম্য জনসংখ্যা O=৫O = ৫।

    অর্থনীতিবিদ হিউ ডাল্টনের মতে, অসামঞ্জস্যের পরিমাণ পরিমাপের সূত্রটি হলো:
    M=A−OOM = \frac{A - O}{O}
    যেখানে,
    MM = অসামঞ্জস্যের পরিমাণ (Degree of Maladjustment)
    AA = প্রকৃত বা কার্যকর জনসংখ্যা (Actual Population)
    OO = কাম্য জনসংখ্যা (Optimum Population)

    E বিন্দুতে অসামঞ্জস্যের পরিমাণ:
    চিত্রে E বিন্দুতে প্রকৃত জনসংখ্যা, A=৪A = ৪ এবং কাম্য জনসংখ্যা, O=৫O = ৫।
    অতএব,
    M=৪−৫৫=−১৫=−০.২M = \frac{৪ - ৫}{৫} = -\frac{১}{৫} = -০.২
    এখানে MM ঋণাত্মক (−০.২-০.২), যা নির্দেশ করে E বিন্দুতে দেশে নিম্ন জনসংখ্যা (Under-population) বিদ্যমান।

    G বিন্দুতে অসামঞ্জস্যের পরিমাণ:
    চিত্রে G বিন্দুতে প্রকৃত জনসংখ্যা, A=৬A = ৬ এবং কাম্য জনসংখ্যা, O=৫O = ৫।
    অতএব,
    M=৬−৫৫=১৫=+০.২M = \frac{৬ - ৫}{৫} = \frac{১}{৫} = +০.২
    এখানে MM ধনাত্মক (+০.২+০.২), যা নির্দেশ করে G বিন্দুতে দেশে জনাধিক্য বা অতিরিক্ত জনসংখ্যা (Over-population) বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের আলোকে পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অবস্থান কাম্য স্তরের চেয়ে বেশি অর্থাৎ জনাধিক্য বা অতিরিক্ত জনসংখ্যার স্তরে অবস্থিত।

    কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুসারে, দেশের বিদ্যমান প্রাকৃতিক সম্পদ ও কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয়ে যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকলে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে (চিত্রে F বিন্দু)। জনসংখ্যা যদি কাম্য স্তরের চেয়ে কম হয় তবে তাকে নিম্ন জনসংখ্যা (চিত্রে E বিন্দু) এবং জনসংখ্যা কাম্য স্তরের চেয়ে বেশি হলে তাকে অতিরিক্ত জনসংখ্যা (চিত্রে G বিন্দু) বলা হয়। জনসংখ্যা কাম্য স্তর অতিক্রম করলে উৎপাদন হ্রাস পায় এবং মাথাপিছু আয় কমতে থাকে।

    বাংলাদেশের বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায়:
    ১. উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্ব ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশ একটি সীমিত ভূখণ্ড ও সম্পদের দেশ হলেও এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিশ্বে অন্যতম শীর্ষস্থানীয়।
    ২. ক্রমহ্রাসমান মাথাপিছু সম্পদ ও বেকারত্ব: দেশে মোট সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যার চাপ অত্যন্ত বেশি, যার ফলে ব্যাপক বেকারত্ব ও ছদ্মবেশী বেকারত্ব দেখা যায়।
    ৩. জীবনযাত্রার মান ও মাথাপিছু আয়: কাম্য জনসংখ্যার লক্ষ্য হচ্ছে সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা। কিন্তু অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

    অতএব, উদ্দীপকের চিত্রের ধারণার আলোকে বাংলাদেশ কাম্য জনসংখ্যার বিন্দু F অতিক্রম করে ডানদিকের অতিরিক্ত জনসংখ্যার অঞ্চলে (যেমন G বিন্দুতে) অবস্থান করছে, যা দেশের অর্থনীতিতে জনাধিক্য নির্দেশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন