মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

ছোট ছেলেটি ক্রিকেট খেলতে ভীষণ ভালোবাসে। সে স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে সফল ও কৃতি ক্রিকেটার হবার। বাবার নিষেধ উপেক্ষা করে লুকিয়ে খেলতে যায়। বাবার বরুনীর ভয়ে সন্ধ্যার পূর্বেই বাসায় ফিরে আসে। সেই ছেলেটিই আজকের নন্দিত ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। খবরের কাগলে ও টেলিভিশনে কয়েকজন ছাত্রীর ওপর বখাটের হামলার খবরে আতঙ্কিত মিসেস জামান মেয়ে অদিতিকে কোথাও একা যেতে দেন না। সাথে করে কলেজে আনা-নেওয়া করেন। কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নবীনদের পক্ষ থেকে কিছু বলতে অদিতি মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ালে তার শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃদপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি পায় এবং সে ঘামতে থাকে।

  1. ক)

    আবেগ কী?

    (1)
  2. খ)

    পরিপক্কতা আবেগ নিয়ন্ত্রণে কোন ধরনের ভূমিকা রাখে?

    (2)
  3. গ)

    নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অদিতির শারীরিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্রের কোন অংশের ভূমিকা রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মিরাজের সাফল্যের প্রেষণা এবং মিসেস জামানের ক্ষেত্রে সৃষ্টি প্রেষণা ভিন্ন হলেও মূলত তা একই শ্রেণির। যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আবেগ হলো এমন এক ধরনের আলোড়িত বা উত্তেজিত অবস্থা, যা কোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক উদ্দীপকের প্রতি সাড়া হিসেবে ব্যক্তির মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন ও মানসিক অনুভূতির সৃষ্টি করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শারীরিক ও মানসিক পরিপক্কতা (Maturation) আবেগ প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শৈশবে শিশু তাৎক্ষণিকভাবে তীব্রভাবে আবেগ প্রকাশ করে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কিন্তু বয়স ও পরিপক্কতা বৃদ্ধির সাথে সাথে স্নায়ুতন্ত্র বিশেষ করে সেরিব্রাল কর্টেক্সের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ে। ফলে ব্যক্তি সামাজিক রীতিনীতি ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজের আবেগীয় তীব্রতা সংবরণ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিমিত আবেগ প্রকাশ করতে শেখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অদিতির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি এবং ঘাম হওয়ার পেছনে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের (Autonomic Nervous System) 'সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র' (Sympathetic Nervous System) ভূমিকা পালন করেছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, অপরিচিত বা ভীতিকর পরিস্থিতিতে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ালে অদিতি তীব্র উত্তেজনা ও ভীতি অনুভব করে। মানুষের যখন ভয়, উদ্বেগ বা তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হয়, তখন স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সহানুভূতিশীল অংশটি উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। এটি শরীরকে জরুরি অবস্থার মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে সক্রিয় করে রক্তের মধ্যে অ্যাড্রেনালিন হরমোন ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বৃদ্ধি পায় এবং ঘামগ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ঘাম নিঃসরণ ঘটে। অতএব, অদিতির এহেন শারীরিক পরিবর্তনের কারণ মূলত সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়া।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মিরাজের সাফল্যের প্রেষণা এবং মিসেস জামানের ক্ষেত্রে সৃষ্ট প্রেষণা দৃশ্যত ভিন্ন প্রকৃতির মনে হলেও মূলত তারা একই শ্রেণির—অর্থাৎ উভয়েই 'সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক প্রেষণা' (Social or Psychological Motive)-এর অন্তর্ভুক্ত।

    প্রেষণাকে প্রধানত জৈবিক বা শারীরবৃত্তীয় প্রেষণা এবং সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক প্রেষণা—এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা ইত্যাদি হলো জৈবিক প্রেষণা, যা জন্মগত এবং অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে, সামাজিক বা মানসিক চাহিদার ফলে যে প্রেষণার সৃষ্টি হয়, যা মানুষ সমাজ ও পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে শেখে, তা হলো সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক প্রেষণা।

    উদ্দীপকে মিরাজ ক্রিকেটার হয়ে বড় সাফল্য অর্জন করতে চায়। এটি তার আত্মপ্রতিষ্ঠা, সাফল্য অর্জন (Need for Achievement) এবং সামাজিক স্বীকৃতির একটি প্রবল বাসনা। এটি সামাজিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা প্রেষণা। অন্যদিকে, মিসেস জামান সমাজে ছাত্রীদের ওপর বখাটেদের হামলার ঘটনা দেখে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এটি তাঁর নিরাপত্তা প্রেষণা (Security Motive) এবং স্নেহ-ভালোবাসার প্রেষণার সাথে যুক্ত। এটিও কোনো শারীরিক ক্ষুধার মতো প্রাথমিক জৈবিক চালক নয়, বরং সামাজিক অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগের দ্বারা সৃষ্ট।

    সুতরাং, একটি সাফল্য অর্জনের সাথে এবং অন্যটি সন্তান-রক্ষার উদ্বেগের সাথে জড়িত থাকা সত্ত্বেও উভয় প্রেষণাই সমাজ, অভিজ্ঞতা ও মানসিকতার দ্বারা অর্জিত ও চালিত। তাই মিরাজের প্রেষণা এবং মিসেস জামানের প্রেষণা উভয়ই সামাজিক প্রেষণা শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন