হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
ধীরেন বাবু একজন গরিব কৃষক। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে অমাবস্যা তিথিতে বিভিন্ন মহামারি থেকে যেমন- ঝড়, বন্যা, খরা প্রভৃতি থেকে উত্তরণের আশায় এক বিশেষ পূজার আয়োজন করেন। অপরদিকে, তার প্রতিবেশী রাঁধাকান্ত বাবু নিঃসন্তান। তাই তিনি সন্তান লাভের আশায় এক দেবতার পূজা করেন।
- ক)(1)
যজমান কাকে বলে?
- খ)(2)
বোধন' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
ধীরেন বাবু যে দেবীর পূজা করেন তা তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রাধাকান্ত বাবু যে পূজাটি করে সে পূজার গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যার নামে সংকল্প করে পূজা করা হয়, তাকে যজমান বলে।
- খ)
বোধন শব্দের অর্থ জাগরণ। দুর্গাপূজার প্রথম দিনে, অর্থাৎ মহালয়া অমাবস্যার পরে শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে সন্ধ্যাকালে দেবী দুর্গাকে জাগ্রত করে পূজার উদ্দেশ্যে আবাহন করার যে অনুষ্ঠান হয়, তাকে বোধন বলে। বোধনের পর অধিবাস ও আমন্ত্রণ অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মধ্য দিয়েই দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
- গ)
ধীরেন বাবু যে দেবীর পূজা করেন, তিনি হলেন দেবী কালী।
কালীর পরিচয় : পাঠ্যবই অনুযায়ী দেবী কালী দুর্গার মতোই শক্তির দেবী। তিনি ভগবান শিবের সহধর্মিণী ও বিশেষ শক্তি। অসুর বিনাশে তিনি ভয়ংকরী; পৃথিবীর সকল অন্যায় ও অত্যাচার দূর করতে তিনি অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করেন। কাল ও মৃত্যুর দেবীরূপে আত্মপ্রকাশ করায় তাঁকে শ্মশান কালীও বলা হয়। তাঁর আরও নাম ভদ্রকালী, দক্ষিণাকালী, মা তারা, শ্যামা, মহাকালী ইত্যাদি। অন্যদিকে তিনি মমতাময়ী মা রূপে ভক্তকে বরাভয় দান করেন।
ত্রাণকর্ত্রী রূপ : দেবী কালী ঐশ্বরিক মহাশক্তি ও ত্রাণকর্ত্রীরূপে যেকোনো ধরনের দুর্যোগের সময় আমাদের মাঝে আবির্ভূত হন। শ্যামা বা কালীপূজার রাতেই দীপাবলি উৎসব পালিত হয়, যেখানে প্রদীপ জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করা হয়।
উদ্দীপকের সাথে মিল : উদ্দীপকে ধীরেন বাবু কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসের অমাবস্যা তিথিতে ঝড়, বন্যা, খরা প্রভৃতি দুর্যোগ ও মহামারি থেকে উত্তরণের আশায় বিশেষ পূজা করেছেন। দুর্যোগ থেকে ত্রাণ ও অশুভ শক্তির বিনাশ কামনায় এ পূজা দেবী কালীর পূজার সাথেই মিলে যায়।
অতএব, ধীরেন বাবু দেবী কালীর পূজা করেন।
- ঘ)
রাধাকান্ত বাবু সন্তান লাভের আশায় যে দেবতার পূজা করেন, তিনি হলেন দেবতা কার্তিক। আমার মতে, এ পূজা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কার্তিকের পরিচয় : কার্তিক ভগবান শিবের পুত্র ও দেবসেনাপতি; তিনি যুদ্ধের দেবতা। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা তাঁকে রক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পূজা করেন। পাঠ্যবই অনুযায়ী আদর্শ ও সুন্দর সন্তান লাভের জন্য কার্তিকের পূজা করা হয়। ব্রহ্মা, সরস্বতীর মতো কার্তিকের পূজাও বিশেষ বিশেষ তিথিতে হয়।
১. আদর্শ সন্তান লাভের কামনা : নিঃসন্তান রাধাকান্ত বাবু সন্তান কামনায় কার্তিকের পূজা করেন। এ পূজার মাধ্যমে ভক্ত আদর্শ ও সুন্দর সন্তান প্রার্থনা করেন, যা পারিবারিক জীবনে সুখ ও পূর্ণতা আনে। উদ্দীপকে রাধাকান্ত বাবুর উদ্দেশ্য এটিই।
২. অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা : কার্তিক দেবসেনাপতি হিসেবে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা দেন। এ পূজায় অংশ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে সন্তানরা, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস ও নৈতিক শক্তি অর্জন করে।
৩. রক্ষা ও নিরাপত্তার বিশ্বাস : রক্ষাকর্তা হিসেবে কার্তিকের পূজা পরিবারকে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার মানসিক শক্তি ও আস্থা জোগায়।
৪. সামাজিক বন্ধন : পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন একত্র হয়। এতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বাড়ে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে মনে রাখতে হবে, পূজা কেবল কামনা পূরণের মাধ্যম নয়; দেবতার আদর্শ নিজের জীবনে অনুশীলনই এর প্রকৃত উদ্দেশ্য।
সুতরাং, কার্তিক পূজা আদর্শ সন্তান লাভের প্রার্থনা, অন্যায়ের প্রতিরোধ এবং পারিবারিক ও সামাজিক কল্যাণের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও