অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

পলাশ এমএ পাস করে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য চেষ্টা করেও কোনো চাকরি পাননি। পরে বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে গরুর ফার্ম গড়ে তোলেন। এখন তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। গ্রামের বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য তিনি প্রশিক্ষণ ও এ ধরনের কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের পরামর্শ দান করেন।

  1. ক)

    নিট অভিবাসন কী?

    (1)
  2. খ)

    মানবসম্পদ উন্নয়নের উপায়গুলো কী?

    (2)
  3. গ)

    পলাশের কর্মসংস্থান কী প্রকৃতির? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পলাশের মতো সফল হতে দেশের বেকার যুবকদের করণীয় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশে মোট আগমনকারী অভিবাসী এবং সেই দেশ থেকে মোট বহির্গমনকারী অভিবাসীর সংখ্যার ব্যবধান বা পার্থক্যকে নিট অভিবাসন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবসম্পদ উন্নয়নের উপায়গুলো হলো:
    ১. মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
    ২. জনসংখ্যাকে দক্ষ করে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
    ৩. স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ নিশ্চিত করে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
    ৪. কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে অদক্ষ মানবসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পলাশের কর্মসংস্থানটি আত্মকর্মসংস্থান (Self-employment) প্রকৃতির।

    নিজের দক্ষতা, শ্রম এবং নিজস্ব বা সংগৃহীত সীমিত পুঁজিকে কাজে লাগিয়ে জীবিকা নির্বাহের যে স্বাধীন উদ্যোগ বা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, তাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। এতে ব্যক্তি অন্যের অধীনে চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজেই নিজের আয়ের সুযোগ তৈরি করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, পলাশ এমএ পাস করে সরকারি বা বেসরকারি চাকরির পেছনে ছুটে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে গরুর ফার্ম গড়ে তোলেন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। এখানে তিনি কারো অধীনস্থ কর্মচারী নন, বরং নিজের উদ্যোগে ও পুঁজিতে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাই পলাশের কর্মসংস্থানটি আত্মকর্মসংস্থান প্রকৃতির।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পলাশের মতো সফল হতে দেশের বেকার যুবকদের চাকরির মোহ ত্যাগ করে আত্মকর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন।

    বাংলাদেশে শিক্ষিত যুবকদের একটি বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে বেকারত্ব বরণ করে। উদ্দীপকে পলাশ চাকরির আশা ছেড়ে স্বাধীনভাবে ডেইরি ফার্ম গড়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছেন। বেকার যুবকদের সফল হতে করণীয় বিষয়গুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো:

    ১. দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: চাকরির পেছনে অন্ধের মতো না ছুটে যেকোনো বৈধ কাজকে মর্যাদা দিয়ে স্বউদ্যোগী হতে হবে।
    ২. দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ: আধুনিক পশুপালন, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, কৃষিভিত্তিক শিল্প বা তথ্যপ্রযুক্তির ওপর বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে, যেমনটি পলাশ যুবকদের পরামর্শ দিয়েছেন।
    ৩. ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা: ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ঝুঁকি গ্রহণের সাহস থাকতে হবে।
    ৪. সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার: পারিবারিক সহায়তা, ক্ষুদ্র ঋণ বা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধার সদ্ব্যবহার করতে হবে।

    পরিশেষে বলা যায়, বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হলে বেকার যুবকরাও পলাশের মতো স্বাবলম্বী হতে পারবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন