বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
স্বপ্নচূড়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মি. রহমান রাশভারি মানুষ। কর্মচারীরা আনুগত্যের ভাব প্রকাশে তাঁর সব কথাতেই হ্যাঁ স্যার, জি স্যার করেন। কেবল মতিন সাহেব তা করেন না। যেটি ঠিক সেখানে হ্যাঁ, যেটি ঠিক নয় সেখানে না বলেন। সহকমিরা মতিন সাহেবকে গোঁয়ার ও বেয়াদব ভাবেন। চেয়ারম্যান সাহেবও মাঝে মধ্যে মতিন সাহেবের গোঁয়ারতুমিতে বিরক্ত হন। হঠাৎ কোষাধ্যক্ষের মৃত্যুতে পদটি শূন্য হলে লোভনীয় এ পদে পদায়ন পেতে সহকর্মীরা চেয়ারম্যানকে তোয়াজ করতে থাকে। অবশেষে চেয়ারম্যান যেদিন উক্ত পদের নিয়োগপত্র ইস্যু করেন তা দেখে সবার চোখ ছানাবড়া। কারণ সেই পদের নিয়োগপত্র পান মতিন সাহেব।
- ক)(1)
কাজী নজরুল ইসলাম কত বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন?
- খ)(2)
মানুষ-ধর্মকে সবচেয়ে বড় ধর্ম বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মতিন সাহেবের আমিত্ব তাঁকে উক্ত পদের সম্মানে ভূষিত করে'- উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে আমিত্বের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাজী নজরুল ইসলাম ৪৩ বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষ-ধর্মকে সবচেয়ে বড় ধর্ম বলা হয় কারণ সব ধর্মের মূল ভিত্তিই হলো মানবতার কল্যাণ ও মানুষের প্রতি প্রেম।
কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধ অনুযায়ী, বাহ্যিক ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা ও জাতিভেদের চেয়ে মানুষের আত্মিক মর্যাদা এবং ঐক্য অনেক বড়। এক ধর্মের মানুষ যেন অন্য ধর্মকে ঘৃণা না করে, বরং মানুষ হিসেবে একে অপরকে ভালোবাসে—এ মানবিক সম্প্রীতিই হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম। মানুষ-ধর্ম সব ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ভেদাভেদ দূর করে মানুষকে সত্যের পথে পরিচালিত করে বলেই এটি সবচেয়ে বড় ধর্ম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের নিজের সত্যে অটল থাকা এবং তথাকথিত বিনয় বা তোষামোদকে ত্যাগ করে আত্মমর্যাদাবোধ টিকিয়ে রাখার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নজরুল স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, সত্যের প্রকাশে কোনো দ্বিধা বা কপটতা থাকতে নেই। যারা স্পষ্ট কথা বলে এবং ভণ্ডামিকে অস্বীকার করে, সমাজ তাদের অনেক সময় দাম্ভিক বা গোঁয়ার বলে ভুল বোঝে। কিন্তু এই স্পষ্টবাদিতা ও সত্যনিষ্ঠাই মানুষের আত্মবিশ্বাসকে জাগ্রত রাখে।
উদ্দীপকের মতিন সাহেবও চেয়ারম্যানের অযৌক্তিক কথায় অন্ধের মতো 'হ্যাঁ' বলেন না; বরং যেটা ঠিক সেখানে 'হ্যাঁ' এবং যেটা অন্যায় সেখানে দৃঢ়ভাবে 'না' বলেন। তাঁর এই স্পষ্টভাষিতাকে সহকর্মীরা গোঁয়ার্তুমি মনে করলেও তিনি নিজের সততা ও সত্যনিষ্ঠা থেকে বিচ্যুত হননি। মতিন সাহেবের এই দৃঢ় অবস্থান 'আমার পথ' প্রবন্ধের স্পষ্টবাদিতা ও সত্যে অটল থাকার দিকটিকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মতিন সাহেবের আমিত্ব তাঁকে উক্ত পদের সম্মানে ভূষিত করে'—উদ্দীপক ও 'আমার পথ' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
'আমার পথ' প্রবন্ধে নজরুল 'আমিত্ব' বলতে আত্মশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও নিজের ভেতরের পরম সত্যের উপলব্ধি বুঝিয়েছেন। এই আমিত্ব অহংকার নয়, বরং নিজের বিবেক ও সত্যের কাছে মাথা নত করে অন্য সকল অসত্য ও পরনির্ভরশীলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। প্রাবন্ধিকের মতে, নিজের সত্যকে জানলে মানুষ পরকে তোষামোদ বা পদলেহন করার দাসত্ব থেকে মুক্তি পায়।
উদ্দীপকে মতিন সাহেবের সহকর্মীরা তোষামোদি করে লোভনীয় পদের সুযোগ নিতে চেয়েছিল। কিন্তু মতিন সাহেব কোনো ভণ্ডামি বা কপটতার আশ্রয় নেননি। তিনি নিজের ব্যক্তিত্ব ও বিবেককে বজায় রেখেছিলেন। তাঁর সত্যের প্রতি এই অবিচল নিষ্ঠা বা 'আমিত্ব' প্রথমদিকে চেয়ারম্যানের কাছে গোঁয়ার্তুমি মনে হলেও শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান তাঁর সততা ও ব্যক্তিত্বের মর্যাদা দেন এবং কোষাধ্যক্ষের পদে মতিন সাহেবকেই নির্বাচিত করেন।
সুতরাং দেখা যায়, নজরুল বর্ণিত সত্য ও আত্মমর্যাদাবোধের রূপই মতিন সাহেবের চারিত্রে মূর্ত হয়ে উঠেছিল, যা তাঁকে অন্য সবার তোষামোদ থেকে আলাদা করে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই বলা যায়, তাঁর আমিত্বই তাঁকে উক্ত সম্মানে ভূষিত করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও