গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ : জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য রেনেটা কোম্পানি বাজারে কিছু সার্টিফিকেট ছাড়ে। লতিফ রেনেটা কোম্পানির কিছু সার্টিফিকেট ক্রয় করে অর্থ বিনিয়োগ করে।
দৃশ্যকল্প-২ : জনাব মুরাদ যমুনা গ্রুপে চাকরী করেন। তিনি প্রতি মাসে কিছু টাকা ব্যাংকে সঞ্চয় করেন। যমুনা গ্রুপ সকল কর্মচারীদের মূল বেতনের একটা নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখে। কর্মীরা জরুরী প্রয়োজনে এখান থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারেন।
- ক)(1)
ঋণ কাকে বলে?
- খ)(2)
পলিসি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেয়- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত লতিফ এর বিনিয়োগটি কি ঝুঁকিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব মুরাদ ও যমুনা গ্রুপের সকল কর্মচারীদের জন্য সঞ্চয়ের ধরন কি একই? তোমার উত্তরের সপক্ষে পদ্ধতি দুইটির তুলনামূলক মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর সুদে-আসলে বা আসল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে গৃহীত অর্থ বা সম্পদকে ঋণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বীমা পলিসি পরিবারের বা ব্যক্তির ভবিষ্যতের যেকোনো অপ্রত্যাশিত আর্থিক ক্ষতি ও ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করে। নির্দিষ্ট মেয়াদের বীমায় মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ মূল অর্থ ফেরত পাওয়া যায় এবং কোনো দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে পলিসির অর্থ পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তা দেয়। ফলে পলিসি ব্যক্তিকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত লতিফের বিনিয়োগটি শেয়ার বা বন্ড/ডিবেঞ্চার সংক্রান্ত সার্টিফিকেট হওয়ায় এতে ঝুঁকি বিদ্যমান।
রেনেটা কোম্পানি বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শেয়ার বা ঋণপত্র সার্টিফিকেট বিক্রি করেছে। বেসরকারি কোম্পানির শেয়ার বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ করলে বাজারের ওঠানামা এবং কোম্পানির লাভ-ক্ষতির ওপর মুনাফা নির্ভর করে। কোম্পানি ব্যবসায়িক লোকসানে পড়লে বা দেউলিয়া হলে বিনিয়োগকৃত মূলধন ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি থাকে। তাই সরকারি সঞ্চয়পত্রের তুলনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এরূপ বিনিয়োগে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব মুরাদ এবং যমুনা গ্রুপের সকল কর্মচারীদের সঞ্চয়ের ধরন একই নয়।
জনাব মুরাদের সঞ্চয় হলো ব্যক্তিগত বা ঐচ্ছিক সঞ্চয়, যেখানে তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যাংকে টাকা জমাচ্ছেন। অন্যদিকে, যমুনা গ্রুপের কর্মীদের ক্ষেত্রে মূল বেতন থেকে কেটে রাখা অর্থ হলো প্রাতিষ্ঠানিক ও বাধ্যতামূলক সঞ্চয় (যেমন- প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ভবিষ্যৎ তহবিল)।
পদ্ধতি দুটির তুলনামূলক মূল্যায়ন:
১. বাধ্যবাধকতা: ব্যাংকে সঞ্চয় করা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক এবং নিজের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। পক্ষান্তরে, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে বেতন থেকে কেটে নেওয়া বাধ্যতামূলক।
২. নিরাপত্তা ও ঋণ সুবিধা: প্রাতিষ্ঠানিক তহবিলে সঞ্চিত অর্থের বিপরীতে প্রতিষ্ঠান থেকেই সহজে ঋণ নেওয়া যায় (যা উদ্দীপকে উল্লেখ আছে), কিন্তু ব্যাংকের সঞ্চয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে অথবা ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জামানত ও প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
৩. মুনাফা ও ভবিষ্যৎ তহবিল: প্রভিডেন্ট ফান্ডে সাধারণত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানও সমপরিমাণ অর্থ জমা করে, ফলে অবসরের সময় এটি বড় অঙ্কের আর্থিক নিশ্চয়তা দেয়। ব্যক্তিগত ব্যাংক সঞ্চয়ে কেবল জমাকৃত টাকা ও নির্দিষ্ট হারে ব্যাংক সুদ পাওয়া যায়।
সুতরাং, সঞ্চয়ের স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার দিক থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ড অধিক কার্যকর হলেও মুরাদের ব্যক্তিগত সঞ্চয়ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও