‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

'তোবা' রোমান সভ্যতার ইতিহাস পড়ার সময় লক্ষ করল, রোমান সম্রাট নিরো তার বিশাল সাম্রাজ্যে শক্তিশালী সেনাবাহিনী, দক্ষ মন্ত্রীবর্গ থাকা সত্ত্বেও অভিজ্ঞতার অভাব, অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র, বিশ্বস্ত ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতায় যুদ্ধে পরাজিত হন। ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পতন। ত্বরান্বিত হয়।

  1. ক)

    কোন নদীর তীরে পলাশী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচয় দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নিরোর পরাজয়ের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের পরাজয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উক্ত ব্যক্তির পরাজয়ের মধ্য দিয়েই ঔপনিবেশিক শাসনের। সূত্রপাত হয়"- মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল ১৬০০ সালে ইংল্যান্ডে গঠিত একটি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান।

    রানি প্রথম এলিজাবেথের রাজকীয় সনদের মাধ্যমে প্রাচ্যে একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার নিয়ে কোম্পানিটি গঠিত হয়। তারা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারতে এসে কুঠি স্থাপন করে এবং পরবর্তীতে ভারতীয় উপমহাদেশের দুর্বল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও শাসনক্ষমতা দখল করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রোমান সম্রাট নিরোর পরাজয়ের সাথে পাঠ্যবইয়ের বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশাল সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও তিনি পরাজিত হন। তাঁর প্রধান সেনাপতি মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রায়দুর্লভ ও উমিচাঁদের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের কারণে দেশপ্রেমিক নবাব যুদ্ধে অসহায় হয়ে পড়েন। যুদ্ধক্ষেত্রে মীর জাফরের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ও ভুল নির্দেশনার ফলে নবাবের নিশ্চিত বিজয় পরাজয়ে রূপ নেয়। উদ্দীপকে নিরোর ক্ষেত্রেও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও ঘনিষ্ঠদের বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজয়ের যে চিত্র দেখা যায়, তা নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের ইতিহাসকেই প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়েই ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূত্রপাত হয়"—উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।

    পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় সরাসরি ক্ষমতায় না গিয়ে মীর জাফর ও পরে মীর কাশিমকে পুতুল নবাব হিসেবে বসায়। এর মাধ্যমে বাংলার প্রকৃত শাসনক্ষমতা কার্যত ব্রিটিশদের হাতে চলে যায়। পরবর্তীকালে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভ এবং ১৭৬৫ সালে কোম্পানি কর্তৃক দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ হয়।

    বাংলাকে ভিত্তি করেই ব্রিটিশরা একে একে সমগ্র ভারত বর্ষ দখল করে এবং প্রায় দুশো বছরের দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শোষণ কায়েম করে। সুতরাং, পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ই ছিল বাংলায় এবং পরবর্তীতে সমগ্র ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন