জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অ্যালিল কী?

    (1)
  2. খ)

    টেস্টক্রস বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ম্যান্ডেলিজমের যে সূত্রটি অনুসরন করে তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে F2 জনুর ফলাফল চেকার বোর্ডের মাধ্যমে ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থিত নির্দিষ্ট জিনের ভিন্ন ভিন্ন রূপকে পরস্পরের অ্যালিল (Allele) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    এফ১ (F₁) বা এফ২ (F₂) জনুর কোনো জীব হোমোজাইগাস নাকি হেটারোজাইগাস—তা জানার জন্য সেটিকে মাতৃবংশীয় বিশুদ্ধ প্রচ্ছন্ন লক্ষণযুক্ত (homozygous recessive) জীবের সাথে যে ক্রস ঘটানো হয়, তাকে টেস্টক্রস (Test cross) বলে।

    যেমন: F₁ জনুর Tt জিনোটাইপযুক্ত লম্বা মটরশুঁটি উদ্ভিদের সাথে বিশুদ্ধ প্রচ্ছন্ন tt খাটো উদ্ভিদের ক্রস ঘটালে যদি ফলাফল ১:১ অনুপাতে পাওয়া যায়, তবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে পরীক্ষিত উদ্ভিদটি হেটারোজাইগাস ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্রসটি মেন্ডেলিজমের দ্বিতীয় সূত্র অর্থাৎ ‘স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র’ (Law of Independent Assortment) বা দ্বিসংকর ক্রসের নিয়ম অনুসরণ করে।

    সূত্র: দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম অপত্য বংশে (F₁) কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশিত হয়, কিন্তু জননকোষ (গ্যামেট) সৃষ্টির সময় প্রতিটি জোড়ার বৈশিষ্ট্য পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং স্বাধীনভাবে যেকোনো বৈশিষ্ট্যের সাথে বিন্যস্ত বা সঞ্চারিত হয়।

    উদ্দীপকের ব্যাখ্যা:
    উদ্দীপকে P₁ জনুতে দুই জোড়া বৈশিষ্ট্য (CCII ও ccii) নেওয়া হয়েছে। গ্যামেট সৃষ্টির সময় C ও I অ্যালিল পৃথক হয়ে CI গ্যামেট তৈরি করে এবং c ও i পৃথক হয়ে ci গ্যামেট তৈরি করে। এদের মিলনে F₁ জনুতে সংকর জীব CcIi সৃষ্টি হয়। F₁ জীবটি যখন নিজে গ্যামেট সৃষ্টি করে, তখন মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রানুযায়ী অ্যালিলগুলো পরস্পর সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়ে চার ধরনের গ্যামেট (CI, Ci, cI, ci) সম-অনুপাতে তৈরি করে। সুতরাং, এটি মেন্ডেলের স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্রকে সমর্থন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জিনোটাইপটি (CCII × ccii) জীববিজ্ঞানের প্রকট এপিস্ট্যাসিস (Dominant Epistasis)-এর উদাহরণ নির্দেশ করে। সাধারণত সাদা লেগহর্ন ও সাদা ওয়ায়েনডট মুরগির ক্রসে এটি দেখা যায়। এখানে রঙ সৃষ্টির জন্য দায়ী প্রকট জিন 'C', কিন্তু অপর প্রকট বাধা প্রদানকারী জিন 'I' উপস্থিত থাকলে 'C' তার রঙিন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে না, ফলে পালক সাদা হয়।

    F₁ জনুর সংকর মুরগির জিনোটাইপ: CcIi (ফেনোটাইপ: সাদা, কারণ I জিন উপস্থিত)।

    F₂ জনু সৃষ্টির জন্য F₁ × F₁ ক্রস ঘটানো হয়:
    মা-বাবার জিনোটাইপ: CcIi × CcIi
    উৎপন্ন গ্যামেটসমূহ: CI, Ci, cI, ci

    চেকার বোর্ড (Checkerboard):
    পুরুষ \ স্ত্রী | CI | Ci | cI | ci
    CI | CCII (সাদা) | CCIi (সাদা) | CcII (সাদা) | CcIi (সাদা)
    Ci | CCIi (সাদা) | CCii (রঙিন) | CcIi (সাদা) | Ccii (রঙিন)
    cI | CcII (সাদা) | CcIi (সাদা) | ccII (সাদা) | ccIi (সাদা)
    ci | CcIi (সাদা) | Ccii (রঙিন) | ccIi (সাদা) | ccii (সাদা)

    ফলাফলের পর্যালোচনা:
    ১. C_ I_ (৯টি) : 'I' জিনের উপস্থিতির কারণে এরা সাদা হয়।
    ২. C_ ii (৩টি) : বর্ণ সৃষ্টিকারী প্রকট জিন 'C' উপস্থিত এবং 'I' অনুপস্থিত থাকায় এরা রঙিন হয়।
    ৩. cc I_ (৩টি) : বর্ণ সৃষ্টিকারী 'C' অনুপস্থিত থাকায় এরা সাদা হয়।
    ৪. cc ii (১টি) : বর্ণ সৃষ্টিকারী 'C' অনুপস্থিত থাকায় এটিও সাদা হয়।

    অতএব, F₂ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত দাঁড়ায় = সাদা : রঙিন = ১৩ : ৩।
    এভাবে সাধারণ দ্বিসংকর ক্রসের ৯:৩:৩:১ অনুপাতটি পরিবর্তিত হয়ে প্রকট এপিস্ট্যাসিসের কারণে ১৩:৩ হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন