ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। আঠারো শতকের ব্রিটিশ উপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে আমেরিকানরা স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনে খাদ্য ও রসদ দিয়ে সহায়তা করে ব্রিটিশদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স। ফরাসিদের সহায়তায় ১৭৭৬ সালে আমেরিকা স্বাধীনতা লাভ করে। ঘটনাটি বিশ্ব ইতিহাসের যুগান্তকারী অধ্যায়।
- ক)(1)
মুজিবনগর সরকার কত তারিখে গঠিত হয়?
- খ)(2)
ইয়াহিয়া সরকার বঙ্গবন্ধুর কাছে কেন ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ফ্রান্সের মতো কোন দেশ আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তা করেছিল? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তোমার পঠিত উক্ত দেশের অবদান। মূল্যায়ন করো।'
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ও জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের হাতে শাসনভার ছেড়ে দিতে চায়নি। ক্ষমতা হস্তান্তর করলে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর তাদের রাজনৈতিক আধিপত্য ও অর্থনৈতিক শোষণ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে—এই আশঙ্কা ও বৈষম্যমূলক মানসিকতার কারণেই জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র ও কালক্ষেপণের পথ বেছে নেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত ফ্রান্সের মতো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাশক্তি 'সোভিয়েত ইউনিয়ন' (রাশিয়া) অথবা প্রতিবেশী দেশ 'ভারত' সর্বাত্মক সহায়তা করেছিল (তবে বৃহৎ পরাশক্তির কূটনৈতিক ও সামরিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে প্রধান মিত্রশক্তি হিসেবে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের ভূমিকা বিশেষভাবে তুলনীয়; উদ্দীপকের মিত্রভাবাপন্ন সহায়ক রাষ্ট্রের নিরিখে এটি মূলত ভারত/সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানকে নির্দেশ করে, যার মধ্যে সরাসরি খাদ্য, রসদ ও সামরিক সহায়তা দানের ক্ষেত্রে 'ভারত'-এর সাথে এবং বিশ্বমঞ্চের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবেলার ক্ষেত্রে 'সোভিয়েত ইউনিয়ন'-এর সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাস পাঠ্যবই অনুযায়ী প্রত্যক্ষ খাদ্য, আশ্রয় ও রসদ দিয়ে সহায়তাকারী দেশ হিসেবে এটি প্রধানত 'ভারত')।
উদ্দীপকে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স যেভাবে রসদ ও সহায়তা দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রাখে, তেমনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত কোটি কোটি শরণার্থীকে খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয় প্রদান করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও রসদ দিয়ে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে চূড়ান্ত বিজয় ত্বরান্বিত করেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উদ্দীপকে নির্দেশিত সহায়তাকারী দেশ হিসেবে ভারতের (পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোভিয়েত ইউনিয়নের) অবদান ছিল অনন্য ও অবিস্মরণীয়।
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান নিম্নে মূল্যায়ন করা হলো:
১. আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা: পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার মুখে পালিয়ে যাওয়া প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি শরণার্থীকে ভারত খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও আশ্রয় প্রদান করে বিশ্বদরবারে এক অভূতপূর্ব মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
২. সামরিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ: ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহ করে এবং গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেয়। ভারতের অভ্যন্তরে ক্যাম্প স্থাপন করে মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের যুদ্ধের উপযোগী করে তোলা হয়।
৩. কূটনৈতিক সহায়তা: ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তোলেন।
৪. যৌথ কমান্ড গঠন ও চূড়ান্ত যুদ্ধ: ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে যৌথ বাহিনীর তীব্র আক্রমণের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। ভারতীয় বহু সেনাসদস্য বাংলাদেশের মুক্তির জন্য আত্মাহুতি দেন।একই সাথে জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নের একাধিক 'ভেটো' প্রদান এবং ভারতকে সামরিক সমর্থন দেওয়া পাকিস্তানের পরাজয়কে নিশ্চিত করে।
সুতরাং, আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্সের সহায়তার মতোই ১৯৭১ সালে বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের প্রত্যক্ষ সামরিক, মানবিক ও আন্তর্জাতিক সহায়তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও