বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আত্মবিশ্বাসী মানুষই সাফল্যের পথে এগিয়ে যান। তিনি অন্যের মত ও পথের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেও নিজের সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। অন্যের উপর নির্ভরতা তার লক্ষ্য নয়। নিজেকে চিনে এবং নিজের বিশ্বাসকে বড় মনে করার মধ্য দিয়েই তিনি কল্যাণকর কিছু করতে পারেন।

  1. ক)

    'আমার পথ' প্রবন্ধ অবলম্বনে কোনটি সবচেয়ে বড় দাসত্ব?

    (1)
  2. খ)

    যে নিজের সত্যকে চিনতে পারে না তার ভেতরে ভয় কাজ করে বলে সে বাইরেও ভয় পায় । — ব্যাখ্যা করো

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ভাবনা 'আমার পথ' প্রবন্ধে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ? আলোচনা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    "আত্মনির্ভরশীলতার মধ্য দিয়েই একজন ব্যক্তি বা একটি জাতি উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছতে পারে। " উদ্দীপক ও 'আমার পথ' প্রবন্ধ অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আমার পথ' প্রবন্ধ অবলম্বনে পরাবলম্বন বা অন্যের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করাই সবচেয়ে বড় দাসত্ব।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে ব্যক্তি নিজের ভেতরের সত্য ও আত্মশক্তিকে চিনতে পারে না, সে দুর্বল চিত্তের অধিকারী হয় বলেই বাইরেও সে সবসময় ভয় পায়।

    মানুষ যখন নিজের অন্তরের সত্যকে বিশ্বাস করে না এবং নিজের আত্মমর্যাদাবোধ হারিয়ে ফেলে, তখন তার ভেতরে এক ধরনের হীনম্মন্যতা ও দুর্বলতা জন্ম নেয়। এই মানসিক দুর্বলতার কারণেই সে যেকোনো প্রতিকূলতা, অপশক্তি বা সমাজের অন্যায়ের মুখে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। কাজী নজরুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, নিজের সত্যকে যে চেনে, সে নির্ভীক; আর যে চেনে না, তার ভেতরে আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকার কারণে সে বাইরের লোকভয় বা রাজভয়কে ভয় পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আত্মবিশ্বাস, পরনির্ভরশীলতা পরিহার এবং নিজের সত্যে আস্থাশীল হওয়ার ভাবনাটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল চেতনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আত্মবিশ্বাসী মানুষ অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও নিজের বিশ্বাস ও সত্যকে বড় মনে করেন এবং পরনির্ভরশীলতা পরিহার করে কল্যাণকর কাজ করেন।

    কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধেও ঠিক একই সুর ধ্বনিত হয়েছে। প্রাবন্ধিক নিজেকে চেনার, নিজের পথ নিজে নির্ধারণ করার এবং সত্যকে কর্ণধার মানার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আত্মবিশ্বাস কখনো অহংকার নয়, বরং তা সত্যের দম্ভ। উদ্দীপকের বক্তব্যের মতোই প্রাবন্ধিক অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা জানাতে বলেছেন, কিন্তু অন্ধভাবে কারও মতকে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। নিজেকে চেনা এবং পরনির্ভরতা কাটিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার যে আহ্বান প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে, উদ্দীপকের বক্তব্য তারই প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "আত্মনির্ভরশীলতার মধ্য দিয়েই একজন ব্যক্তি বা একটি জাতি উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছতে পারে।"— উদ্দীপক ও 'আমার পথ' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি যথার্থ ও সময়োপযোগী।

    কোনো ব্যক্তি বা জাতির অগ্রগতির মূল শর্ত হলো স্বাবলম্বন ও আত্মমর্যাদাবোধ। পরনির্ভরশীলতা মানুষের ভেতরের সৃজনশীলতা, আত্মশক্তি ও উদ্যমকে বিনষ্ট করে দেয়। উদ্দীপকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অন্যের ওপর নির্ভরতা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও স্বকীয় পরিচয়ের মাধ্যমেই মানুষ কল্যাণের পথে এগিয়ে যায়।

    'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম পরাধীন ভারতবর্ষের মানুষদের মানসিক দাসত্ব ও পরনির্ভরশীলতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। দেশের মানুষ নিজেদের শক্তি ভুলে গিয়ে গান্ধীজি বা অন্য নেতাদের ওপর অন্ধভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। লেখক স্পষ্ট করে বলেছেন, আমরা যদি নিষ্ক্রিয় থেকে কোনো একজন মহামানব এসে আমাদের মুক্তি দিয়ে যাবেন—এই প্রত্যাশায় হাত গুটিয়ে বসে থাকি, তবে দাসত্বের শৃঙ্খল কখনোই ভাঙবে না। নিজের পায়ে দাঁড়ানো, নিজের সত্যকে প্রকাশ করা এবং পরনির্ভরতা ত্যাগ করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারলেই একটি জাতি স্বাধীন ও উন্নত হতে পারে।

    অতএব, ব্যক্তিজীবনের সাফল্য কিংবা জাতীয় মুক্তি ও মর্যাদা অর্জনে আত্মনির্ভরশীলতা অপরিহার্য। তাই উদ্দীপক ও 'আমার পথ' প্রবন্ধের বক্তব্যের আলোকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন