কৃষিশিক্ষা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
গবাদিপশু পালন করতে গিয়ে মীরন সাহেব প্রায় প্রতি বছরই গোখাদ্যের সমস্যায় পড়েন। এবছর তাই কৃষি কর্মকর্তার শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, "ঋতু ভেদে গবাদিপশুর খাদ্যের প্রাপ্যতার পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এই জন্য ঘাসজাতীয় খাদ্য সারা বছর পেতে হলে ঘাসকে উপযুক্ত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে হবে। এ পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ও কার্যকরভাবে ঘাস ব্যবহার করা যায়।"
- ক)(1)
সাইলেজ কী?
- খ)(2)
গবাদিপশুকে কেন দানাদার খাদ্য খাওয়ানো উচিত?
- গ)(3)
গো-খাদ্য সংরক্ষণের বায়ুরোধী পদ্ধতি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
কৃষি কর্মকর্তার উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কাঁচা সবুজ ঘাস বা গো-খাদ্য বায়ুরোধী গর্ত বা সাইলোতে গাঁজন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে যে রসালো খাদ্য তৈরি হয়, তাকে সাইলেজ বলে।
- খ)
ঘাস ও খড়ের মতো আঁশ জাতীয় খাদ্যে পুষ্টি, বিশেষ করে প্রোটিন ও শক্তি, তুলনামূলক কম থাকে। দানাদার খাদ্য (খৈল, ভুসি, গমের ভুসি, ভুট্টা ইত্যাদি) প্রোটিন ও শক্তিতে সমৃদ্ধ এবং সহজে হজম হয়। তাই গবাদিপশুর দ্রুত বৃদ্ধি এবং ভালো দুধ ও মাংস উৎপাদনের জন্য দানাদার খাদ্য খাওয়ানো উচিত।
- গ)
গো-খাদ্য সংরক্ষণের বায়ুরোধী পদ্ধতি হলো সাইলেজ তৈরি। পদ্ধতি:
১. গর্ত বা সাইলো তৈরি করা: উঁচু ও শুকনো স্থানে নির্দিষ্ট আকারের গর্ত খনন করে ভেতরে পলিথিন বা মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়।
২. ঘাস কেটে ছোট ছোট টুকরা করে স্তরে স্তরে গর্তে ভরা এবং ভালো করে চেপে বাতাস বের করে দেওয়া।
৩. প্রয়োজনে প্রতি স্তরে গুড় বা লবণ মেশানো যায়, যা গাঁজনে সাহায্য করে।
৪. গর্ত ভরে গেলে পলিথিন বা খড় দিয়ে ঢেকে ওপর থেকে মাটি দিয়ে বায়ুরোধী করা।
৫. কয়েক সপ্তাহ পর গাঁজন শেষ হলে সাইলেজ খাওয়ানোর উপযোগী হয়। - ঘ)
কৃষি কর্মকর্তার উক্তি যথার্থ। কারণ:
১. বছরের সব সময় ঘাস পাওয়া যায় না। বর্ষায় ঘাস প্রচুর থাকে, কিন্তু শুকনো মৌসুমে ঘাসের অভাব হয়। তাই মীরন সাহেব প্রতি বছর খাদ্য সংকটে পড়েন।
২. বর্ষার বাড়তি ঘাস হে (শুকনো ঘাস) বা সাইলেজ আকারে সংরক্ষণ করলে শুকনো মৌসুমেও গবাদিপশুকে খাওয়ানো যায়।
৩. সংরক্ষিত খাদ্যে পুষ্টিমান বজায় থাকে, ফলে দীর্ঘদিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। এতে খাদ্যের অপচয় কমে এবং খরচও কমে।সুতরাং, উপযুক্ত পদ্ধতিতে ঘাস সংরক্ষণ করলে মীরন সাহেবের গোখাদ্য সংকটের সমাধান হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও