সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
আব্দুর রহিম একজন সম্পদশালী ব্যক্তি। প্রতি বছর তিনি তার সম্পদের শতকরা আড়াই ভাগ আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় আট শ্রেণির মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন। যা ধনী-গরিবের ব্যবধান কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।
- ক)(1)
ধর্মগোলা কী?
- খ)(2)
এতিমখানা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে আব্দুর রহিমের কর্মকাণ্ডকে কোন ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ বলা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধর্মগোলা হলো দুর্ভিক্ষ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষকদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্যশস্য জমা রাখার একটি ঐতিহ্যগত সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিতৃহীন, মাতৃহীন বা অভিভাবকহীন অসহায় শিশুদের ভরণপোষণ, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে এতিমখানা বলে।
এতিমখানায় অনাথ ও নিঃস্ব শিশুদের শুধু মৌলিক চাহিদা (যেমন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান) মেটানো হয় না, বরং তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আব্দুর রহিমের কর্মকাণ্ডকে ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'জাকাত' (Zakat) বলা যায়।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে এবং তা এক বছর পূর্ণ বহাল থাকলে তার সম্পদের শতকরা ২.৫ ভাগ বা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ নির্দিষ্ট আটটি খাতে অসহায় ও দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধনবৈষম্য দূর করা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আব্দুর রহিম একজন সম্পদশালী ব্যক্তি যিনি তাঁর সম্পদের আড়াই শতাংশ আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় নির্দিষ্ট আট শ্রেণির মানুষের মাঝে বিতরণ করেন, যা ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমায়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি জাকাত ব্যবস্থার ধারণাকে প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ মাধ্যম 'জাকাত'-এর গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. দারিদ্র্য বিমোচন: জাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্বৃত্ত সম্পদ দরিদ্র শ্রেণির মধ্যে প্রবাহিত হয়, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণ করে তাদের সাবলম্বী হতে সহায়তা করে।
২. ধনবৈষম্য হ্রাস: পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈষম্য কমিয়ে সম্পদ যাতে কেবল ধনীদের হাতে পুঞ্জীভূত না থাকে, জাকাত তা নিশ্চিত করে এবং ধনীর সাথে গরিবের সুসম্পর্ক স্থাপন করে।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা: সমাজের অক্ষম, অসহায়, ঋণগ্রস্ত ও এতিমদের পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা প্রদানে জাকাত কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
৪. বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: জাকাত তহবিলকে স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করে বেকারত্ব হ্রাস ও সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।পরিশেষে বলা যায়, জাকাত কেবল ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং একটি বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত ঐতিহ্যগত সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থা, যা শোষণমুক্ত ও কল্যাণমূলক সমাজ বিনির্মাণে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও