কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

সালমা বেগম বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরুর দুধ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে সংসারের যাবতীয় খরচ নির্বাহ করে থাকেন। গত সপ্তাহে। ভাসমান ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় তার পাত্রের দুধে পশুর লোমসহ পানি মেশানো আলামত পাওয়া গেল। ভ্রাম্যমান ভেজাল বিরোধীরা মনে করে দুধের মধ্যে এসবের মিশ্রণ থাকা ভালো নয়। এগুলো ছোট একটি যন্ত্রের সাহায্যে সহজেই নির্ণয় করা যায়।

  1. ক)

    মাটন কী?

    (1)
  2. খ)

    হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান গাভি পালন করা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    ভেজাল নির্ণয়কারী যন্ত্রটির নাম কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সালমা বেগম কোন ধরনের পদক্ষেপ নিলে ভেজাল বিরোধী দলের সম্মুখীন হতে হতো না? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিণত ভেড়ার মাংসকে মাটন (Mutton) বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান একটি উৎকৃষ্ট জাতের দুগ্ধ উৎপাদনকারী গাভি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুধ প্রদানকারী জাত হিসেবে এটি পরিচিত। এই জাতের একটি পূর্ণাঙ্গ গাভি দৈনিক প্রায় ২৫-৩০ লিটার বা তারও বেশি দুধ দিতে পারে এবং এর দুধ উৎপাদনকালও দীর্ঘ। অধিক পরিমাণ দুধ উৎপাদনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ডেইরি খামারকে লাভজনক করতে মূলত হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান গাভি পালন করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুধে পানি মেশানো বা ভেজাল নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত ছোট যন্ত্রটির নাম 'ল্যাকটোমিটার' (Lactometer)।

    ল্যাকটোমিটার হলো একটি বিশেষ ধরনের হাইড্রোমিটার, যার সাহায্যে দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব পরিমাপ করে দুধে পানির উপস্থিতি বা ভেজাল শনাক্ত করা যায়। এটি কাচের তৈরি একটি ফাঁপা নলবিশেষ, যার নিচের অংশটি ভারী থাকে যাতে এটি তরলে সোজাভাবে ভেসে থাকতে পারে। এর ওপরের সরু নলে ০ থেকে ৪০ পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে। খাঁটি দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব সাধারণত ১.০২৮ থেকে ১.০৩২ (ল্যাকটোমিটার রিডিং ২৮ থেকে ৩২)। দুধে পানি মেশালে এর আপেক্ষিক গুরুত্ব কমে যায় এবং ল্যাকটোমিটারটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গভীরে ডুবে যায়। ফলে ল্যাকটোমিটারের রিডিং কম প্রদর্শিত হয় এবং খুব সহজেই বোঝা যায় যে দুধে অতিরিক্ত পানি বা ভেজাল মেশানো হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সালমা বেগম যদি পরিচ্ছন্ন দুধ উৎপাদন, সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন, তবে তাকে ভেজাল বিরোধী অভিযানের সম্মুখীন হতে হতো না। নিচে করণীয় পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সচেতনতা ও সততা অবলম্বন: সালমা বেগমকে দুধ সংগ্রহ ও বিক্রির ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখতে হবে। বাড়তি মুনাফার লোভে দুধে সরাসরি পানি মেশানো পরিহার করতে হবে।

    ২. পরিচ্ছন্ন দুধ দোহন নিশ্চিতকরণ: দুধ সংগ্রহের সময় গাভির ওলান, বাঁট এবং গাভির শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার ও শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে, যাতে দুধে কোনো প্রকার ধূলিকণা বা পশুর লোম না পড়ে।

    ৩. পাত্রের পরিচ্ছন্নতা ও ছাঁকন: দুধ সংগ্রহের পাত্রগুলো অবশ্যই পরিষ্কার-জীবাণুমুক্ত হতে হবে। দুধ সংগ্রহ করে পরিষ্কার মিহি কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে পাত্রে ভরলে পশুর লোম ও ময়লা সহজেই আলাদা করা যেত।

    ৪. সংগৃহীত দুধের বিশুদ্ধতা যাচাই: বিভিন্ন বাড়ি থেকে দুধ সংগ্রহের সময় সালমা বেগম নিজেই ল্যাকটোমিটার ব্যবহার করে দুধের ঘনত্ব ও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে নিতে পারতেন। ফলে কোনো বাড়ি থেকে পানি মেশানো দুধ সরবরাহ করা হলে তা আগেই শনাক্ত হতো।

    সুতরাং, পরিচ্ছন্ন দুধ সংগ্রহ, সঠিক ছাঁকন প্রক্রিয়া এবং সততার সাথে ভেজালমুক্ত দুধ বাজারজাতকরণের পদক্ষেপ নিলে সালমা বেগমকে ভেজাল বিরোধী দলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হতো না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন