অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বাংলাদেশের মতো অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানাবিধ সমস্যা বিদ্যমান। তন্মধ্যে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব, দুর্নীতি, মুদ্রাস্ফীতি, সঠিক তথ্য ও উপাত্তের অভাব, অর্থায়নের অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশের অনুপস্থিতি, সৎ ও দক্ষ প্রশাসনের অভাব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ক)(1)
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
কোনো দেশের সুষম উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা একান্ত - প্রয়োজন- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে উন্নয়নশীল দেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তোমার সুপারিশ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত এক বছর বা তার কম সময়ের জন্য গৃহীত ও বাস্তবায়নযোগ্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের সুষম উন্নয়নের অর্থ হলো দেশের সকল অঞ্চল, অর্থনৈতিক খাত (কৃষি, শিল্প, সেবা) এবং জনগোষ্ঠীর প্রতিটি স্তরের বৈষম্যহীন সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা। পরিকল্পনা ছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে সম্পদ বণ্টন অসম হতে পারে এবং অনগ্রসর অঞ্চল বা খাতগুলো পিছিয়ে পড়তে পারে। একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় সম্পদের সঠিক ও সুষ্ঠু বরাদ্দ নিশ্চিত করে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়। তাই সুষম উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা একান্ত অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিদ্যমান বিভিন্ন বাধা ও সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রধান সমস্যাগুলো নিম্নরূপ:
১. দক্ষ মানবসম্পদের অভাব: দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তির অভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প পরিচালনা ব্যাহত হয়।
২. সঠিক তথ্য ও উপাত্তের অভাব: ত্রুটিপূর্ণ ও অপর্যাপ্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রণীত পরিকল্পনা বাস্তবে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়।
৩. অর্থায়নের অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতি: প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সম্পদের স্বল্পতা এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: প্রশাসনিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে প্রকল্পগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়িত হতে পারে না।
৫. বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশের অভাব: অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত অস্থিরতার ফলে আশানুরূপ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয় না। উদ্দীপকে উল্লিখিত এসব প্রতিকূলতা উন্নয়নশীল দেশে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য উদ্দীপকে চিহ্নিত সমস্যাগুলোর আলোকে নিম্নোক্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা যেতে পারে:
১. দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি: উপযুক্ত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয়।
২. সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ: তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে পরিসংখ্যান সংস্থাকে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করা প্রয়োজন, যাতে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যায়।
৩. অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ: কর কাঠামোর সংস্কার এবং রাজস্ব আদায় বাড়িয়ে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আর্থিক ও রাজস্ব নীতির কার্যকর সমন্বয় ঘটাতে হবে।
৪. প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতি দমন: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
৫. বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ: অবকাঠামোগত উন্নয়ন (বিদ্যুৎ, গ্যাস, যোগাযোগ) এবং ব্যবসা সহজীকরণ (Ease of Doing Business) সূচকে উন্নতির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হবে।
পরিশেষে, সততা, দক্ষতা ও দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয়ে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বাংলাদেশে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেকাংশেই সফল হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও