অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রহিমা একজন স্বাস্থ্যকর্মী। একদিন পাশের গ্রামের জুলেখার বাড়িতে গিয়ে দেখেন, তার বাড়ির পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর, পাঁচটি সন্তানই রোগাটে। ২/১ জন বাদে বাকি সব সন্তানই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। রহিমা তার পাশের গ্রামে জুলেখাসহ আরও কয়েকটি পরিবারকে পরিকল্পিত পরিবার সম্পর্কে পরামর্শ দেন।
- ক)(1)
কাম্য জনসংখ্যা কী?
- খ)(2)
নারী শিক্ষা কীভাবে জনসংখ্যা হ্রাসে ভূমিকা রাখে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে জুলেখার পরিবারের প্রধান সমস্যাটা কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পরিকল্পিত পরিবার গঠনের মাধ্যমে কীভাবে দেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়ন হবে? মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের প্রাকৃতিক ও অন্যান্য সম্পদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নারী শিক্ষা নারীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে জনসংখ্যা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে। শিক্ষিত নারীরা দেরিতে বিয়ে করে, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ থাকায় সন্তান লালন-পালনের চেয়ে মানসম্মত জীবনের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে তাদের প্রজনন হার কমে এবং সামগ্রিক জনসংখ্যা হ্রাস পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে জুলেখার পরিবারের প্রধান সমস্যা হলো অপরিকল্পিত পরিবার গঠন বা অতিরিক্ত জনসংখ্যাজনিত সমস্যা।
একটি পরিবারের সীমিত আয়ের তুলনায় সন্তানের সংখ্যা বেশি হলে মৌলিক চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার ফলে দারিদ্র্য, অপুষ্টি এবং নিরক্ষরতার মতো সংকট তৈরি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জুলেখার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের পরিবারে পাঁচটি সন্তান রয়েছে এবং তারা অপুষ্টির কারণে রোগাটে। আর্থিক সংকট ও অসচেতনতার দরুন ২/১ জন ছাড়া বাকি সন্তানরা শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। সীমিত সামর্থ্যের তুলনায় অতিরিক্ত সন্তানের জন্ম দেওয়ায় পরিবারটিতে এই বহুমুখী বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সুতরাং, জুলেখার পরিবারের মূল সমস্যা হলো অধিক সন্তানবিশিষ্ট অপরিকল্পিত পরিবার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিকল্পিত পরিবার গঠনের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করা সম্ভব—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
একটি পরিবার পরিকল্পিত হলে অর্থাৎ সন্তানের সংখ্যা সীমিত থাকলে পরিবারের সীমিত আয়ের মধ্যেই সন্তানদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য, উন্নত চিকিৎসা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়। এর ফলে তারা সুস্থ, কর্মক্ষম ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
সামষ্টিক দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রতিটি পরিবার পরিকল্পিত হলে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রিত থাকে। এতে জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। খাদ্যঘাটতি, বেকারত্ব, বাসস্থান সংকট, পরিবেশ দূষণ এবং নিরক্ষরতার মতো মৌলিক সমস্যাগুলো হ্রাস পায়। ফলে সরকারের ওপর বাড়তি জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা মেটানোর চাপ কমে এবং সরকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বেশি ব্যয় করার সুযোগ পায়।
উদ্দীপকে রহিমা স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে জুলেখাসহ অন্যান্য পরিবারকে পরিকল্পিত পরিবারের যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে পরিবারগুলো অপুষ্টি ও নিরক্ষরতার চক্র থেকে মুক্তি পাবে। দক্ষ জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে দারিদ্র্য বিমোচন ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি করবে। সুতরাং, পরিকল্পিত পরিবার গঠন দেশের সার্বিক টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রধান পূর্বশর্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও