সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
নিপা সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বিভিন্ন কারণে প্রায়ই সে বিষণ্ণ থাকে। স্কুলে যেতে তার ভাল লাগে না। পড়াশোনায় মন বসাতে পারে না। জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয়েছে তার।
- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কাকে বলে?
- খ)(2)
সমাজকাঠামো প্রত্যয়টি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের নিপার সমস্যাটির কারণ উদঘাটনের জন্য সমাজবিজ্ঞানের কোন গবেষণা পদ্ধতিটি উপযুক্ত?- আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
সমাজ গবেষণায় উক্ত পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধাসমূহ মূল্যায়ন কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সুশৃঙ্খল, যুক্তিযুক্ত ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও যাচাই করে কোনো বস্তুনিষ্ঠ সত্য বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়, তাকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকাঠামো প্রত্যয়টি বলতে সমাজের বিভিন্ন অংশ, দল, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সম্পর্কের সামগ্রিক ও সুসংহত বিন্যাস বা রূপরেখাকে বোঝায়।
সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেনসার জীবদেহের কাঠামোর সাথে মানব সমাজের কাঠামোর তুলনা করেছেন। সমাজের বিভিন্ন উপাদান—যেমন পরিবার, ধর্ম, অর্থনীতি, রাজনীতি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে সমাজকাঠামো গড়ে তোলে এবং সমাজকে টিকিয়ে রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নিপার সমস্যাটির কারণ উদ্ঘাটনের জন্য সমাজবিজ্ঞানের 'ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি' (Case Study Method) সবচেয়ে উপযুক্ত।
ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি হলো কোনো একটি ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক সমস্যা বা ঘটনার গভীরে গিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিশদ অনুসন্ধান চালানোর একটি গুণগত গবেষণা পদ্ধতি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নিপা সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী হয়েও বিষণ্ণতায় ভুগছে, স্কুলে যেতে চায় না এবং তার মধ্যে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছে। এটি নিপার একটি ব্যক্তিগত ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক-সামাজিক সমস্যা। নিপার শৈশব, পারিবারিক পরিবেশ, বন্ধুমহল ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং তার সামগ্রিক জীবন ইতিহাস পর্যালোচনা করে এই সমস্যার মূল কারণ জানার জন্য ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজ গবেষণায় উদ্দীপকে নির্দেশিত 'ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি' (Case Study Method)-র সুবিধা ও অসুবিধা উভয়ই বিদ্যমান। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:
সুবিধাসমূহ:
১. গভীর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্যলাভ: এ পদ্ধতিতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বা ব্যক্তির জীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত আদ্যোপান্ত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়, যা অন্য কোনো সাধারণ পদ্ধতিতে সম্ভব নয়।
২. সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণ উদ্ঘাটন: জটিল ও স্পর্শকাতর সামাজিক এবং মানসিক সমস্যার কারণ বিশ্লেষণে এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
৩. নতুন প্রকল্প প্রণয়ন: বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে নতুন কোনো সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব বা প্রকল্প গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।অসুবিধাসমূহ:
১. সার্বজনীনতার অভাব: এটি সাধারণত একক ব্যক্তি বা ছোট দলের ওপর প্রয়োগ করা হয় বিধায় এর গবেষণার ফলাফলকে পুরো সমাজের ওপর ঢালাওভাবে প্রয়োগ বা সাধারণীকরণ করা যায় না।
২. গবেষকের পক্ষপাতিত্বের ঝুঁকি: গবেষক ও গবেষণাধীন ব্যক্তির মধ্যে গভীর সম্পর্কের কারণে ফলাফলে গবেষকের ব্যক্তিগত আবেগ বা পক্ষপাতিত্ব প্রবেশ করতে পারে।
৩. সময় ও ব্যয়ের আধিক্য: কোনো একক ঘটনা বিস্তারিতভাবে জানার জন্য দীর্ঘ সময় ও অধিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়।পরিশেষে বলা যায়, কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও নিপার মতো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা জটিল সমস্যাগুলোর কারণ শনাক্তকরণ ও সমাধানে ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি একটি অনন্য ও অত্যন্ত কার্যকরী গবেষণা পদ্ধতি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও