বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
7.1.
'করোনাকালে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম' বিষয়ে দুজন শিক্ষার্থী সংলাপ রচনা করো।
7.2.
প্রদত্ত সংকেতটি পড়ে শিরোনামসহ একটি খুদেগল্প রচনা করো:
এইখানে আসলে থমকে যায় নাদিমের মনটা। দশ বছর আগে ঠিক এখানেই বাবার সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়েছিল।...
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৭.১. 'করোনাকালে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম' বিষয়ে দুজন শিক্ষার্থীর সংলাপ:
স্থান: একটি পাঠাগার
চরিত্র: অনিক ও রাফি (উভয়েই একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী)
অনিক: কেমন আছিস রাফি? অনেক দিন পর দেখা হলো।
রাফি: ভালোই আছি অনিক। তবে করোনাকালে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশোনার স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলেছিলাম।
অনিক: একদম ঠিক বলেছিস। তবে সৌভাগ্যবশত আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করেছিল। তোর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
রাফি: সত্যি বলতে, করোনাকালে অনলাইন ক্লাসই ছিল আমাদের শিক্ষার একমাত্র ভরসা। ঘরে বসেই শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও ক্লাস নোট পাওয়া গেছে, যার ফলে সিলেবাস এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
অনিক: তা ঠিক, কিন্তু এর কিছু সীমাবদ্ধতাও তো ছিল। আমাদের গ্রামীণ অনেক বন্ধুর ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা ছিল, আবার অনেকের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ছিল না।
রাফি: হ্যাঁ, ডিজিটাল বৈষম্যের কারণে অনেকেই পুরো সুবিধাটা নিতে পারেনি। তাছাড়া একটানা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা চোখের ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশ কষ্টকর ছিল।
অনিক: ঠিক বলেছিস। তবে অনলাইন ক্লাসের কারণে আমরা প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হয়েছি। সরাসরি ক্লাসের বিকল্প না হলেও মহামারি পরিস্থিতিতে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম আমাদের পড়াশোনা চালু রাখতে অনন্য ভূমিকা রেখেছে।
রাফি: সহমত। সংকটকালীন মুহূর্তে অনলাইন শিক্ষা শিক্ষাব্যবস্থাকে সচল রাখার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম প্রমাণিত হয়েছে।
অনিক: ভালো থাকিস বন্ধু, ক্লাসের সময় হয়ে গেছে, আবার কথা হবে।
রাফি: তুইও ভালো থাকিস।
অথবা,
৭.২. খুদেগল্প:
স্মৃতির প্ল্যাটফর্ম
এইখানে আসলে থমকে যায় নাদিমের মনটা। দশ বছর আগে ঠিক এখানেই বাবার সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়েছিল। সেদিনের স্মৃতিটা আজও নাদিমের মনে স্পষ্ট। রেলস্টেশনের ভিড়ভাট্টা, চানাচুরওয়ালার হাঁকডাক আর ট্রেনের বিকট হুইসেল—সবকিছুর মাঝে বাবা শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন নাদিমের ছোট্ট হাতটি। জীবিকার তাগিদে শহরে যেতে গিয়ে বাবা তাকে বলেছিলেন, "ভালো করে পড়াশোনা করিস বাবা, আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরব।"
কিন্তু বাবা আর ফিরে আসেননি। সেই দিন বিকেলে বাবার কর্মস্থলে ঘটা একটি দুর্ঘটনায় চিরতরে থেমে গিয়েছিল তাঁর জীবন। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেছে। নাদিম এখন স্বাবলম্বী, ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নামকরা একটি সংস্থায় যোগ দিয়েছে। তবুও যখনই সে স্টেশনের এই ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কোণে এসে দাঁড়ায়, তার মনে হয় বাবা যেন কুয়াশাভেজা আলোয় ব্যাগ কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। বাতাসে কান পাতলে সে শুনতে পায় সেই পরিচিত স্নেহমাখা কণ্ঠস্বর। চোখের কোণের জল মুছে নাদিম আকাশের দিকে তাকায়। তার মনে হয়, বাবার দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং অনুপ্রেরণাই তাকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও